আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
আমি জেনারেল স্টুডেন্ট ছিলাম এবং একজন মুসলিম নারী হিসেবে ইসলামের যে পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করা আমার জন্য অপরিহার্য ছিল, তা অর্জনের তাওফিক আগে পাইনি। ওই সময় আমার এক প্রতিবেশী বোন আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রী ছিল, যার সাথে আমার বন্ধুত্ব খুব গভীর এবং বিশ্বস্ত ছিল। যখন আমাকে বাসা থেকে ফোন কিনে দেয়া হয় তখন সে আমার ফোন ব্যবহার করে তার কিছু ক্লাসমেটের সঙ্গে কন্টাক্ট করতো, পড়াশোনা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যের জন্য, পরিবারের অনুমতি তেই। তারি এক ক্লাসমেট তাকে পছন্দ করতো এবং আমাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু, আলহামদুলিল্লাহ আমি তখন জানতাম বিয়ের আগে প্রেম হারাম তাই আমি সরাসরি না করে দেই এবং হারাম কাজ থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেই। আমি আমার সেই ছোট বোনকেও এই বিষয়ে খুব করে নিষেধ করে দেই। তারা যেহেতু মাদ্রাসার স্টুডেন্ট ছিল এবং আমার থেকে অনেক অনেক বেশি জ্ঞানী ছিল, তাই হারাম হালালের বিধান আমার থেকে তাদের বিস্তর জানাটা খুব স্বাভাবিক। একদিন হঠাৎ ওই ছেলে আমাকে জানায় তারা বিয়ে করে নিয়েছে! আর সাক্ষী ছিল তাদের ক্লাসের বেশ কয়েকজন সহপাঠী। আমি তখন তাঁদের কে বলি পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে তো জায়েজ নাই। তখন আমাকে শায়েখ আহমাদুল্লাহ এর একটা ভিডিও লিংক শেয়ার করে, যেখানে সম্ভাব্য এটাই বলা হয়েছিল যে প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে ছেলের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে হয়। তাই আমিও বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা বোনকে ফোনও কিনে দেয়। তারপর থেকে আমার বোনটা আমার সামনে ওই ছেলের সাথে কথা বলতো ছবি আদান-প্রদান করতো। আমি না করতে পারতাম না। কারন, আমি ভাবতাম যদি তারা হাসবেন্ড ওয়াইফ হয় তাহলে তাদের কে কথা বলতে নিষেধ করা আমার জন্য তো গুনাহের কাজ। একদিন ছেলেটা ওরনা ছাড়া ছবি চেয়েছিল, আমি এইটা দেখে নিষেধ করায় আমাকে সে বলছিল হাজবেন্ড এর কথা শোনা ফরজ! তারপর আর আমার কিইবা বলার থাকতে পারে..

একটা সময় মেয়েটা ধরা পড়ে যায় তার মায়ের কাছে,  ফোন নিয়ে নেয়। তারপর আবার ছেলে ফোন কিনে দেয় এভাবে অনেক কিছুর পর তার মা ব্যাপারটা মেনে নেয় কিন্তু তিনি জানতেন না ইতিমধ্যেই তার মেয়ে বিয়ে করে ফেলেছে!
আমার আর এক বোন আমার ফোন দেখতে গিয়ে তাদের কিছু কথা বার্তা দেখে ফেলে এবং বুঝে জায় যে তারা একটা হারাম সম্পর্কে আছে। তখন আমার প্রতিই খারাপ ধারনা আসে যে আমি হারাম সম্পর্কে সাহায্য করছি। এমতাবস্থায় আমি বাধ্য হয়ে বলে দেই তারা বিয়ে করেছে। যদিও বা বোনটা আমাকে কথা দেয় এই কথা কাউকে বলবে না। এমনিভাবে একদিন আমি আমার দাদিকেও কথাটা বলে ফেলেছিলাম। আমি ওয়াদা করেছিলেন কাউকে বলবো না কিন্তু আমি তা রাখতে পারা নি।
কিভাবে কিভাবে জানি সবাই সবকিছু জেনে যায়। তখন আমার সেই ছোট বোনের মা আমাকে এসে শাসিয়ে যায়। এগুলো নিয়ে আমার দাদি, মায়ের সাথে তার মায়ের ঝগড়া হয়। হাতাহাতিও হয়ে যায়। আমি এমন পরিস্থিতিতে পড়ি যে এখন যদি সত্যিটা আমি প্রমাণ সহ পাবলিক না করি তাহালে আমার পরিবারকে সবার সামনে লাঞ্চিত হতে হয়। তাই আমি এবারও বাধ্য হয়ে সবটা পাবলিক করি।
তারপর এই ঘটনার বছর দুয়েক পর বোনটার অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়।

আমি জানিনা তাদের বিয়েটা প্রকৃতপক্ষেই বিয়ে হয়েছে কিনা। যদি বিয়ে হয় তাহলে তারপর তাদের তালাক , ইদ্দত হয়েছে কিনা! তার বর্তমান বিয়েটা জায়েজ কিনা।

ওই সময় যদি বিষয়টা পাবলিক না হতো তাহলে যা হয়েছে তার থেকে ভয়ংকর কিছু হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশিই ছিল। তারা একসাথে ঘুরতে যেত, রেস্টুরেন্টে যেত, একে অপরের হাত ধরতো, ছবি আদান-প্রদান করতো। হয়তো বিষয়টা এর থেকেও গভীরে যেত অথবা যেতেও পারে..

১) এখন এই যে এই বিষয়গুলোতে আমি যুক্ত আছি ইচ্ছায় অনিচ্ছায় এর জন্য আমি কি গোনাহগার হবো?

২) আমি যে আমার এক বোন এবং দাদিকে বলেছিলাম পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে পড়ে এর জন্য কি আমি ওয়াদা খেলাপকারী হবো? আমি কি মুনাফিক হয়ে গিয়েছি?
৩) পরবর্তি সময়ে আমার পরিবারকে লাঞ্ছিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আমাকে সবটা পাবলিকলি(অফলাইনেই) আনতে হয়েছে এর জন্য আমি কি গোনাহগার হয়েছি?

৪) মেয়ের মা এখন আমার নামে অনেক অপবাদ দেয়, অথচ আল্লাহ সুব-হানাহু ওয়া তা'আলা জানেন আমি তাদের উক্ত অপবাদ গুলো থেকে কতটা মুক্ত। এমতাবস্থায় আমার কি সবর করা উচিত?
৫) এখন আর ওই বোনের সাথে আমার দেখা সাক্ষাৎ হয়না আর হওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নাই। যদি তার কাছে মাফ চাওয়া উচিত হয় আমার তাহলে আমি কি করতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (755,850 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মাতাপিতাকে না জানিয়ে বালিগ ছেলে মেয়ের বিবাহ নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।উনেক উলামায়ে কেরাম অভিভাবকহীন বিয়েকে বাতিল বলে মনে করেন।হানাফি মাযহাব মতে কু'ফু হিসেবে ছেলেটি মেয়ের সমকক্ষ বা বেশী মর্যাদার অধীকারী হলেই কেবল বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে।নতুবা মেয়ের অভিভাবকের অনুমতির উপর বিয়ে মওকুফ থাকবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/408, কুফু সম্পর্কে জানতে https://www.ifatwa.info/780
চার মাযহাবের অবস্থান দলীল সহ বিস্তারিত জানুন-এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1525

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) অবৈধ প্রেম ভালবাসায় সহযোগিতা আপনার দ্বারা হয়েছে, এজন্য গোনাহ হবে। যেহেতু অনিচ্ছাকৃত হয়েছে, তাই আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন। আপনি ক্ষমা চেয়ে নিবেন।
(২)  পরিস্থিতির মারপ্যাঁচে পড়ে আপনি ওয়াদা রক্ষা করতে পারেন নাই এজন্য আপনি মুনাফিক হবেন না। 
(৩) পরবর্তি সময়ে পরিবারকে লাঞ্ছিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বিষয়টি পাবলিক করার কারণে গোনাহ হবে না।
(৪) জ্বী, বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী আপনার জন্য সবর করা উচিত।
(৫) তাকে খুশী করে নিবেন। সম্ভব না হলে তার নামে কিছু সদকাহ করে নিবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...