আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (16 points)
মুহতারাম মুফতি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম ।
বর্তমানে বিভিন্ন ভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে ।  এসব ভর্তি পরীক্ষার সিট বিভিন্ন কলেজের মধ্যে বসে ।
একই কক্ষে নারী-পুরুষ সব ধরনের পরীক্ষার্থীই পরীক্ষা দিয়ে থাকেন ।
নারী পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যারা হিজাব পড়েন, মাথা ও কান কাপড়ে আবৃত রাখেন তাদের জন্য আমাদের প্রতি অর্থাৎ পরীক্ষায় আমরা যারা গার্ড দেই তাদের প্রতি একটা নির্দেশনা থাকে যে, আমরা যেন ঐ নারী পরীক্ষার্থীদের কান খোলা অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেই এবং পরীক্ষার পুরোটা সময় কান খোলা রাখা নিশ্চিত করি ।
এর পেছনে যে কারণটা দেখানো হয় তা হল- কিছু কিছু অসৎ পরীক্ষার্থী কানের সাথে বাইরে যোগাযোগ করার ছোট যন্ত্র সেট করে নিয়ে আসে ও নকল করে ।
  এটা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয় ।
উল্লেখ্য যে, প্রতি রুমে বা প্রতি ফ্লোরে সবসময়ই নারী শিক্ষকের ব্যবস্থা রাখা হয় না যে তিনি চেক করে দেখবেন ।
আবার, নারী শিক্ষক চেক করলেই হল না, কারণ নির্দেশনা থাকে যে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সেই নারী পরীক্ষার্থীদের কান খোলা রেখেই পরীক্ষা দিতে হবে অথচ সেখানে পুরুষ শিক্ষক ও পুরুষ পরীক্ষার্থীরাও থাকেন ।
শুধু ভর্তি পরীক্ষাই না, চাকুরির পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একইরকম ঘটনা ঘটতে দেখা যায় ।
আমার প্রশ্নগুলো হল-

১) উল্লিখিত কারণে শিক্ষকদেরকে কর্তৃপক্ষের ঐরূপ নির্দেশনা দেওয়ার হুকুম কী?

২) 'প্রয়োজন অনেক সময় হারামকে হালাল করে দেয়' -এরূপ কথা এক্ষেত্রে প্রযোজ্য কী না?
৩)  ঐ নির্দেশনা বাহ্যিকভাবে ইসলামের বিধানের সাথে বিরুদ্ধ, সাংঘর্ষিক এবং হারাম জেনেও যদি কোন শিক্ষক বিভাগীয় শাস্তি / চাকুরিচ্যুতি এড়াতে ঐ নির্দেশনা পূর্ণরূপে পালন করে থাকে তবে তার কী ধরনের গুনাহ হবে?
 না কী ওটা ওজর হিসেবে ধর্তব্য হবে ।
৪) সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একজন মুসলিম শিক্ষকের এসব ক্ষেত্রে কী করা উচিত হবে?

বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করার বিনীত অনুরোধ রইল ।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ সাঃবলেন-

لا طاعة في معصية إنما الطاعة في المعروف

গোনাহের কাজে কারো বশ্যতা স্বীকার করা যাবে না।(শরীয়ত যাদের বিধিনিষেধ মেনে চলার আদেশ দিয়েছে তাদের) আদেশ শুধুমাত্র বৈধ ও নেকীর কাজে মানা যাবে।(সহীহ বুখারী-৭২৫৭,সহীহ মুসলিম-১৮৪০)

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে,

لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ

আল্লাহর অবাধ্যতায় কারো বিধিনিষেধ কে মান্য করা যাবে না।(মুসনাদে আহমাদ-১০৯৮)

চার মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ফেকহী গ্রন্থ 'আল-মা'সুআতুল ফেকহীয়্যায়(২৮/৩২৭)' বর্ণিত রয়েছে,

"طاعة المخلوقين - ممّن تجب طاعتهم – كالوالدين ، والزّوج ، وولاة الأمر : فإنّ وجوب طاعتهم مقيّد بأن لا يكون في معصية ، إذ لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق" انتهى

শরীয়ত কর্তৃক যাদের বিধিনিষেধের অনুসরণ করা ওয়াজিব।যেমনঃ মাতাপিতা,স্বামী,এবং রাষ্ট্রীয় প্রধান বা তাদের আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।তাদের বিধিনিষেধ আমলে নেয়া তখনই ওয়াজিব যখন তা শরীয়ত বিরোধী হবে না।কেননা 'সৃষ্টিকর্তার নাফরমানীতে কোনো সৃষ্টজীবের অনুসরণ করা যায় না'(মর্মে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে)

ইবনে তাইমিয়্যাহ রাহঃ লিখেন,

ويلزم الإنسان طاعة والديه في غير المعصية وإن كانا فاسقين ، وهو ظاهر إطلاق أحمد ، وهذا فيما فيه منفعة لهما ولا ضرر ، فإن شق عليه ولم يضره : وجب ، وإلا فلا

গোনাহের কাজ ব্যতীত মুবাহ তথা বৈধ কাজে
মাতা পিতার আদেশকে মান্য করা ওয়াজিব।যদি তার ফাসিকও হয়।এটা তখন যখন তাতে মাতাপিতার ফায়দা থাকবে,এবং সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক হবে না।যদি সন্তানের উপর কষ্টদায়ক হয় তবে ক্ষতিকারক না হয়, তাহলে তখন মাতাপিতার আদেশ মান্য করা ওয়াজিব নয়।(আল-ফাতাওয়াল কুবরা-৫/৩৮১)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
উল্লিখিত কারণে শিক্ষকদেরকে কর্তৃপক্ষের ঐরূপ নির্দেশনা দেওয়ার বৈধতা নেই।

কেননা এক্ষেত্রে শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকেও ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনে সুযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা কক্ষ নির্দিষ্ট করতে হবে। যেখানে নারীরা পর্দা ঘেরা পরিবেশে অবস্থান করবে এবং নারী শিক্ষিকারাই শুধুমাত্র সেখানে গার্ড দিবে,কোনো পুরুষ সেই রুমে যাবেনা, তাহলে সেখানে উক্ত নিয়ম কার্যকর করা গেলে শরীয়ত বহির্ভূত হবে না।

কিন্তু নারী পুরুষ একত্রে একই রুমে বসিয়ে এভাবে নারীদের বেপর্দা রাখার মাধ্যমে উক্ত নিয়ম কার্যকর করার কোন অথরিটি শরীয়ত কাউকে দেয়নি।

(০২)
না,প্রযোজ্য হবেনা।

কেননা এক্ষেত্রে শরীয়তের গণ্ডির মধ্যে থেকেও ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনে সুযোগ রয়েছে।

(০৩)
এক্ষেত্রে তার দৃষ্টি নত রাখতে হবে।
অন্যথায় অর্থাৎ দৃষ্টি নত না রাখলে তার কবিরা গুনাহ হবে।
এটা ওজর হিসেবে ধর্তব্য হবেনা।

এমতাবস্থায় আল্লাহর কাছে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে খালেস দিলে তওবা করতে হবে।

(০৪)
বাধ্য হয়ে এই নিয়ম যদি কোনো মুসলিম শিক্ষকের কার্যকর করতেই হয়,সেক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টি নত রাখতে হবে,শরীয়াহ বিরোধী নিয়ম কার্যকর করায় ইস্তিগফার চালিয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...