আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
36 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (43 points)
reshown by
১।রোমে কোরআন হাদিসের বই বা ইসলামিক যেকোনো সম্মানিত বিষয় যদি খাটের পায়ের দিকের পাশে কোনো রেক বা অন্য কিছুতে থাকে  পা থেকে উচু যায়গায়।  যেহেতু উচু যায়গায়  আছে ঐদিকে পা দিলে আদবের খেলাফ বা ইমানের সমস্যা হবে কি?

২।মসজিদে কেউ কোরআন তিলাওয়াত করে নিচে বসে আমি যদি চেয়ারে বসি আদবের খেলাফ হবে কি?

৩।একজন আলেম বলছিলেন যে যতটুকু মনে আছে  মুসাফির অবস্থায় নবী সাঃ ফজরের সুন্নাত পরছেন এইজন্য ফজরের সুন্নাত পরবো অন্যগুলো পরে নি আমরাও পরবো না একথা সঠিক কিনা

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে  

وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: إِنَّ اللهَ يَرْفَعُ بِهٰذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِه اٰخَرِينَ

উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা এ কিতাব কুরআনের মাধ্যমে কোন কোন জাতিকে উন্নতি দান করেন। আবার অন্যদেরকে করেন অবনত।
(মুসলিম ৮১৭, ইবনু মাজাহ ২১৮, আহমাদ ২৩২, দারিমী ৩৪০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫১২৫, শু‘আবূল ঈমান ২৪২৮, সহীহাহ্ ২২৩৯)
,
তাই কুরআন,কুরআনের যেকোনো আয়াত সম্বলিত কিতাব,লেখার সর্বোচ্চ সম্মান করা উচিত।
,  
আদবের সম্পর্ক উরফ তথা সমাজের সাথে।
যেটাকে সমাজ বেয়াদবি মনে করে,সেটা বেয়াদবি।
আর যেটাকে সমাজ আদবের মধ্যেই গননা করে,সেটা জায়েজ,আদবের মধ্যেই সেটি পড়া।
(কিতাবুন নাওয়াজেল ১৫/৬৫)
,

الأدب: ہو الطریقۃ الحسنۃ في المعاشرۃ وغیرہا۔ (بذل المجہود ۱۳؍۲۰۵ بیروت)
সারমর্মঃ সামাজিক ভাবে যেটাকে সুন্দর তরীকা বলা হয়,সেটিই আদব।

ولا تقعدوا علی مکان أرفع مما علیہ القرآن۔ (حیاۃ المسلمین ۵۴ إدارۃ إسلامیات لاہور بحوالہ: فتاویٰ محمودیہ ۳؍۵۲۹ ڈابھیل)
এমন জায়গায় তোমরা বসোনা,যেই জায়গা কুরআন থেকে উঁচুতে। 

کرہ مد رجلیہ في نوم أو غیرہ إلیہا أو إلیٰ مصحف۔ (شامي، کتاب الصلاۃ / مطلب في أحکام المسجد ۱؍۶۵۶ کراچی)
وقال ابن حجر المکي: والأولی أن لا یستدبرہ۔ (الفتاوی الحدیثیۃ مطلب في
حکم مد الرجل للمصحف أو کتب العلم ۳۰۷ دار إحیاء التراث العربي بیروت)
সারমর্মঃ কুরআনের দিকে পা দেওয়া মাকরুহ।  
আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এভাবে সেই দিকে  পা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি যদি আপনাদের সমাজে আদবের খেলাফ মনে না করা হয়,তাহলে  এটি মাকরুহ নয়।

অন্যথায় অর্থাৎ আপনাদের সমাজে যদি এটাকে আদবের খেলাফ মনে করে,তাহলে তাহা মাকরুহ হবে। 

(০২)
হ্যাঁ আদবের খেলাফ হবে।

এ জন্য অনেকটা নিরাপদ দূরত্ব অবলম্বন করবেন।
তাহলে আদবের খেলাফ হবেনা।

(০৩)
আপনি যেই হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন,তাহা হলোঃ-

হযরত আয়িশা (রাঃ) বলেন:

اَلنَّبِيُّ ﷺ لَمْ يَكُنْ يَدَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَقِيَامَ اللَّيْلِ، سَفَرًا وَلَا حَضَرًا.
— سنن النسائي، حديث: 1786; سنن ابن ماجه: 1181; صحيح الجامع: 4864

অনুবাদ:
নবী ﷺ ফজরের আগে দুই রাকআতের সুন্নাত ও রাতের নফল সালাত কখনোই ছেড়ে দিতেন না— না সফরে, না হযরে (বাসস্থানে)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
শরীয়তের বিধান হলো যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাঃ থেকে সফর অবস্থায় সুন্নাত নামাজ পড়াও প্রমাণিত রয়েছে,তাই সুযোগ থাকলে সুন্নাত আদায় করা উচিত।

বিশেষ করে ফজরের সুন্নাত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ.
— صحيح البخاري، حديث: 1090; صحيح مسلم: 724

আয়িশা (রাঃ) বলেন:
নবী ﷺ নফল সালাতসমূহের মধ্যে ফজরের দুই রাকআত সুন্নাতে সবচেয়ে বেশি যত্নবান ছিলেন।

★হানাফি মাযহাবে বলা হয়েছে যে সফর অবস্থায় নিরাপদ স্থান মিললে,সময় সুযোগ মিললে সুন্নাত নামাজ পড়া উত্তম।
তবে না পড়লে কোনো গুনাহ নেই।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...