আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
17 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (21 points)
আসসালামু আলাইকুম।
প্রায় ত্রিশ বছর আগের কথা (আনুমানিক ১৯৯৫ সালের দিকে)। হাফিজ এবং বাসির ছিলেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

হাফিজ আসাদ নামের এক লোকের কাছে একখণ্ড জমি বিক্রি করেন মাত্র ১০ হাজার টাকায়। টাকা পাওয়ার পর হাফিজ নিজে ৪ হাজার টাকা রেখে দেন এবং বাকি ৬ হাজার টাকা বাসিরকে ধার হিসেবে দেন কারণ তারা দুজনেই খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিলেন।

৩-৪ বছর পর, আনুমানিক ১৯৯৮-৯৯ সালে, হাফিজ বাসিরের কাছ থেকে ওই ৬ হাজার টাকা ফেরত চান। বাসির গরু বিক্রি করে ৬ হাজার টাকা যোগাড় করেন এবং হাফিজের হাতে তুলে দিতে চান। কিন্তু হাফিজ টাকা নিতে অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, "এই ৬ হাজার টাকা আসাদকে দিয়ে দাও"

অর্থাৎ, হাফিজ আসাদের কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন বটে কিন্তু জমির মালিকানা লিখে দিতে তথা রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে চাচ্ছিলেন না। এটাই ছিল হাফিজের ইঙ্গিত।

এতে বাসির গভীর দোটানায় পড়ে যান কারণ টাকা ফেরত দেওয়ার জায়গা নেই, আবার ধারের বোঝাও রয়ে গেছে।

একসময় বাসির মারা যান।

তার মৃত্যুর পর একদিন হাফিজ বাসিরের পরিবারের কাছে আসেন এবং বলেন, "তোমরা চেষ্টা করে দেখো আসাদকে এই টাকা দিয়ে দিতে পার কিনা।"

এ কথার মাধ্যমে হাফিজ পুনরায় আসাদকে জমির মালিকানা লিখে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ইঙ্গিত দেন।

বাসিরের পরিবার প্রতিবাদ করে বলে, "এটা সম্ভব নয়। বাসির আপনার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন, তাই আপনাকেই ফেরত নিতে হবে।" এভাবে বিষয়টি অমীমাংসিত থেকে যায়।

একসময় হাফিজও মারা যান।

বর্তমান অবস্থা (২০২৫ সালে): বাসির এবং হাফিজ কেউই জীবিত নেই।

বাসিরের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও হাফিজ তখন টাকা ফেরত নেননি।

জমির রেজিস্ট্রেশন আসাদের নামে হয়নি, কিন্তু জমিটি বর্তমানে আসাদের দখলেই আছে।

বাসিরের পরিবার এখন চায় বাসিরকে এই ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে।

তারা ভাবছে বর্তমানে হাফিজের ছেলেদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলাও ঠিক হবে না, কারণ শুরু থেকে পুরো ঘটনা না জানার কারণে তার ছেলেরা বড় ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে।

এ মুহূর্তে বাসিরের পরিবারের করণীয় কী? সকল ঝামেলা এড়িয়ে তারা কীভাবে বাসিরকে ঋণমুক্ত করবে?

1 Answer

0 votes
by (701,760 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন, 

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

 تتعلق بتركة الميت أربعة أشياء: تجهيز الميت، وقضاء ديونه، وتنفيذ وصاياه، وتقسيم ما بقي بين ورثته. ثم تقضى ديونه من جميع ما بقي من ماله، ثم تنفذ وصاياه من ثلث ما بقي بعد الدين، ثم يقسم الباقي بين ورثته.
(المقدمة، الحقوق الأربعة المتعلقة بتركة الميت، ص:14:البشرى).

মৃত ব্যক্তির তরিকায় (ছাড়াপত্র বা সম্পত্তি) চারটি বিষয় সম্পর্কিত থাকে:
(১) মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের প্রস্তুতি,
(২) তার ঋণ পরিশোধ,
(৩) তার উইল (وصية) বাস্তবায়ন,
এবং (৪) অবশিষ্ট সম্পদ তার ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন।

(অর্থাৎ প্রথমে কাফন দাফন, এরপর (দাফন-কাফনের খরচ বাদ দিয়ে) তার ঋণ সমস্ত সম্পদ থেকে পরিশোধ করা হবে,
তারপর ঋণ পরিশোধের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ অংশ থেকে তার উইল কার্যকর করা হবে,
তারপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা তার ওয়ারিসদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হবে।)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নের উল্লেখিত ছুরতে বাসিরের পরিবারের করণীয় হলো তারা হাফিজের ওয়ারিশদের উক্ত টাকা ফিরিয়ে দিবে।

বলবে যে এটি হাফিজের পাওনা টাকা ছিলো।

এতে যদি সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে তার ওয়ারিশদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে/বিকাশ নগদ ইত্যাদিতে শরীয়তের আইন অনুসারে যে যত পাবে, সে অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...