আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
25 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
হে মুমিনগণ! তোমরা মুমিন নারীদেরকে বিবাহ করার পর তাদেরকে স্পর্শ করার আগেই তালাক দিলে তোমাদের জন্য তাদের উপর কোন ইদ্দত ওয়াজিব নয়, যা তোমাদেরকে গণনা করতে হবে।  সুতরাং তাদেরকে কিছু উপহার সামগ্রী দিবে  এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করবে।             
—আল আহযাব - ৪৯                   
তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যাদের ঋতুবর্তী হওয়ার আশা নেই, তাদের ব্যাপারে সন্দেহ হলে তাদের ইদ্দত হবে তিন মাস। আর যারা এখনও ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি, তাদেরও অনুরূপ ইদ্দতকাল হবে। গর্ভবর্তী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তানপ্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার কাজ সহজ করে দেন।            
—আত ত্বালাক - ৪  
প্রশ্ন:-  আহযাবের আয়াতে বলা হচ্ছে, বিবাহ করার পর স্পর্শ না করলে কোনো ইদ্দত নেই। (এখানে স্পর্শ দ্বারা নারীর লজ্জাস্থান ব্যবহার করা বুঝানো হচ্ছে,   ইদ্দতের সাথে লজ্জাস্থান ব্যবহার করার সম্পর্ক সু-স্পষ্ট)  সূরা তালাকের  আয়াতে বলা হচ্ছে, যারা ঋতুর বয়সে পৌছেনি তাদের ইদ্দত (৩ মাস) অর্থাৎ নাবালেক মেয়ের ইদ্দত ৩ মাস ঘোষনা  করা হচ্ছে, তাহলে কি ইসলাম নাবালেগ বাচ্চা মেয়ের সাথে শারিরিক সম্পর্ক করার অনুমতি প্রদান করে?  বিদ্র:-ওস্তাদ বিষয়টা আমাকে বিস্তারিত জানাবেন, এটা একটা নাস্তিকের প্রশ্ন, আমি জেনারেল ছাত্র ৪ বছর আগে এই প্রশ্নের  সম্মুখীন হয়েছি কিন্ত যথাযথ যৌক্তিক উত্তর পাইনি। আমাকে যৌক্তিক ভাবে উত্তর দিবেন ইংশা-আল্লাহ্ জাঝাকাল্লাহ্

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/37670/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ تَزَوَّجَهَا وَهِىَ بِنْتُ سَبْعِ سِنِينَ وَزُفَّتْ إِلَيْهِ وَهِىَ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ وَلُعَبُهَا مَعَهَا وَمَاتَ عَنْهَا وَهِىَ بِنْتُ ثَمَانِىَ عَشْرَةَ.

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ৭ বছর বয়সে বিয়ে করেন, যখন তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে দেয়া হয় তখন তার বয়স ছিল নয় বছর, তাঁর সাথে খেলনা ছিল। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ১৮ বছর।
(সহীহ : মুসলিম ১৪২২,মিশকাতুল মাসাবিহ ৩১২৯)

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: فَلَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ جَاءَنِي نِسْوَةٌ وَأَنَا أَلْعَبُ عَلَى أُرْجُوحَةٍ، وَأَنَا مُجَمَّمَةٌ فَذَهَبْنَ بِي، فَهَيَّأْنَنِي وَصَنَعْنَنِي، ثُمَّ أَتَيْنَ بِي رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَنَى بِي وَأَنَا ابْنَةُ تِسْعِ سِنِينَ

আয়িশাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা মদীনায় আসলাম তখন মহিলারা আমার নিকট এলো, এ সময় আমি দোলনায় খেলছিলাম। আমার মাথায় ঘন কালো ও লম্বা চুল ছিলো। তারা আমাকে নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে প্রস্তুত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। তিনি আমার সঙ্গে বাসর যাপন করলেন। তখন আমার বয়স ছিলো নয় বছর।
(আবু দাউদ ৪৯৩৫)

