আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
22 views
in সালাত(Prayer) by (16 points)
আসসালামু আলাইকুম,

শায়খ আমি আমেরিকা থাকি। আমাদের এখানে মসজিদে কোনো নামাজের জামাত হলে ৩-৬ জনের বেশী মুসল্লী হয় না। আমাদের একটা হোয়াইটস অ্যাপ গ্রপ আছে যেখানে আমরা নামাজের সময় নিয়ে নিয়মিত আপডেট দিয়ে থাকি। যেমন ধরেন, শনিবার ছুটির দিন,,কেউ একজন গ্রুপে পোস্ট করে যে আজকে আমরা যোহর ১:৩০ এ পড়তে চাচ্ছি। তখন যারা নামাজ জামাতে পড়তে চায়, তারা ১:৩০ জামাত টা ধরার চেষ্টা করে। এখানে সমস্যা হচ্ছে কিছু মুসল্লী সঠিক সময়ে এসে জামাতের জন্য অপেক্ষা করে,,কযেকজন একটু দেরিতে আসে। এখন এই অবস্থাতে কি সঠিক সময়ে জামাত শুরু করা উচিত? নাকি আরও কিছু মুসল্লীর জন্য অপেক্ষা করা উত্তম যেন তারাও জামাতে শরীক হতে পারে? জামাতের সময় ফিক্সড করে দেরি করলে কি কারও কোনো হক নষ্ট হয়? যেমন ধরেন, কিছু মুসল্লী আছে ১:৩০ এ এসে যোহরের সুন্নাহ পরে এবং তার জন্য অন্য কিছু মুসল্লী অপেক্ষা করে। যে মুসল্লী দেরি করে এসে সুন্নাহ পড়তেছে তার কি উচিত যারা অপেক্ষমান তাদের থেকে পারমিশন নেওয়া? কারন আরেকজনের সময়ের হক আছে যেহেতু?

এসব ক্ষেত্রে আপেক্ষা করা উত্তম? নাকি জামাতের সময়ে অন্তত দুইজন হলেও জামাত শুরু করা উচিত।

জাযাকাল্লাহ খাইরান

1 Answer

0 votes
by (701,430 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

 ﴿إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا﴾
“নামাজ তো মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।”
—সূরা নিসা, ৪:১০৩

নামাজ নির্ধারিত সময়েই আদায় করতে হবে—কাহারো জন্য বিলম্ব নয়।

নবী ﷺ বলেনঃ

إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لِيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُم

“নামাজের সময় হলে তোমাদের একজন আজান দেবে, এরপর তোমাদের মধ্যে যিনি বড় (সকল দিক দিয়ে উত্তম) তিনি ইমামতি করবেন।”
(সহিহ বুখারি, হাদীস ৬৩১)

নবী ﷺ কখনো সময়মতো জামাত ছাড়া বিলম্ব করতেন না

 وكان النبي ﷺ إذا حانت الصلاة قام فصلى
“নামাজের সময় হলে রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করতেন।”
(সিরাতে ইবনে হিশাম / সহিহ বর্ননায় সহায়তাপ্রাপ্ত)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
হাদীসে আসে, নবী ﷺ নামাজের সময় হলে বিলম্ব না করে জামাত শুরু করতেন—
অর্থাৎ, সময় হলে নামাজ শুরু করা-ই মূলনীতি।

মসজিদে যখন জামাতের সময় নির্ধারিত থাকে—
মুসল্লীরা জানেন কোন সময়ে আসতে হবে
ইমাম ও মুয়াজ্জিনের ওপর আমানত থাকে সময় রক্ষা করা,তাই সময় হলে জামাত শুরু করা উত্তম ও সুন্নাহসম্মত।

যদি কেউ নিয়মিত দেরিতে আসে, তার জন্য জামাত দেরি করা সঠিক নয়।

কারণ এতে সময়মতো আসা মানুষের হক নষ্ট হয় এবং তাদের কষ্ট হয়।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—

বিদ্যুৎ সমস্যা
বৃষ্টির কারণে মুসল্লীরা আসতে দেরি করছে,ইত্যাদি বিশেষ প্রয়োজনে উপস্থিত মুছল্লিদের অনুমতি সাপেক্ষে কয়েক মিনিট দেড়ি করা যেতে পারে।

কিন্তু এটিকে নিয়ম বানিয়ে দেরি করা—এটি অনুচিত।

*সময় ফিক্স করে দেরি করলে কি হক নষ্ট হয়?

হ্যাঁ, যারা সময়মতো এসেছে, তাদের হক আছে। 

সময়মতো জামাত শুরু হওয়ার
অযথা অপেক্ষা না করতে হওয়া
তাদের সময় নষ্ট না হওয়া

ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে সময় পিছিয়ে দিলে— সময়ানুবর্তী মুসল্লীদের হক ক্ষুণ্ণ হয়।
ইসলাম সময়ানুবর্তিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...