আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
উস্তাদ, বর্তমানে অনেক বোনেরা হারবাল/প্রাকৃতিক রূপচর্চার সামগ্রী দ্বারা রূপচর্চা করেন। অনেক দ্বীনি বোনেরা এগুলো সেলও করেন। আমার জানামতে এগুলো হালাল যেগুলো প্রাকৃতিক উপাদান যেমন : মধু, বেসন, চন্দন, বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি। আমি জানি স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করা হালাল এবং ক্ষেত্রবিশেষে অত্যাবশ্যক। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বেশিরভাগ সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমগণ একবেলা খাবার খেলে অনেক বেলা না খেয়ে থাকতেন। খাওয়ার মতোনও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত না। ওই সময় উম্মাহাতুল মু'মিনীনগণ বা অন্যান্য  মহিলা সাহাবীগণ (রাদিআল্লাহু আনহুন্না) রূপচর্চা করতেন আদৌও এমন কোনো কিছু আমার জানা নেই। উনাদের সাজসজ্জা ছিল কেমন সেই ব্যাপারটাও জানা নেই।  আমাদের তো উনাদের অনুসরণ করে চলতে হবে। নিদেনপক্ষে চেষ্টা তো করতে হবে উনাদের মতোন চলার ইন শা আল্লাহ।  মরুভূমিতে ধুলাবালি উড়ে তো স্বাভাবিক ত্বক, চুল নোংরা হতো। সেক্ষেত্রে উনারা তো আর ফেসওয়াশ, শ্যাম্পু এসব ব্যবহার করতেন না। পানি দিয়ে হয়তো পরিষ্কার করতেন।
আমার প্রশ্ন হলো:
১. একজন নারীর জন্য সাজগোজের সীমারেখা কতখানি? সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুন্নাদের আলোকে? মানে জায়েজ-নাজায়েজ সীমা না শুধু সর্বোত্তম কোনটা?
২. যারা এসব জিনিস বিক্রি করেন হালাল জানি কিন্তু তাকওয়ার দাবি কি এ ব্যাপারে? যিনি এসব ব্যবসা করা ছাড়া সামর্থ্যবান আর যিনি সত্যিকার রুজির জন্য করেন ২ জনের ক্ষেত্রে? যেহেতু এসব ক্ষেত্রে সময়ের অপচয়, অনেক বোনেদের কিনতে না পারার একটা দুঃখ থাকে। এটা থেকে বদনজর হওয়ার তো সম্ভাবনা থাকে।
৩. কারো সামর্থ্য আছে এসব ব্যবহার করার কিন্তু যদি বিরত থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেহেতু আমাদের অগ্রজগণ এসব করেছেন এমনটা জানা নেই সেটা কি ঠিক আছে নাকি ভুল?
৪. কিছু সামগ্রী জরুরি মনে হয়। যেমন : ফেসওয়াশ, শ্যাম্পু, ক্রিম, লোশান, তেল। তেল ছাড়া বাকিগুলো  ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম করণীয় কি?

জাযাকুমুল্লাহু খয়রান ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

1 Answer

0 votes
ago by (696,450 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
*"স্বামীর জন্য সাজগোছ জায়েয হলেও বিউটি পার্লারে সাজা কখনো কোনো মুসলমানের জন্য কাম্য হতে পারেনা।"
তোহফায়ে খাওয়াতিন-৮৫৫;মুফতী আশেকে এলাহী বুলন্দশরী-মাকতাবু মা'রিফুল কোরআন করাচী কর্তৃক ১৪৩০মুতাবেক২০০৯সালে প্রকাশিত।

যদি শরীয়ত সম্মত বিউটি পার্লার হয় তাহলে শুধুমাত্র স্বামীকে খুশী করার জন্য বিউটি পার্লার থেকে বৈধ অস্থায়ী সাজগোছ যেমন ক্রিম ইত্যাদি দিয়ে সাজা বৈধ আছে।
এক্ষেত্রে ৩টি জিনিষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।
১/বিউটি পার্লার শরীয়ত সম্মত হতে হবে।
২/বৈধ সাজগোছ করতে হবে।
৩/শুধুমাত্র স্বামীকে সন্তুষ্টি করার জন্য হতে হবে।

ক্রিম,লোশন ইত্যাদি হালাল কসমেটিক সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/466

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) একজন মু'মিন নারীর জন্য স্বামীর ভালবাসা অর্জন ও বৃদ্ধির জন্য সাজগোছ করা মুস্তাহাব। তবে অবশ্যই সামর্থ্যর চেয়ে অধিক অপচয় করা যাবে না।

(২) এগুলো বিক্রি করা মুবাহ।

(৩) কারো সামর্থ্য আছে এসব ব্যবহার করার কিন্তু যদি বিরত থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেহেতু আমাদের অগ্রজগণ এসব করেছেন এমনটা জানা নেই, তাহলে সেটা অবশ্যই উত্তম হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৪)  ফেসওয়াশ, শ্যাম্পু, ক্রিম, লোশান, তেল। এগুলোর মধ্যে তেল ছাড়া বাকিগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম হল, ব্যবহার না করা। তবে স্বামীকে দেখানোর জন্য সর্বোত্তম হল, সামর্থ্য থাকলে ব্যবহার করা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ago by
আফওয়ান উস্তাদ আবার বিরক্ত করার জন্য। 

১. সাজগোছ করার সুরতটা কেমন? সাজা মুস্তাহাব সেটা বুঝতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু কতখানি? মানে আমি নবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগের মহিলারা কতখানি সাজগোছ করতেন সেটা জানতে চাচ্ছিলাম। উনারা বেশিরভাগই ছিলেন অনেক আর্থিকভাবে দরিদ্র ক্ষেত্রবিশেষে নিঃস্ব। উনারা এসবে ফোকাস করতেন যেখানে মাসের পর মাস চুলাই জ্বলতো না উনাদের! এই ব্যাপারে তাই বিস্তারিত জানতে চাচ্ছিলাম। কোনো কিতাব থাকলে সেটার নাম জানালেও হবে ইন শা আল্লাহ। 

২. এগুলো বিক্রি করা মুস্তাহাব মানে পছন্দনীয় কাজ আল্লাহ তা'আলার? এটা মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে কি কি কারণ হতে পারে উস্তাদ একটু জানালে মুনাসিব হয় ইন শা আল্লাহ। 

জাযাকুমুল্লাহু খয়রন ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...