জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। আর এ নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করাও ফরজ। প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের জন্যই নির্ধারণ করা আছে। ওয়াক্ত বা সময় চলে গেলে সে নামাজের কাজা আদায় করা যায়।
নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
‘নিশ্চয় নামাজকে ঈমানদারের জন্য নির্ধারিত সময়ে (আদায় করা) আবশ্যক কর্তব্য করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১০৩)
এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায়ের তাগিদ দিয়েছেন। তাই কোনো শরয়ি প্রয়োজন ছাড়া এক ওয়াক্তের নামাজ অন্য ওয়াক্তে পড়া জায়েজ নয়।
প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়কে সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়। হাদিসে এসেছে-
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম; কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি ফজিলতময়? তিনি বলেন, ‘নামাজকে তার সময় মতো (নির্ধারিত সময়ে) আদায় করা।’ (বুখারি ও মুসলিম)
যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারিত ওয়াক্তে নামাজ ছেড়ে দেয় তথা আদায় না করে তবে সে কুফরি করলো। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দেয়া কবিরা গোনাহ। নামাজ ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে অনেক সতর্কতা এসেছে।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সেই নামাজগুলির কাজা বাসায় কসর হিসেবে আদায় করে নিবেন।
উল্লেখ্য, এভাবে নামাজ কাজা করা কোনোভাবেই জায়েজ হবেনা।
মারাত্মক গুনাহ হবে।
আপনি চাইলে এমন অবস্থায় সফর করবেন যে ক্ষেত্রে নামাজ কাজা যায় না।
উদাহরণস্বরূপ আপনি ফজরের নামাজ আওয়াল ওয়াক্তে আদায় করেই গাড়িতে উঠবেন।
সেক্ষেত্রে আশা করা যায় যোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে পারবেন।
এমতাবস্থায় আপনি জোহরের নামাজ ওয়াক্তমতই আদায় করতে পারবেন।
অথবা ঈশার আওয়াল ওয়াক্তে ইশার নামাজ আদায় করে গাড়িতে উঠবেন, সেক্ষেত্রে আপনি ইনশাআল্লাহ ফজরের ওয়াক্তে গন্তব্য স্থলে পৌঁছতে পারবেন।
এমতাবস্থায় আপনি ফজরের নামাজ ওয়াক্তমতই আদায় করতে পারবেন।
যদি ফজর নামাজ কাজা হয়েও যায়, তদুপরি আপনার এক ওয়াক্তের নামাজ কাজা হবে। দুই/তিন ওয়াক্তের নামাজ কাজা কোনক্রমেই কাজা হবেনা।
(০২)
একাকী হলে বা মুসাফির ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করলে কসর পড়বেন।
সফর অবস্থার কাজা নামাজ হলে সেক্ষেত্রেও কসর আদায় করবেন।
(০৩)
এক্ষেত্রে সেটির কাজা কসরের পদ্ধতিতেই আদায় করতে হবে।
অর্থাৎ সেটি চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে দুই রাকাত আদায় করতে হবে।
আরো জানুনঃ-