আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
42 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (29 points)
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُه

আমার জন্য এই জুন মাস থেকেই পারিবারিক ভাবে পাত্র দেখা হচ্ছে। কিন্ত কোনো দিক দিয়েই কোনো পাত্রকে আমার পছন্দ হচ্ছিল না বা প্রথম দিকে পছন্দ হলেও ইস্তেখারা করার পর পাত্রর উপর থেকে মন উঠে যেত। তো এই আগস্ট মাসে আমাকে একটা পাত্র দেখানো হয়। পাত্রকে আমার খুবই পছন্দ হয় এবং পাত্রও আমাকে খুব পছন্দ করে। কিন্ত পাত্রর পরিবার কোনো এক কারণে আমাদের এখানে আর আগায় না। পাত্র খুব চেষ্টা করে তার পরিবারকে রাজি করানোর কিন্ত কোনোই লাভ হয় না।
পরবর্তীতে আমার পরিবার অন্যত্র পাত্র দেখা শুরু করে। এর পর বেশ কয়েকটি ভালো ভালো পাত্র দেখানো হলেও আমার কোনো পাত্রকেই আর ভালো লাগে না। অথবা প্রথম দিকে ভালো লাগলেও পরবর্তীতে আমার আর মন সায় দেয় না। আমার শুধু ইচ্ছা করে সেই পাত্রটার জন্য দোয়া করতে এবং ওনার জন্যই অপেক্ষা করতে। অন্যত্র বিয়ের কথা বার্তা আগালেও দেখা যায় যে আমার সেই পাত্রটার কথা খুব বেশি মনে পরতে থাকে যার কারনে আমি অন্যত্র আর আগাতে পারি না।
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার কি সেই পাত্র টার জন্য অপেক্ষা করা বা দুয়া করতে থাকা ঠিক হবে? কারন এভাবে আমার বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। পড়াশোনাও প্রায় শেষের দিকে। নাকি অন্যত্র বিয়ে করা উচিত হবে?
এটা কি শয়তানের ওয়াসওয়াসা নাকি আল্লাহই চাচ্ছেন আমি দুয়া করতে থাকি। আমি খুব হতাশ হয়ে যাচ্ছি। কিভাবে কি করব বুঝতে পারছি না।

1 Answer

0 votes
by (88,830 points)

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

https://ifatwa.info/66696/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে, 

কার সাথে কার বিয়ে হবে সেটা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেছেন,

وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا 

আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি, {সূরা নাবা-৮}

,

সুতরাং বুঝা গেল জীবনসঙ্গী কে হবে? তা আল্লাহ তাআলা জানেন। নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু বান্দা জানে না। তাই বান্দা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে ভাল পাত্রি/পাত্র দেখে বিবাহ করতে।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি-থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- 

ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ ﺭَﺿِﻲَ اﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ - ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ -( «ﻛَﺘَﺐَ اﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻘَﺎﺩِﻳﺮَ اﻟْﺨَﻼَﺋِﻖِ ﻗَﺒْﻞَ ﺃَﻥْ ﻳَﺨْﻠُﻖَ اﻟﺴَّﻤَﺎﻭَاﺕِ ﻭَاﻷْﺭْﺽَ ﺑِﺨَﻤْﺴِﻴﻦَ ﺃَﻟْﻒَ ﺳَﻨَﺔٍ) ﺭَﻭَاﻩُ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ.

আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক মানুষের তাক্বদীর লিপিবদ্ধ করেছেন আসমান-যমীন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বে এবং তিনি যার ভাগ্যে যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই ঘটবে। (ছহীহ মুসলিম, মিশকাত হাদীস নং/৭৯)। 

,

https://ifatwa.info/25636/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 

জন্ম মৃত্যুর মত বিয়ে শাদী ইত্যাদি সবকিছুই নির্ধারিত রয়েছে। তাকদীরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাকদীরে যার সাথে বিয়ের কথা লিখিত রয়েছে, তার সাথেই বিয়ে হবে। হ্যাঁ তাকদীরে যা লিখা রয়েছে, তা দু'আর মাধ্যমে পরিবর্তনও হয়ে যেতে পারে।

,

হযরত সালমান ফারসি রাযি. থেকে বর্ণিত,

سَلْمَانَ رضي الله عنه ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلَّا الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي العُمْرِ إِلَّا البِرُّ

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,তাকদীরকে দু'আ ব্যতীত অন্যকিছু বদলাতে পারে না। আর নেকী ব্যতীত অন্যকিছু হায়াতকে বৃদ্ধি করবে না। (সুনানু তিরমিযি-২১৩৯)

.

কুফু সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ  https://www.ifatwa.info/4541/ 

ইস্তেখারার নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন- https://ifatwa.info/14451/ 

,

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!

,

১. কে আপনার জন্য কল্যাণকর আর কে অকল্যাণকর? তা আল্লাহই ভালো জানেন। সুতরাং নির্দিষ্টকরে কাউকে পাওয়ার জন্য দু'আ না করে বরং যা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে, যিনি আপনার জন্য কল্যাণকর হবেন, তার জন্যই আপনি দু'আ করবেন।

,

আল্লাহর কাছে এভাবে দু'আ করবেন,

হে আল্লাহ! যে আমার জন্য কল্যাণকর হবে, তাকেই আমার জীবনসঙ্গী হিসেবে দিয়ে দেন। অথবা ঐ ছেলে যদি আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে তাকেই আমার জন্য জীবন সাথী বানিয়ে দিন।

.

২. ছেলে ও ছেলের পরিবার যদি আপনার ও আপনার পরিবারের মত দ্বীনদার না হয় এবং আপনার ও আপনার পরিবারের কুফু এবং তার ও তার পরিবারের কুফুর সাথে মিল না থাকে তাহলে বিয়ের জন্য সামনে অগ্রসর না হওয়াই আমরা পরামর্শ দিবো। কারণ, একজন দ্বীনদার পাত্রপাত্রীর সাথে একজন ধর্মবিষয়ে উদাসীন পাত্রপাত্রীর জীবনাচার নাও মিলতে পারে। দ্বীনদার চাইবে সব কিছুতে ধর্মের ছাপ থাকুক। আর দ্বীনহীন চাইবে সব কিছু ধর্মের আবরণমুক্ত থাকুক। সুতরাং এ দুইয়ের একত্রে বসবাস কখনো শান্তি-সুখের ঠিকানা হতে পারে না। তাই পবিত্র কুরআনও বিয়ের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতে সমতা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে।

তবে আপনি ইস্তেখারাহ করে ও আপনার পরিবারের সাথে পরামর্শ করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।

,

৩. ইস্তেখারাহ করার সময় স্বপ্নেই দেখতে হবে বিষয়টা এমন না।  উপরোক্ত সব কিছু যদি ঠিক থাকে এবং ঐ প্রস্তাবের দিকে মন টানে তাহলেও ঐ বিয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...