আপনাদের উদ্যোগ অত্যন্ত সুন্দর, হৃদয়স্পর্শী এবং উম্মাহর জন্য আশাব্যঞ্জক,আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের নিয়ত ও প্রচেষ্টা কবুল করুন এবং কাজটিকে বরকতময় করে তুলুন।
নিচে কিছু দিকনির্দেশনা তুলে ধরছি, ইনশাআল্লাহ —
১. নিয়ত ও উদ্দেশ্য
আপনাদের মূল উদ্দেশ্য —
বোনদের দ্বীনের দিকে ফেরানো,
দ্বীনের ফরজ জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করা,
দ্বীনের সাথে দুনিয়ার দক্ষতা অর্জন করা,
এবং একদিন একজন সচেতন, দ্বীনদার, দক্ষ মা তৈরি করা।
শরীয়াহ দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় নিয়ত।
রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إنما الأعمال بالنيات"
“কর্মসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভর করে।” (বুখারী ও মুসলিম)
আপনাদের নিয়ত যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি, দ্বীন প্রচার এবং নারীদের হালাল উপায়ে আত্মনির্ভরতা অর্জন হয়, তাহলে এই কাজটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।
নারীদের জন্য জ্ঞান অর্জন করা এবং অন্য নারীদের শিক্ষা দেওয়া — এটি শরীয়াহসম্মত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল।
রসুল ﷺ বলেছেন:
“জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (ইবন মাজাহ, হাদিস ২২৪)
★তবে কিছু আদব ও সীমা মানা জরুরি:
শুধুমাত্র মহিলাদের মাঝে শিক্ষা ও দাওয়াতি কার্যক্রম চালানো।
কোন প্রকাশনা, ভিডিও, ছবি বা অনলাইন কার্যক্রমে ফিতনা বা মিক্সিং (পুরুষ-মহিলা মিশ্রণ) যেন না হয়।
*অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গঠন
এটি আজকের যুগে খুব কার্যকর একটি উদ্যোগ। সঠিক কাঠামোয় পরিচালনা করলে এটি একটি “ডিজিটাল দাওয়াতি মাদরাসা” হতে পারে, ইনশাআল্লাহ।
শরীয়াহ অনুযায়ী করণীয়:
প্ল্যাটফর্মটি শুধুমাত্র বোনদের জন্য নির্দিষ্ট করা।
কনটেন্টে পর্দা, শালীনতা ও গোপনীয়তা রক্ষা করা।
যারা শিক্ষা দেবেন, তাদের আকীদা ও মানহাজ স্পষ্ট ও সহীহ হতে হবে।
আর্থিক দিক থেকে আয় যেন হয় হালাল উৎস থেকে (যেমন কোর্স ফি, হালাল বিজ্ঞাপন, বা সেবা বিক্রি)।
দাওয়াতের বার্তা যেন সবসময় কিতাব ও সহীহ সুন্নাহ ভিত্তিক হয়, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিকতা না আসে।
★আর্থিক স্বনির্ভরতা
আপনাদের উদ্দেশ্য যেহেতু বোনদের পরিবারের চাপ হালকা করা ও হালাল পথে আয়ের সুযোগ দেওয়া —
এটি শরীয়াহসম্মত এবং সুন্নাহসঙ্গত।
রসুল ﷺ- এর যুগে হযরত খাদিজা (রাঃ), উম্মে সালামা (রাঃ) প্রমুখ নারীরা ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন।
তবে শর্ত হলো — ফিতনা ও হারাম থেকে নিরাপদ থাকা।
দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য: দক্ষ “উম্মাহাতুন” তৈরি করা।
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত চিন্তা।
একজন দ্বীনদার, সচেতন মা পুরো প্রজন্মকে বদলে দিতে পারে।
এজন্য দ্বীনি শিক্ষা, পারিবারিক শিক্ষা, সন্তান প্রতিপালনের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে কোর্স রাখা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
শুরুতে ছোট পরিসরে দাওয়াতী কাজ চালান (২–৩ হলে)।
“দাওয়াতি ও দক্ষতা উন্নয়ন” — এই দুই অংশ আলাদা করে সাজান।
স্থানীয় আলেমা বা মহিলা দ্বীনশিক্ষকের শরীয়াহ তত্ত্বাবধান রাখুন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “নাম গোপন রাখা বা নিকনেম ব্যবহার” করতে উৎসাহিত করুন, যেন লজ্জাশীলতা বজায় থাকে।
নিয়মিতভাবে “নিয়ত নবায়ন ও তাজকিয়া” বিষয়ক সেশন রাখুন।
আপনাদের এই উদ্যোগ একদিকে দ্বীনের দাওয়াত, অন্যদিকে নারীদের হালাল উপায়ে আত্মনির্ভরতা —
এ দুটি মিলে এটি একটি খিদমাতে দীন ও সমাজ সংস্কার প্রকল্প, যা অত্যন্ত বরকতময় হতে পারে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"ومن أحسن قولاً ممن دعا إلى الله وعمل صالحاً وقال إنني من المسلمين"
“আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, সৎকর্ম করে এবং বলে ‘আমি মুসলিম’ — এর চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে?” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩৩)