আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
118 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
বিয়ের শুরু থেকে আমার স্বামী ওনার সল্প ইমকাম এর জন্য বাজার সদাই নিয়ে আমাকে খুব প্রেসার দিতো। কেন এই মাস খেতে হবে, কেন মাংস ২ দিন খেতে হবে। পুষ্টিকড় খাবার নিয়েও আমাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। অল্প বাজার করে দিতো, শেষ হয়ে গেলে বলতো এতো জলদি কিভাবে শেষ হলো।
এখন বিয়ের ২ বছর পার। আমার ওভারি তে সিস্ট আছে, তাই আমার সব ধরণের কেমিকাল মেশানো খাবার মানা। আমার ওজোন ও কম। আবার সব ধরণের খাবার খেতে পারি না। যে গুলো খেতে পারি, সেগুলি নাকি অনেক দাম। আমার স্বামী তাই মনে করে। আমাকে প্রায় এমন খোঁটা দেই। এখন টার ইমকাম মোটামুটি ভালো

আমি একবারে ভাত বেশি খেতে পারি না। যদি কম ভাত প্লেট এ দেখতো রাগ করতো। আবার আমি যদি বলি আমার একটু কলা, বা পেয়ারা বা ভালো কোনো ফল মাঝে মাঝে খেতে হবে। সে চাওয়া গুলি আমার স্বামী বিলাসিতা মনে করে। গত মাসে ডাক্তার পর্যন্ত আমার স্বামীর সামনে বলছে, ওনাকে একটু ভালো ফলমুল, খেজুর, ভালো ghee, খাওয়াবেন। ফার্ম এর মুরগি, ডিম, খাওয়াবেন না। এইটা নিয়ে আমার স্বামী মজা করে, আবার রাগ করে হউক আমাকে খোঁটা দিতে থাকে। আমাকে বলে ফার্ম মুরগি খেয়ে কী মানুষের বাচ্চা হচ্ছে না। আসলে আমার বাচ্চা হয়ের জন্য যে আমি এসব খেতে চাচ্ছি এমন নয়, আমার ব্লিডিং এর প্রবলেম আছে। আমার পিরিয়ড এর ব্লিডিং অনেক দিন করে থাকে। যাতে করে শরীর দুর্বল সহ অন্যান্য কষ্ট পেতে হয়।আমি যখন ই, আমার স্বামী কে বোঝানোর চেষ্টা করি যে, আমার এইটা লাইফস্টাইল disorder, ওনি বেশির ভাগ সময় ই, আমাকে খোঁটা দেই। তারপরও আমি তাকে কিছুটা বোঝাতে পারলে ওনি পরিমান এ এমন নিয়ে আসবে যে, দুই দিন পরেই শেষ হয়ে যাই। আমি যদি বলি আবার আনার কথা, আমাকে অপমান করে। আমি কেন আনতে বলবো।
আমি ধনী পরিবারের মেয়ে ছিলাম। কিন্তু বিলাসিতা আমার কখনোই পছন্দ ছিল না। তাই সাধারণ জীবন যাপনের ইচ্ছে থেকে, দীন দার ছেলে বিয়ে করি। শুধু আমার ওষুখ এর কারণে খাবার দাবার এর প্রয়োজন যখন আমার বর কে বলি, আমার অপমান এর শিকার হতে হয়।
আমাকে বলে, আমি অকৃতজ্ঞ। আমি শুধু চায় চায় করি। বিশ্বাস করুন, আমার এই অসুখ না থাকলে আমি আমার বর কে কখনোই বলতাম না যে, আমাকে একটু ভালো খাবার provide করো।
আমি জানি আমার ধর্য্য ধরতে হবে। কিন্তু দিন এর পর দিন এসব অপমান সহ্য করে ধর্য্য ধরা যায়?

আমার বর, টার বাবা মা কে টাকা পাঠাই, এমন কোনো মাস বাদ রাখে না, যে পাঠাই না। অন্যদিকে আমার ট্রিটমেন্ট এরজন্য টাকা কম পড়লেও, এক দিন ও বাসায় বলবে না যে এইমাসে একটু পাঠাতে পারবো না। আমার বৌ এর ট্রিটমেন্ট এর জন্য লাগবে।
আমাকে একটু বলবেন, এ কেমন ভরণ পোষণ একজন স্বামীর?

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ

বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
ইসলাম অনুযায়ী স্বামীর উপর স্ত্রীর জন্য ন্যায্য ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা ফরজ।

নবী (সা.) বলেছেনঃ

“তোমরা তাদের (স্ত্রীদের)কে তোমাদের সাধ্যের মধ্যে ভরণ-পোষণ দেবে।”
(সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ স্বামী যতটুকু উপার্জন করেন, তার মধ্যে স্ত্রীর প্রয়োজনীয় খরচ প্রথম অগ্রাধিকার।

প্রয়োজনীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার
চিকিৎসা,ওষুধ,প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য,নিরাপদ জীবনযাত্রা।
এগুলো ভরণ-পোষণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

কুরআনে বলা হয়েছে:
“তোমরা তাদের সাথে সদ্ব্যবহার কর।” (সুরা নিসা : ১৯)

স্ত্রীর প্রয়োজনীয় জিনিস চাইলে তাকে অপমান করা—এটি অবিচার (যুলুম)।

যুলুম সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন:

