আসসালামু আলাইকুম।
প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা (আনুমানিক ১৯৯৫ সালের দিকে)। হাফিজ এবং বাসির ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
হাফিজ আসাদ নামের এক লোকের কাছে একখণ্ড জমি বিক্রি করেন মাত্র ১০ হাজার টাকায়। টাকা পাওয়ার পর হাফিজ নিজে ৪ হাজার টাকা রেখে দেন এবং বাকি ৬ হাজার টাকা বাসিরকে ধার হিসেবে দেন কারণ তারা দুজনেই খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলেন।
৩-৪ বছর পর, আনুমানিক ১৯৯৮-৯৯ সালে, হাফিজ বাসিরের কাছ থেকে ওই ৬ হাজার টাকা ফেরত চান। বাসির গরু বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা যোগাড় করেন এবং হাফিজের হাতে তুলে দিতে চান। কিন্তু হাফিজ টাকা নিতে অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, "এই ৬ হাজার টাকা আসাদকে দিয়ে দাও"
অর্থাৎ, হাফিজ আসাদের কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন বটে কিন্তু জমির মালিকানা লিখে দিতে তথা রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে চাচ্ছিলেন না। এটাই ছিল হাফিজের ইঙ্গিত।
এতে বাসির গভীর দোটানায় পড়ে যান কারণ টাকা ফেরত দেওয়ার জায়গা নেই, আবার ধারের বোঝাও রয়ে গেছে।
একসময় বাসির মারা যান।
তার মৃত্যুর পর একদিন হাফিজ বাসিরের পরিবারের কাছে আসেন এবং বলেন, "তোমরা চেষ্টা করে দেখো আসাদকে এই টাকা দিয়ে দিতে পার কিনা।"
এ কথার মাধ্যমে হাফিজ পুনরায় আসাদকে জমির মালিকানা লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ইঙ্গিত দেন।
বাসিরের পরিবার প্রতিবাদ করে বলে, "এটা সম্ভব নয়। বাসির আপনার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন, তাই আপনাকেই ফেরত নিতে হবে।" এভাবে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।
একসময় হাফিজও মারা যান।
বর্তমান অবস্থা (২০২৫ সালে): বাসির এবং হাফিজ কেউই জীবিত নেই।
বাসিরের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও হাফিজ তখন টাকা ফেরত নেননি।
জমির রেজিস্ট্রেশন আসাদের নামে হয়নি, কিন্তু জমিটি বর্তমানে আসাদের দখলেই আছে।
বাসিরের পরিবার এখন চায় বাসিরকে এই ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে।
তারা ভাবছে বর্তমানে হাফিজের ছেলেদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলাও ঠিক হবে না, কারণ শুরু থেকে পুরো ঘটনা না জানার কারণে তার ছেলেরা বড় ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে।
এ মুহূর্তে বাসিরের পরিবারের করণীয় কী? সকল ঝামেলা এড়িয়ে তারা কীভাবে বাসিরকে ঋণমুক্ত করবে?