জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ تَكَدْ رُؤْيَا الْمُسْلِمِ تَكْذِبُ وَأَصْدَقُكُمْ رُؤْيَا أَصْدَقُكُمْ حَدِيثًا وَرُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَالرُّؤْيَا ثَلاَثَةٌ فَرُؤْيَا الصَّالِحَةِ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ وَرُؤْيَا تَحْزِينٌ مِنَ الشَّيْطَانِ وَرُؤْيَا مِمَّا يُحَدِّثُ الْمَرْءُ نَفْسَهُ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ وَلاَ يُحَدِّثْ بِهَا النَّاسَ "
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ উমার আল-মাক্কী (রহঃ) ..... আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন যুগ ও সময় (কিয়ামাতের) সন্নিকটে হয়ে আসবে তখন প্রায়শ (খাঁটি) মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা ও ভ্রান্ত হবে না। তোমাদের (মাঝে) অধিক সত্যভাষী লোক সর্বাধিক সত্য (ও বাস্তব) স্বপ্নদ্রষ্টা হবে। আর মুসলিমের স্বপ্ন নুবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের এক ভাগ। আর স্বপ্ন তিন (প্রকার)- ভাল স্বপ্ন আল্লাহর তরফ হতে সুসংবাদ (বাহক)। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন শাইতানের পক্ষ হতে দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর (এক ধরনের) স্বপ্ন যা মানুষ তার মনের সাথে কথা বলে (এবং ভাবনা-চিন্তা করে) তা থেকে (উদ্ভূত)।
অতএব তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু (স্বপ্ন) দর্শন করে- যা সে পছন্দ করে না, তাহলে সে যেন (ঘুম থেকে) উঠে দাঁড়ায় এবং সলাত (সালাত/নামাজ/নামায) আদায় করে আর মানুষের নিকট সে (স্বপ্নের) কথা গোপন রাখে।
(মুসলিম ৫৭৯৮, (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৭০৮, ইসলামিক সেন্টার ৫৭৪০)
ইসলামী দৃষ্টিতে স্বপ্ন তিন প্রকার।
,
১. যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাহকে দেখানো হয় যা কল্যানকর হয়।
২. শয়তানের পক্ষ হতে দেখানো হয় যাতে মানুষ খারাপ, মন্দ ভয়ংকর কিছু দেখে থাকে।
তবে শয়তান স্বপ্ন দেখানোর দ্বারা মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারেনা।
,
ভয়ংকর স্বপ্ন দেখলে দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। শয়তান মানুষকে দুশ্চিন্তায় ফেলার জন্যই এমন সব আজব আজব জিনিস দেখায়। এমনটা দেখলে ঘুম থেকে জেগে বাম দিকে থুথু ফেলে আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হয়।
৩. মানুষের কল্পনা। অর্থাৎ মানুষ যা কল্পনা করে স্বপ্নে তা দেখতে পায়।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
এটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত স্বপ্ন বলে মনে হচ্ছে। স্বপ্নটি ভালো আলহামদুলিল্লাহ। চিন্তিত না হওয়ার পরামর্শ থাকবে।
(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
وَإِذَا سَجَدْتَ فَأَمْكِنْ جَبْهَتَكَ مِنَ الأَرْضِ، حَتَّى تَجِدَ حَجْمَ الأَرْضِ
যখন তুমি সেজদা করবে তখন কপাল ভালোভাবে জমিনের সঙ্গে লাগাবে, যাতে করে জমিনের কাঠিন্য অনুভব হয়। (মুসনাদে আহমাদ ২৬০৪)
ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে আছেঃ-
ولو سجد على الحشيش أو التين أو على القطن أو الطنفسة أو الثلج إن إن استقرت جبهته وأنفه ويجد حجمه يجوز، وإن لم تستقر لا
‘কোনো ব্যক্তি যদি ঘাস ভুষি তুলা ফোম বা বরফের উপর সেজদা করে এবং তার কপাল নাক তাতে ঠেকে যায় সাথে সাথে শক্ত অনুভব করে তাহলে তার সেজদা হবে। আর শক্ত অনুভব না করলে সেজদা হবে না।’ (হিন্দিয়া ১/৭৭)
(সংগৃহীত।)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
নরম জায়গা যেমন কম্বল, তোশক, গদি বা এ জাতীয় নরম বিছানায় নামাজ পড়লে সেজদা করার সময় কপাল ও নাক ভালোভাবে লাগাতে হবে, যাতে শক্ত অনুভব হয়।
আর যদি সেজদার স্থানটা এতটা তুলতুলে নরম হয় যে, সেজদার সময় চাপ পড়লে মোটেও শক্ত অনুভব হয় না এবং কপালকে চাপ দিয়ে স্থিরভাবে লাগানো যায় না তাহলে তাতে সেজদা করা বৈধ হবে না।
★যদি চাদরে নাপাকি থাকে, তবে তা যদি শুকিয়ে গিয়ে থাকে,সেক্ষেত্রে সেই চাদরের উপর শুকনো জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করলে নামাজ আদায় হবে।
(০৩)
উপাদান দেখতে হবে।
অথবা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে।
(০৪)
সেটা যদি নাপাক না হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে এর দরুন আপনার শরীর/জামা নাপাক হবেনা।
আর যদি সেটি নাপাক হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আপনার শরীর নাপাক হয়ে যাবে। আপনার জামায় লাগলে সে জামাটিও নাপাক হয়ে যাবে।
এমতাবস্থায় সাবান দিয়ে বা অন্য যেকোনভাবেই হোক সেটি ধুয়ে দূর করতে হবে।