“আমি যুলুমকে নিজে হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝেও হারাম করেছি।”

স্বামীর পিতা-মাতাকে খরচ পাঠানোঃ
পিতা-মাতার খরচ দেওয়া নেক কাজ—কিন্তু:

স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ পূরণ না করে, অন্যকে খরচ পাঠানোর কথা বলা নেই।

স্বামী যদি নিজের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ অগ্রাহ্য করে অন্যকে টাকা দেয়, সে গুনাহগার হবে।

স্ত্রী তার ন্যায্য নফকা (খাবার/চিকিৎসা/প্রয়োজনীয় খরচ) পাওয়ার অধিকারী।

---
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি শান্তভাবে আবারও আপনার স্বামীকে বুঝান (হিকমত সহকারে)

তাতে কাজ না হলে পরিবারের মুরব্বিদের মাধ্যমে স্বামীকে বুঝিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করবেন। 

এতেও কাজ না হলে শেষ পর্যন্ত আপনি চাইলে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (3 points)
আমার স্বামী কে বুঝানোর মতো কোনো অভিভাবক আমার নেই। আমার বাবা বেঁচে নেই। মা আছে বিধবা। নিজের ভরণ পোষণ সামলাতেই হিমশিম খাই মাঝে মাঝে। বাবা যা দিয়ে গেছে তাই থেকে নিজের খরচ চালায়। আমার ভাই সম্পত্তির প্রলোভনে এবং আমার দ্বীন পালনের কারণে আমার সাথে সম্পর্ক রাখে নাই। এখন যদি আমার স্বামী প্রতি অভিযোগ নিয়ে তার দুয়ারে যাই, আমাকে অপমান ছাড়া আর কিছুই পেতে হবে না। আমার ভাই আমার মা এর সাথেও কোনো সম্পর্ক রাখে নাই। 
 আমার কিছু টাকা ছিল, যা আমার আব্বা মারা যাওয়ার আগে আমাকে দিয়েছিলো। কিন্তু যেহেতু আব্বা মারা যাওয়ার পর আমার খরচ আমাকে চালাতে হয়েছে, আবার আমার বিয়ের সময় আমি প্রায় ১. ৫ টাকা খরচ করি। বিয়ের পর দেখি আমার কাপড় রাখার মতো একটা আলনা, বা ওয়ারেড্রপ আমার স্বামী আমাকে provide করছে না, তাই নিজের টাকা দিয়ে একটা আলমারি কিনি। একটা সেকেন্ড হ্যান্ড বেড আমার স্বামী আমাকে দিয়েছিলো, বেড তা অনেক শব্দ করতো। আমার কাছে আব্বার দেয়া টাকা ছিল, একটা বেড ও কিনি সেই টাকা দিয়ে। আবার নিজের প্রয়োজনীয় কিছু খাবার ও কিনতাম। আমার স্বামী একটা bike কিনে, আমি আমার জমি বন্ধক রেখে ওনাকে ১লক্ষ টাকা ধার দেই। এখন যখন আমার কাছে আমার মোহরেনা ছাড়া, র আম্মার দেয়া একটু গয়না ছাড়া কিছুই নেই, যে ভালো খাবার কিনে খাবো নিজেই। আমি আমার স্বামীর পারমিশন ছাড়া বাড়ির বাহিরে এক ধাপ ও দেই নেই কোনো দিন। তাই কখনো সাহস ও পাই না যে, বাহিরে গিয়ে কিছু কিনবো। অনলাইন এ অর্ডার ও করি না। কারণ ওনার মানা। ডেলিভারি তো পুরুষ মানুষ হয় তাই ওনার মানা। হা হয়তো কিছু অর্ডার করলে আমার স্বামী সেইটা রিসিভ করবে কিন্তু এখন যখন আমার কাছে আর টাকা অবশিষ্ট নেই। 
সামান্য কিছু টাকা জোগাড় করতে পারলেও, ফোন এ টাকা তুলে মা এর সাথে কথা বলি। কারণ আমার মায়ের ওখানে সব সময় নেট থাকে না। 
এখন শুধু আমার একটা ধানী জমি আছে, র কিছু গয়না। এখন তাহলে কী এসব একটা করে বিক্রি করে, আমি ভালো খাবার খাবো?
যদি সব মিলিয়ে তাই করতে হয়, আমি না হয় তাই করবো। 
আমি কী তাহলে স্বামীর পারমিশন ছাড়া বাহিরে গিয়ে খাবার কিনতে পারবো নিজের জন্য? 
র আপনি যেমনটি বললেন, আমাকে আমার স্বামী কে বুঝানোর জন্য আপনি কিছু কথা লিখে দিয়ে আমাকে সাহায্য করতে চেয়েছেন। Please একটু kosto করে আমাকে এই সাহায্য টুকু করুন। 
by (720,840 points)
এক্ষেত্রে আপনার সম্পত্তি বিক্রি করা উচিত হবে না। আপনাকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সেটির উপর আপনি এভাবে আমল করতে পারেন, তা হলো আপনার মায়ের মাধ্যমে আপনার স্বামীর পরিবারের যারা মুরুব্বী আছে, তাদেরকে নিয়ে এক জায়গায় বসার চেষ্টা করবেন।

বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

উপরোক্ত বিষয়গুলো আলোচনা করে সমাধানে আসতে হবে।

আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

নতুবা উত্তোরনের পথ দেখছিনা।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...