আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
88 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
আসসালামু আলাইকুম।

১।আমার বিয়ের হয় ২০২০সালে।কিন্তু কাবিন নামা তুলা হয় নি।কাবিন নামার ১৮ং কলাম কি লিখা আছে তা মন নাই।এদিকে বিয়ের সময় কোন কাজি এসেছিল,কোন কাজী অফিস থেকে এসেছিল কারও মন নাই তাই কাবিন নামা কোন ভাবেই তুলা পসিবল হচ্ছে না।এদিকে বউ ৩তালাক গ্রহন করেছে বলে ফেলেছে।এখন কি করনীয়?

২ এই প্রশ্নটা হল ঢাকার মুহাম্মদরে অবস্থিত বিখ্যাত মাদ্রাসা জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার নায়েবে মুফতি তাওহিদুল ইসলাম।উনাকে আমি প্রথম দিন কল দিয়ে জিগাস করছিলাম যদি ওয়াসওয়াসার রুগি তালাক দেয় সেটা কি কার্যকর হয়?উনি আমাকে বলেছিলেন হবে না।উনি আমাকে যে এই কথাটা বলেছিল আমি ভুলে গেছিলাম।পরে অনেক দিন পর আবার জিগাস করলে উনি বলে কার্যকর হবে।পরে আমার ফুনে পুরাতন কল রেকর্ড এ শুনি উনি প্রথম দিন কার্যকর হবে না বলেছিল।পরে তাকে সেটা পাঠিয়ে জিগাস করি কেন দু করম কথা বল্ল উনি বলেছিল আপনার সাথে কথা নাই আপনি আমার কল রেকর্ড করেছেন।পরে আবার আমাকে উনি বলতাছিল আপনি কাগজ কলমে তালাক না দিলে তালাক হবে না।মুখে বললে হবে না কাগজে যখন তালাক দিবেন তখন তালাক হবে।পরে আবার উনি বলেছেন যদি স্ত্রী কাফের হয় নিকা নষ্ট হবে না হাসব্যান্ড যদি হয় তবে নিকা নষ্ট হবে।পরে আমি অনেকদিন পর ডিটেইলস জানার জন্য জিগাস করলে উনি বলে স্ত্রী যদি কেবল নিকা নষ্ট করার উদ্দেশ্য কাফের হয় তবে নিকা নষ্ট হবে তানা হলে নিকা নষ্ট হবেনা।আমি তাকে জিগাস করছিলাম হাসব্যান্ড যদি বলে তুমাকে ৩তালাকের অনুমতি দিলাম সেটা কি সারাজিবন নাকি মজলিশ পর্যন্ত থাকে উনি বলেছিল সারাজিবন।কিন্তু পরে আবার অনেক পর জিগাস করলে বলে মজলিশ পর্যন্ত। আমি তাকে জিগাস করেছিলাম সামির অজান্তে সাইন দিলে স্ত্রী অনুমতি পাবে কিনা উনি বলেন পাবে। পরে আমি জিগাস করি যেসব আলম বলে না জেনে সাইন দিলে অনুমতি পাবে না তাদেরটা কি মানা যাবে উনি বলেন মানা যাবে।এরপর আমি IOM এ দলিল দিয়ে ফতোয়া দেয় যে না জেনে সাইন দিলে অনুমতি পাবে না।এটা মানা যাবে কিনা উনি বলেন না মানা যাবে না।এরপর মাহিদুল ফিকহিল নামক অনলাইন প্রতিষ্ঠ্বন যেখানে ৫০০টাকা দিলে দলিল দিয়ে ফতোয়া দেয় আমি তাকে জিগাস করছিলাম এখান থেকে ফতোয়া নেওয়া যাব কিনা উনি বলেন না।আমি কারন জিগাস করলে বলে বিনিময় নিতাছে।তখন আমি বলি হুজুর বিনিময় না হয় নিতাছে সেটার জন্য নাহয় ফতোয়া নেওয়া যাভে না।কিন্তু যে দলিল দিয়ে উত্তর দিতাছে সেই ফতোয়া মানা যাভে কিনা উনি বলেন না মানা যাভে না।এছাড়া উনি বলেন হাসব্যান্ড যদি বলে অনুমতি ফেরত নিয়ে নিলাম তবে নাকি তাফবিজ শেষ হয়ে যায়।এছাড়া হুরমেত একটি মাসালা জিগাস করছিলাম অজান্তেই শশুরের হাত লাগ্লে মৃদ্যু উত্তেজনা আসলে হুরমত হবে কিনা মানে ঘটনাটা বর্ননা করেছিলাম।উনি বলেছিল হুরমত হয়ে গেছে।পরে একই হুবুহুব ঘটনা আরও দারুল ইফতা থেকে ফতোয়া দেয় না হুরমত হয়নি।

