আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
140 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (46 points)
closed by
আসসালামু আলাইকুম উস্তায। একজন দ্বীনদার ভাই,যিনি মনে করেন স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলা জায়েজ। স্ত্রীর মনে রক্ষার্থে সকল ক্ষেত্রেই মিথ্যাই জায়েজ। যেমন : ওনি দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান, কিন্তু এটা স্ত্রীকে জানাতে চান না। তাই তিনি মিথ্যের আশ্রয় নেন। অথবা সংসারের কোনো কাজে ওনার খরচ হয়েছে ১০০ টাকা ওনি সাথে আরোও কিছু জিনিস কিনলেন। স্ত্রী যদি জিজ্ঞেস করে মূল্য কতো তিনি যা যা জিনিস কিনলেন সব মিলিয়ে খরচ বলেন। অর্থাৎ প্রায় প্রতিবারই ওনি বেশিরভাগ সময় মিথ্যার আশ্রয় নেন। অথচ হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে, মুমিন ব্যক্তি সব কাজ করতে পারেন কিন্তু মিথ্যে কখনোই বলতে পারেন না। আর যে ব্যক্তি সবসময় মিথ্যে বলে সে আল্লহ তায়ালার কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবে পরিচিতি পায়। আমার জানার ভুল থাকতে পারেন । সংশোধন করে দিলে মুনাসিব হয় ইন শা আল্লহ।
উক্ত ভাইয়ের এই চিন্তাভাবনাগুলো কি সঠিক? ওনি নাজায়েজ কাজকে জায়েজ মনে করছেন নিজে নিজেই এতে কি ওনার ঈমান বিধ্বংসী কোনো বিষয় আছে? ওনি কখনো কখনো বলে ফেলেন নামাজ পড়ে কি হবে? যদি বলা হয় কাফের হয়ে গিয়েছেন? তখন বলেন তার আর বাকি কি আছে? এগুলো কি ঈমান বিধ্বংসী কথা?
ওনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে ওনাকে কি নাসীহা দেয়া যায় উস্তায?
closed

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
selected by
 
Best answer

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তিন অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েয। যেমনঃ-হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রাঃ থেকে বর্ণিত,
ﻋَﻦْ ﺃَﺳْﻤَﺎﺀَ ﺑِﻨْﺖِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﺇِﻟَّﺎ ﻓِﻲ ﺛَﻠَﺎﺙٍ : ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻟِﻴُﺮْﺿِﻴَﻬَﺎ ، ﻭَﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺮْﺏِ ، ﻭَﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﻟِﻴُﺼْﻠِﺢَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ)
নবীজী সাঃ বলেনঃ তিনস্থান ব্যতীত অন্য কোথাও মিথ্যা বলা জায়েয নয়,
১/স্ত্রীর সাথে ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে।
২/যুদ্ধের ময়দানে কাফিরের সাথে যুদ্ধ বিষয়ে।
৩/দু-ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করতে।
তিরমিযি-১৯৩৯,আবু-দাউদ-৪৯২১।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/644

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
স্ত্রীর সাথে সর্বক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয হবে না। তবে স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে যেয়ে ভালবাসা ইত্যাদি প্রকাশের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার রুখসত রয়েছে। যেমন, কাপড় ইত্যাদির দাম বাড়িয়ে বলা। তাছাড়া ভেঙ্গে যাওয়া সংসারকে টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলা জায়েয হবে।  তবে স্ত্রীর হক বা স্ত্রীর ক্ষতিসাধন হয়, এমন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা জায়েয হবে না। দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রেও মিথ্যা বলার সুযোগ নেই। হ্যা, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমোদনকে শরীয়ত শর্তারোপ করেনি।

مأخَذُ الفَتوی
حدثنا سفيان قال: حدثني صفوان ابن سليم عن عطاء بن يسار قال: " جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله هل علي جناح أن أكذب أهلي؟ قال: لا، فلا يحب الله الكذب، قال: يا رسول الله استصلحها واستطيب نفسها، قال: لا جناح عليك "أخرجه الحميدي في " مسنده " (رقم 329)

جھوٹ بولنا یعنی خلاف واقعہ کوئی بات کہنا اصولی طور پر شریعت میں مذموم و ناجائز ہے، بعض مخصوص مواقع پر مصلحةً اس کی گنجائش دی گئی ہے جس میں سے ایک موقع شوہر کا بیوی کو خوش کرنے کے لئے جھوٹ بولنا ہے لیکن یہ عام نہیں ہے بلکہ یہ استثنائی صورت ہے اور مطلب یہ ہے کہ اگر میاں بیوی کا آپس میں ازدواجی رشتہ ختم یا خراب ہونے کا اندیشہ ہو تو ازدواجی تعلق کو بحال رکھنے کے لئے، بیوی سے اظہار تعلق و محبت کے طور پر جھوٹ بولنے کی گنجائش ہے۔ اس کا یہ مطلب نہیں کہ فرائض کی عدم ادائیگی پر یا ناحق کسی چیز کی وصولیابی پر جھوٹ بولے یا دھوکہ دے۔ اس سے بچنا چاہئے، بیوی کو بھی عام حالات میں کذب سے احتراز چاہئے، اور مخصوص حالت میں مذکورہ قید کے ساتھ گنجائش ہے۔ لا یحل الکذب إلاّ في ثلاث: کذب الرجل لیرضیہا والکذب فی الحرب والکذب لیصلح بین الناس ۔ (ترمذی)واللہ تعالیٰ اعلم
جواب نمبر: 179852
دارالافتاء،
دارالعلوم دیوبند


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...