আমি জেনারেল স্টুডেন্ট ছিলাম এবং একজন মুসলিম নারী হিসেবে ইসলামের যে পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা আমার জন্য অপরিহার্য ছিল, তা অর্জনের তাওফিক আগে পাইনি। ওই সময় আমার এক প্রতিবেশী বোন আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল, যার সাথে আমার বন্ধুত্ব খুব গভীর এবং বিশ্বস্ত ছিল। যখন আমাকে বাসা থেকে ফোন কিনে দেয়া হয় তখন সে আমার ফোন ব্যবহার করে তার কিছু ক্লাসমেটের সঙ্গে কন্টাক্ট করতো, পড়াশোনা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যের জন্য, পরিবারের অনুমতি তেই। তারি এক ক্লাসমেট তাকে পছন্দ করতো এবং আমাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু, আলহামদুলিল্লাহ আমি তখন জানতাম বিয়ের আগে প্রেম হারাম তাই আমি সরাসরি না করে দেই এবং হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেই। আমি আমার সেই ছোট বোনকেও এই বিষয়ে খুব করে নিষেধ করে দেই। তারা যেহেতু মাদ্রাসার স্টুডেন্ট ছিল এবং আমার থেকে অনেক অনেক বেশি জ্ঞানী ছিল, তাই হারাম হালালের বিধান আমার থেকে তাদের বিস্তর জানাটা খুব স্বাভাবিক। একদিন হঠাৎ ওই ছেলে আমাকে জানায় তারা বিয়ে করে নিয়েছে! আর সাক্ষী ছিল তাদের ক্লাসের বেশ কয়েকজন সহপাঠী। আমি তখন তাঁদের কে বলি পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে তো জায়েজ নাই। তখন আমাকে শায়েখ আহমাদুল্লাহ এর একটা ভিডিও লিংক শেয়ার করে, যেখানে সম্ভাব্য এটাই বলা হয়েছিল যে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে ছেলের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে হয়। তাই আমিও বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা বোনকে ফোনও কিনে দেয়। তারপর থেকে আমার বোনটা আমার সামনে ওই ছেলের সাথে কথা বলতো ছবি আদান-প্রদান করতো। আমি না করতে পারতাম না। কারন, আমি ভাবতাম যদি তারা হাসবেন্ড ওয়াইফ হয় তাহলে তাদের কে কথা বলতে নিষেধ করা আমার জন্য তো গুনাহের কাজ। একদিন ছেলেটা ওরনা ছাড়া ছবি চেয়েছিল, আমি এইটা দেখে নিষেধ করায় আমাকে সে বলছিল হাজবেন্ড এর কথা শোনা ফরজ! তারপর আর আমার কিইবা বলার থাকতে পারে..
একটা সময় মেয়েটা ধরা পড়ে যায় তার মায়ের কাছে, ফোন নিয়ে নেয়। তারপর আবার ছেলে ফোন কিনে দেয় এভাবে অনেক কিছুর পর তার মা ব্যাপারটা মেনে নেয় কিন্তু তিনি জানতেন না ইতিমধ্যেই তার মেয়ে বিয়ে করে ফেলেছে!
আমার আর এক বোন আমার ফোন দেখতে গিয়ে তাদের কিছু কথা বার্তা দেখে ফেলে এবং বুঝে জায় যে তারা একটা হারাম সম্পর্কে আছে। তখন আমার প্রতিই খারাপ ধারনা আসে যে আমি হারাম সম্পর্কে সাহায্য করছি। এমতাবস্থায় আমি বাধ্য হয়ে বলে দেই তারা বিয়ে করেছে। যদিও বা বোনটা আমাকে কথা দেয় এই কথা কাউকে বলবে না। এমনিভাবে একদিন আমি আমার দাদিকেও কথাটা বলে ফেলেছিলাম। আমি ওয়াদা করেছিলেন কাউকে বলবো না কিন্তু আমি তা রাখতে পারা নি।
কিভাবে কিভাবে জানি সবাই সবকিছু জেনে যায়। তখন আমার সেই ছোট বোনের মা আমাকে এসে শাসিয়ে যায়। এগুলো নিয়ে আমার দাদি, মায়ের সাথে তার মায়ের ঝগড়া হয়। হাতাহাতিও হয়ে যায়। আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়ি যে এখন যদি সত্যিটা আমি প্রমাণ সহ পাবলিক না করি তাহালে আমার পরিবারকে সবার সামনে লাঞ্চিত হতে হয়। তাই আমি এবারও বাধ্য হয়ে সবটা পাবলিক করি।
তারপর এই ঘটনার বছর দুয়েক পর বোনটার অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়।
আমি জানিনা তাদের বিয়েটা প্রকৃতপক্ষেই বিয়ে হয়েছে কিনা। যদি বিয়ে হয় তাহলে তারপর তাদের তালাক , ইদ্দত হয়েছে কিনা! তার বর্তমান বিয়েটা জায়েজ কিনা।
ওই সময় যদি বিষয়টা পাবলিক না হতো তাহলে যা হয়েছে তার থেকে ভয়ংকর কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশিই ছিল। তারা একসাথে ঘুরতে যেত, রেস্টুরেন্টে যেত, একে অপরের হাত ধরতো, ছবি আদান-প্রদান করতো। হয়তো বিষয়টা এর থেকেও গভীরে যেত অথবা যেতেও পারে..
১) এখন এই যে এই বিষয়গুলোতে আমি যুক্ত আছি ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এর জন্য আমি কি গোনাহগার হবো?
২) আমি যে আমার এক বোন এবং দাদিকে বলেছিলাম পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে পড়ে এর জন্য কি আমি ওয়াদা খেলাপকারী হবো? আমি কি মুনাফিক হয়ে গিয়েছি?
৩) পরবর্তি সময়ে আমার পরিবারকে লাঞ্ছিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে সবটা পাবলিকলি(অফলাইনেই) আনতে হয়েছে এর জন্য আমি কি গোনাহগার হয়েছি?
৪) মেয়ের মা এখন আমার নামে অনেক অপবাদ দেয়, অথচ আল্লাহ সুব-হানাহু ওয়া তা'আলা জানেন আমি তাদের উক্ত অপবাদ গুলো থেকে কতটা মুক্ত। এমতাবস্থায় আমার কি সবর করা উচিত?
৫) এখন আর ওই বোনের সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ হয়না আর হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নাই। যদি তার কাছে মাফ চাওয়া উচিত হয় আমার তাহলে আমি কি করতে পারি?