***হুজুর আমি তার যোগ্যতা নিয়ে কথা বলতে চাই না।বা তাকে আমি জাজও করতে চাই না।উনি যেহেতু এত বড় মাদ্রাসার একজন নায়েবে মুফতি নিঃসন্ধেহে উনি যোগ্য।কিন্তু হুজুর তার এই বলা কথা গুলা আমার মাজে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে তাকেনিয়ে।এখন তাকে নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্তেও যদি আমি তালাক বিষয়ক কুন মাসালা তাকে কল করে জেনে নেই আর সে কলে উত্তর দিয়ে দেয় সেগুলা মেনে যদি জীবন যাপন করি আর কেয়ামতের মাঠে গিয়ে দেখি এই মাসালা ভুল আমার কি কুন গুনাহ হবে?সে জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়ার ই মুফতি। আমি মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম সেখান থেকে আমাকে একটি কার্ড দেয় তার সাথে কথা বলার জন্য।সেখানে লিখা ছিল জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া
নায়েবে মুফতি তাওহিদুল আর তার নাম্বার।

দয়া করে জানাবেন

1 Answer

0 votes
by (770,190 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
তালাক হচ্ছে স্বামীর অধিকার। স্বামী তালাক দিলেই তালাক সংঘটিত হবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ الْغَافِقِيِّ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ سَيِّدِي زَوَّجَنِي أَمَتَهُ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَهَا قَالَ فَصَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يُزَوِّجُ عَبْدَهُ أَمَتَهُ ثُمَّ يُرِيدُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا إِنَّمَا الطَّلَاقُ لِمَنْ أَخَذَ بِالسَّاقِ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার মনিব তার বাঁদীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। এখন সে আমার ও আমার স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করলেন, অতঃপর বলেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের কারো এরূপ আচরণ কেন যে, সে তার গোলামের সাথে তার বাঁদীর বিবাহ দেয়, অতঃপর তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়? নারীর ঊরু স্পর্শ করা যার জন্য বৈধ, তালাকের অধিকার তার।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৮১.বায়হাকী ৯/১৫৭, ইরওয়াহ ২০৪১।)

★শরীয়তের বিধান অনুযায়ী  মহিলা নিজের উপর কেবল তখনি তালাক পতিত করতে পারবে, যদি স্বামী তাকে তালাক দেবার অধিকার দিয়ে থাকে।
এটি নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে হ্যাঁ লেখার মাধ্যমেই হোক,বা পরবর্তীতে মৌখিক বা লিখিত ভাবেই হোক।

আরো জানুনঃ- 

★শরীয়তের বিধান হলো স্বামী যদি জেনে শুনে নিকাহ নামার ১৮ নং ধারাতে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেয়, অথবা সেখানে কাজী সাহেব বা অন্য কেহ হ্যাঁ লিখে দেয়,আর স্বামী তাহা জেনে শুনে নিচে স্বাক্ষর দেয়,আর এই নিকাহ নামা বিবাহের ইজাব কবুল হওয়ার পরে যদি লেখা হয়,তাহলে স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা পাবে। 

তবে যদি এমনটি না হয়,স্বামী যদি না জেনেই নিচে সাইন করে,সে যদি তালাকের ক্ষমতা প্রদানের এই বিষয় সম্পর্কে স্বীকার না করে যে এটার তারই লেখা,অথবা এই নিকাহ নামা যদি বিবাহের ইজাব কবুল হওয়ার আগে লেখা হয়,তাহলে স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা পাবেনা।
 
كُلُّ كِتَابٍ لَمْ يَكْتُبْهُ بِخَطِّهِ وَلَمْ يُمِلَّهُ بِنَفْسِهِ لَا يَقَعُ بِهِ الطَّلَاقُ إذَا لَمْ يُقِرَّ أَنَّهُ كِتَابُهُ كَذَا فِي الْمُحِيطِ (الفتاوى الهندية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى الطلاق بالكتابة-1/379، المحيط البرهانى، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-4/486، تاتارخانية، كتاب الطلاق، الفصل السادس فى ايقاع الطلاق بالكتاب-3/380)
সারমর্মঃ
প্রত্যেক ঐ লেখা,যেটা নিজ হাত দিয়ে লিখেনি,নিজের মন সেদিকে ঝুকেওনি,তাহলে তালাক পতিত হবেনা।
যদি সে এটা স্বীকার না করে যে এটার তারই লেখা।    

সুতরাং  যদি স্বামীর দস্তখত করার সময় জানা থাকে যে, কাজী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অধিকার দিয়েছে মর্মে উপরে লিখে দিয়েছে, একথা জানার পরও যদি স্বামী উক্ত কাগজের নিচে সাইন করে, তাহলে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক দেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে বলে সাব্যস্ত হবে। সেই হিসেবে স্ত্রী যদি পরবর্তীতে নিজের উপর তালাক পতিত করে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয়ে যায়।

আরো জানুনঃ 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নিকাহ নামায় যা থাকে থাকুক, আপনি আপনার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করবেন, তিনি কি নিকাহনামার ১৮ নাম্বার ধারায় আপনাকে তালাক গ্রহণের অনুমতি দিয়েছিলেন কিনা! অথবা বিবাহ পরবর্তী কোনো সময় আপনাকে তালাক গ্রহণে অনুমতি দিয়েছিলেন কিনা!

তার উপর ভিত্তি করেই উল্লেখিত প্রশ্নের সমাধান হবে।

(০২)
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না । 

এবং আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন। 

আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। 

আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...