আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
19 views
in সালাত(Prayer) by (6 points)
আসসালামু আ'লাইকুম। প্রথমেই বলে রাখি যে আমার সমস্যা শুধু সেসব সময় হয় যখন আমি একটা নিয়ম জানিনা৷
আমি মেয়ে। আমার নামাজের পায়জামার আঙুলে হালকা ছেড়া থাকায় সেটার উপরে আরেকটা পায়জামা পরেছিলাম। নতুন পায়জামাটার কোমড়ের ইলাস্টিকটা আমার হাঁটু পর্যন্ত উঠেছিল। নামাজে রুকুতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল হল যে আমার দুইহাত আমি ওই ইলাস্টিকের উপরে রেখেছি, তখন তাড়াতাড়ি ওই দুইহাত সরিয়ে ওই ইলাস্টিক খুব হালকা ঠেলে নিচে নিয়ে হাত হাঁটুতে রাখি। বাইরে থেকে এতটা বোঝা যাবেনা এমন।
উল্লেখ্য যে এর আগে আমি এই কারণে আবার নামাজ পড়েছি। কিন্তু এখন এতটাই বিরক্ত ছিলাম যে আর পড়িনি। বারবার একই কাজ করি খেয়াল না করে। আর আমার কাছে মনে হয়েছে এটা আমলে ক্বালিল।
এটা কি আসলেই আমলে ক্বালিল, নাকী ক্বাসীর?

1 Answer

0 votes
by (737,820 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আ'মলে কাছির নির্ণয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মধ্য যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে।যথা-
(১) সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতানুযানী 'আ'মলে কাছির' বলা হয়,এরূপ নড়াচড়া-কে যে, নড়াচড়ায় কর্মরতকে মুসাল্লি সম্পর্কে নামাযের বাহির থেকে অবলোকনকারীর নিশ্চিত ধারণা জন্মে যে,সে এখন আর নামাযে নেই। এ ধরনের কাজ দ্বারা তার নামায নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু যদি উক্ত মুসাল্লি সম্পর্কে নামাযরত বলে ধারণা করা যায়,তাহলে এমতাবস্থায় সে কাজকে 'আ'মলে কাছীর' বলা যাবে না।বরং একে 'আ'মলে ক্বালিল'-ই  বলা হবে, এবং তখন নামায নষ্ট হবে না।

(২) যে সমস্ত কাজে সাধারণত দু'হাত ব্যবহৃত হয়,সেটাকে আ'মলে কাছির বলে,যেমন লুঙ্গী বাঁধা ও পাগড়ী বাঁধা।ঐ সমস্ত কাজ যদি একহাত দ্বারাও করা হয় তবে ও তা আ'মলে কাসির বলে গণ্য হবে।
এবং যেই সমস্ত কাজ সাধারণত একহাত দ্বারা করা হয়,সেই সমস্ত কাজকে যদি তখন দুই হাত দ্বারাও করা হয়, তবে তাকে আ'মলে কাছির বলা যাবে না বরং তাকে আ'মলে ক্বালিল-ই বলা হবে, যতক্ষণ না তা তিন হরকত পরিমাণ হয়।যেমন লুঙ্গী খোলা,ও টুপি পরিধান করা,ইত্যাদি।

(৩) ধারাবাহিক তিনবার হারকাত (নড়াচড়া, চুলকানো,কাপড় বা অঙ্গ নিয়ে খেলায় মত্ত হওয়া) অর্থাৎ এই তিন হারকাত ধারাবাহিক ভাবে কোনো এক রুকুনের মধ্যে না হওয়া।যদি এমন হয় তাহলে এটা 'আ'মলে কাছির'।নতুবা সেটা আ'মলে ক্বালীল।

(৪) কর্তার ইচ্ছাকৃত এমন কাজ যেটাকে সাধারণত কোনো স্বতন্ত্রস্থানে করা হয়।যেমনঃ নামাযের মধ্যে বাচ্ছা কর্তৃক মহিলার দুধ পান করানো,এবং উত্তেজনার সাথে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে চুমু দেওয়া বা স্পর্শ করা।ইত্যাদি।

(৫) নামাযির রায়ের উপর নির্ভরশীল।সে যে কাজকে কাছির মনে করবে,সেটা আ'মলে কাছির,অন্যথায় আ'মলে ক্বালীল।

দ্বিতীয়,তৃতীয়,চতুর্থ প্রকার মূলত প্রথম প্রকারের ব্যখ্যা। এভাবে যে,দ্বিতীয়,তৃতীয় ও চতুর্থ প্রকারগুলির মধ্যে উল্লেখিত কাজের কর্তাকে নামাযের বাহির থেকে অবলোকন কারীর নিশ্চিত ধারণা জন্মিবে যে, সে এখন আর নামাযে নেই।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/445

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরনমতে এটা আমলে কাছির। সুতরাং আপনার ঐ নামায ফাসিদ হয়ে গিয়েছে। ঐ নামাযকে দোহড়িয়ে পড়তে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

+3 votes
1 answer 2,025 views
...