নাবালেগাহ বিবাহিতার সাথে বাসরের সময়ের ব্যাপারে স্বামী এবং ওয়ালী যদি এমন বিষয়ে ঐকমত্য হয় যাতে ছোট মহিলার উপর ক্ষতির আশংকা নেই। তবে উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর কিংবা সহবাস করা যাবে। 

ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ ও আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর তখনই করা যাবে যখন তার সহবাসে সক্ষমতা আসবে, তবে এটা মহিলা ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো মহিলার যদি ৯ বছরের পূর্বেই সহবাসের সক্ষমতা আসে তবে তার সাথে বাসরে কোনো বাধা নেই। 

অন্যদিকে কোনো মহিলার ৯ বছরের পরেও যদি সহবাসের সক্ষমতা না আসে, তবে তার সঙ্গে বাসর করার অনুমতিও নেই। (শারহে মুসলিম ৯/১০ খন্ড, হাঃ ১৪২২)

ইসলামী স্কলারগন বলেছেনঃ
 
لكن لا يُدخل الرجل بزوجته بالصغيرة إلا إذا كانت بحيث تطيق الجماع ، وهذا يختلف باختلاف الأزمنة والأمكنة والبيئات .
সারমর্মঃ
বালেগাহ হওয়ার আগে বিবাহ জায়েজ হলেও স্বামী সেই স্ত্রীর সাথে সহবাস করবেনা।
কিন্তু সেই মহিলা যদি সহবাসে শক্তিবান হোন,তাহলে তার সাথে সহবাস করা যাবে।
আর এটা শারীরিক গঠন,স্থান,কাল ভেদে ভিন্ন রকম হয়।   

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই, 
নাবালেগাহকে বিবাহ করা জায়েজ হলেও স্বামী সেই স্ত্রীর সাথে সহবাস করবেনা।

সেই স্ত্রী যদি সহবাসে শক্তিবান হোন,তাহলে তার সাথে সহবাস করা যাবে।
আর এটা শারীরিক গঠন,স্থান,কাল ভেদে ভিন্ন রকম হয়।   

নাবালেগাহ বিবাহিতার সাথে বাসরের সময়ের ব্যাপারে স্বামী এবং ওয়ালী যদি এমন বিষয়ে ঐকমত্য হয় যাতে ছোট মহিলার উপর ক্ষতির আশংকা নেই। তবে উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর কিংবা সহবাস করা যাবে। 

ইমাম মালিক, শাফি‘ঈ ও আবূ হানীফাহ্ (রহঃ) বলেনঃ উক্ত মহিলার সঙ্গে বাসর তখনই করা যাবে যখন তার সহবাসে সক্ষমতা আসবে, তবে এটা মহিলা ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কোনো মহিলার যদি ৯ বছরের পূর্বেই সহবাসের সক্ষমতা আসে তবে তার সাথে বাসরে কোনো বাধা নেই। 

অন্যদিকে কোনো মহিলার ৯ বছরের পরেও যদি সহবাসের সক্ষমতা না আসে, তবে তার সঙ্গে বাসর করার অনুমতিও নেই। 

সূরা তালাকের ৪ নং আয়াতে যে বলা হচ্ছে, যারা ঋতুর বয়সে পৌছেনি তাদের ইদ্দত (৩ মাস) অর্থাৎ নাবালেগাহ মেয়ের ইদ্দত ৩ মাস ঘোষনা করা হচ্ছে,এমনটি আপনি প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন।

দেখুন! ইসলাম যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, তাই এক্ষেত্রে ইসলাম মূলত এটি বুঝিয়েছে যে যদি নাবালেগাকে কেউ বিবাহ করে সহবাস করে, এরপরে তালাক দেয় সেক্ষেত্রে তার ইদ্দত কেমন হবে, সেটি স্পষ্ট করে দেওয়া।

এক্ষেত্রে সহবাসের সক্ষমতা না আসা সত্ত্বেও নাবালিগাহকে সহবাস করার বৈধতা উক্ত আয়াতে ইসলাম দেয়নি


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...