আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। উস্তায,আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্রী। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচার এ পড়ি।আমার ঈমান ও আমল কম।জযবাও কম।ভার্সিটিতে এসে আমি দ্বীনের অনেক বুঝ পাইছি আলহামদুলিল্লাহ। সহশিক্ষা হারাম বুঝটা দেরিতে আসছে,যখন আসছে তখন পরিস্থিতি ছিল না ছাড়ার। এখন আমি বিবাহিতা, আমার স্বামীর পূর্ণ সাপোর্ট আছে যদি আমি সহশিক্ষা ছেড়ে দেই।কিন্তু আমার শ্বশুরবাড়ির লোক চায় যেন আমি অনার্সটা শেষ করি।এমন না যে আমার বাবার বাড়ির সবাই রাজি,তারাও অখুশি বিষয়টা নিয়ে।আমি ক্লাস না করে পরীক্ষা দিতে পারব না।আমি বাহ্যিক সম্পূর্ণ পর্দা করে চলি।আমার কি এই ১ বছর বা কিছু সময় বেশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া উচিত হবে??  আমি নিজেও তাদের কথা শুনে প্রভাবিত হয়ে পড়ি মাঝেমাঝে।কখনো আবার মনে হয়, ছেড়েই দিব,কারো কথায় প্রভাবিত হব না।আমি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে চাই।এই ডিগ্রিও শুধুমাত্র উম্মাহর খেদমতের জন্য অর্জন করতে চাই।খুবই দ্বিধাগ্রস্ত আমি। দুজনেই আইওএমের স্টুডেন্ট।উস্তায আমাকে বিষয়টি নিয়ে সুরাহা দিলে ভালো হয়।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/13774/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
দ্বীনি শিক্ষা হোক,বা দুনিয়াবি শিক্ষা হোক,ইসলামের বিধান হলো ছেলেরা ছেলেদের প্রতিষ্ঠানে এবং মেয়েরা মেয়েদের প্রতিষ্ঠানে পড়বে। বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে এর প্রতি সর্বোচ্চ লক্ষ রাখা ও গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। 

কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاء

মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী…। (সূরা আলি ইমরান ১৪)

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنْ النِّسَاءِ

আমি আমার পরে মানুষের মাঝে পুরুষদের জন্য নারীদের চাইতে অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনা রেখে যাই নি।(বুখারী ৪৮০৮ মুসলিম ২৭৪০)

ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমাতে এসেছে,

 فلا يجوز للمرأة أن تَدرس أو تعمل في مكان مختلط بالرجال والنساء ، ولا يجوز لوليها أن يأذن لها بذلك

সুতরাং মেয়েদের জন্য এমন প্রতিষ্ঠানে পড়া-লেখা কিংবা চাকরি করা জায়েয হবে না যেখানে নারী-পুরুষের সহাবস্থান রয়েছে এবং অভিবাকের জন্য জায়েয হবে না তাকে এর অনুমতি দেয়া।  (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা ১২/১৫৬)

★ একান্ত অপারগ অবস্থায় বা বিকল্প কোন পথ না পেলে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা জায়েয আছে। কেননা, الضرورات تبيح المحظورات     জরুরত নিষিদ্ধ কাজকে সিদ্ধ করে দেয়। (আলআশবাহ ওয়াননাযাইর ১/৭৮)

তবে সবোর্চ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে পর্দা লঙ্ঘন বা আল্লাহর অসন্তুষ্টি মূলক কার্যক্রম সংঘটিত না হয়।

কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন,

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ

অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর। (সূরা তাগাবুন ১৬)
,
★★প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই বোন, 
যতদিন পর্যন্ত এই দেশে পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না হচ্ছে ,ততদিন প্রয়োজনের তাগিদে নিম্নোক্ত শর্তাদির সাথে উলামায়ে কেরামগন  কলেজ-ভার্সিটিতে শিক্ষা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

১/শিক্ষা অর্জন দেশ ও মুসলিম জাতীর খেদমতের উদ্দেশ্যে হতে হবে।

২/চোখকে সব সময় নিচু করে রাখতে হবে,প্রয়োজন ব্যতীত কোনো শিক্ষক/শিক্ষিকার দিকে তাকানো যাবে না।মহিলা/পুরুষ তথা অন্য লিঙ্গের  সহশিক্ষার্থীদের সাথে তো কোনো প্রকার সম্পর্ক রাখা যাবেই না।সর্বদা অন্য লিঙ্গর শিক্ষার্থী থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।
ফাতাওয়া উসমানী ১/১৬০-১৭১;

★এ শর্ত পুরোপুরি ভাবে মেনে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া জায়েজ আছে।
,
সহ শিক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত জানুনঃ 
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত শুরুতে আপনি যদি এখন সহ শিক্ষা ছাড়তে চান তাহলে এক্ষেত্রে যেহেতু আপনার স্বামীর সাপোর্ট রয়েছে তাই আপনি সহ শিক্ষা ছেড়ে দিন।

তদুপরি শশুরের পরিবার এবং নিজ পরিবারের চাপে যদি আপনাকে অনার্স শেষ করতেই হয়, সেক্ষেত্রে আপনার স্বামীও যদি এমন কথাই বলে তাহলে আপনি শুধুমাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।
এমতাবস্থায় উপরে উল্লেখিত শর্তাবলী মেনে পূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

তদুপরি আপনার স্বামী যদি আপনাকে বলে এখনই ছেড়ে দিতে হবে, তাহলে এখনই আপনার স্বামীর আদেশ মান্য করে সহশিক্ষা ছেড়ে দিতে হবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 284 views
...