মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
﴿إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا﴾
“নামাজ তো মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।”
—সূরা নিসা, ৪:১০৩
নামাজ নির্ধারিত সময়েই আদায় করতে হবে—কাহারো জন্য বিলম্ব নয়।
নবী ﷺ বলেনঃ
إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُم
“নামাজের সময় হলে তোমাদের একজন আজান দেবে, এরপর তোমাদের মধ্যে যিনি বড় (সকল দিক দিয়ে উত্তম) তিনি ইমামতি করবেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদীস ৬৩১)
নবী ﷺ কখনো সময়মতো জামাত ছাড়া বিলম্ব করতেন না
وكان النبي ﷺ إذا حانت الصلاة قام فصلى
“নামাজের সময় হলে রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করতেন।”
(সিরাতে ইবনে হিশাম / সহিহ বর্ননায় সহায়তাপ্রাপ্ত)
হাদীসে আসে, নবী ﷺ নামাজের সময় হলে বিলম্ব না করে জামাত শুরু করতেন—
অর্থাৎ, সময় হলে নামাজ শুরু করা-ই মূলনীতি।
মসজিদে যখন জামাতের সময় নির্ধারিত থাকে—
মুসল্লীরা জানেন কোন সময়ে আসতে হবে
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের ওপর আমানত থাকে সময় রক্ষা করা,তাই সময় হলে জামাত শুরু করা উত্তম ও সুন্নাহসম্মত।
যদি কেউ নিয়মিত দেরিতে আসে, তার জন্য জামাত দেরি করা সঠিক নয়।
কারণ এতে সময়মতো আসা মানুষের হক নষ্ট হয় এবং তাদের কষ্ট হয়।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—
বিদ্যুৎ সমস্যা
বৃষ্টির কারণে মুসল্লীরা আসতে দেরি করছে,ইত্যাদি বিশেষ প্রয়োজনে উপস্থিত মুছল্লিদের অনুমতি সাপেক্ষে কয়েক মিনিট দেড়ি করা যেতে পারে।
কিন্তু এটিকে নিয়ম বানিয়ে দেরি করা—এটি অনুচিত।
*সময় ফিক্স করে দেরি করলে কি হক নষ্ট হয়?
হ্যাঁ, যারা সময়মতো এসেছে, তাদের হক আছে।
সময়মতো জামাত শুরু হওয়ার
অযথা অপেক্ষা না করতে হওয়া
তাদের সময় নষ্ট না হওয়া
ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে সময় পিছিয়ে দিলে— সময়ানুবর্তী মুসল্লীদের হক ক্ষুণ্ণ হয়।
ইসলাম সময়ানুবর্তিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে।