আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ।
আমার দাদী ২০২০ সালে মারা যান। তার নামে সাড়ে চার টি ফ্ল্যাট আছে। আমার ১জন চাচা(বড়), ১জন ফুফু আর আমার বাবা(ছোট)। আমার বাবার ১ছেলে, আর ৩মেয়ে। আর চাচার ১মেয়ে, ফুফুর ১ মেয়ে।
চাচা ২০২৫ সালে মারা যান। আমার দাদা জীবিত আছেন।
১। দাদীর সাড়ে চারটি ফ্ল্যাট ( ৫৬২৫ বর্গমিটার) বন্টনের মাসআলা নেয়া হয়েছিল, তবে চাচা থাকা অবস্থায় সকল ওয়ারিছদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দাদা বোধজ্ঞান থাকা অবস্থায় (৪বছর আগে) বলেছেন আমার বাবাকে ২টি ফ্ল্যাট দিতে, ফুফুকে ১টি দিতে, দাদা যেহেতু অনেক বৃদ্ধ, তার যে অংশের ওয়ারিশ পরে সকলে হবেন সেখান থেকে আমার চাচা এবং বাবা তাদের অংশ ছেড়ে দিয়ে ফুফুকে ১ টি ফ্ল্যাট দিবেন। আমার বাবাকে ২টি ফ্ল্যাট দিবেন, চাচা দেড়টি ফ্ল্যাট রাখবেন। ক) তো চাচা মারা যাওয়ায় আমার দাদির কাছ থেকে আসা+দাদার ওয়ারিছ চাচার দেড়টি ফ্ল্যাট কি চাচাতো বোন পাবে? তার কোনো ভাই নেই। উল্লেখ্য যে চাচাতো বোন (১৮+) এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে যে আমার বাবা ২টি ফ্ল্যাট আর ফুফু ১টি নিবেন। খ) যেহেতু দাদা জীবিত তাহলে কি দাদার অংশ দাদার নামে করে ওছিয়তনামা রাখতে হবে, তার মৃত্যুর পর ওয়ারিছদের নামে করবে? নাকি এখনই বাবা, ফুফু, চাচাতো বোন নিজেদের নামে করতে পারবে?
২। আমার চাচার নামে ২জায়গায় মোট ২৩.৫ কাঠা জমি আছে, এর মধ্যে ৫কাঠা তিনি জীবদ্দশায় মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছেন। তার চিকিৎসায় কোটি টাকার ঋণ ছিল, চাচি এগুলো পরিশোধ করছেন। আর বাকি সম্পত্তির অর্ধেক চাচাতো বোন, আট ভাগের এক ভাগ চাচি, ৬ভাগের ১ভাগ দাদা পাবেন। এখন আমার চাচি বলছেন যে, চাচাতো বোনের ভরণপোষণের দায়িত্ব যেহেতু দাদার উপর। আমার চাচা যেভাবে যেই জায়গায় মেয়েকে পড়ালেখা করাতে চেয়েছেন, যেমন পরিবেশে বড় করতে চেয়েছেন সে হিসেবে অনেক খরচ লাগবে। তো তিনি চাচ্ছেন দাদার সম্পত্তির অংশ তাকে দিবেন না ভরণপোষণের খরচ হিসেবে, দাদাকে জমির+অন্যান্য সকল (না দাবীকারি) হিসেবে স্বাক্ষর নিয়েছেন। চাচি আমার ফুফুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন দাদার মৃত্যুর পরে, আমার বাবা,ফুফুর এতে কোনো আপত্তি থাকবে কিনা। ফুফু বলে দিয়েছেন তার দাবী নেই। চাচাতো বোন, এই এতিমের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার ইচ্ছায় চাচির কথার উপর কেউ কোনো দাবি করতে পারেনা। সব দলিল চাচির কাছে। তাই কিছু বলেনা। ফুফু আমার বাবার পক্ষ থেকেও জিজ্ঞেস না করেই জানিয়ে দিয়েছে আমার বাবার কোনো দাবি নেই। কিন্তু ফুফু আমাদের বাসায় আসলে বলেন যে, "ভাবি যে আব্বার অংশ ভরণপোষণের নাম করে, নিজের নামে করতে চায়, এটা কি করতে পারবে? শরীয়তের নিয়ম কী? আমরা উনাকে কিছু বলারও সাহস নাই।" চাচি আবার চাচাতো বোনের পুরা অংশ তাকে দিবেন না,নিজের নামে করবেন, মেয়ের পিছনে শত্রু লাগার আশঙ্কায়। কিন্তু চাচাতো বোন(১৮+) মায়ের অবাধ্য হবেনা এবং ভয়ে তেমন কিছু বলেনা, কিন্তু সে এইটুকু বলেছে, "আমারটা আমাকে দিবানা কেন?" এভাবে চাচি দলিল রেডি করছেন,এতো জটিলতায় এখনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তার কর্মকাণ্ড কতটা শরীয়তসম্মত?
৩। চাচি অনেক বড় পোস্টের সরকারি কর্মকর্তা। তিনি অন্য ঘরে বিবাহ বসারও আশঙ্কা নেই। আর মেয়েকেও তিনি নিজে লালন পালন করবেন, কখনোই আমাদের কাছে রাখবেন না। এ অবস্থায় আমার বাবা-মা, ফুফু বলছেন যে, মেয়ের ভরণপোষণের কোনো কষ্ট হবেনা তার নিজ বেতনে, তাছাড়া মেয়ে তো ফ্ল্যাট ভাড়া পায়। তো বাবা, ফুফুর কি হক আছে যে তারা আমার দাদার অংশ না দেয়, কিংবা পরে দাবি করে? উল্লেখ্য যে দাদার বর্তমানে বোধজ্ঞান নেই, তার থেকে যেভাবে ইচ্ছা বলে স্বাক্ষর নেয়া যায়।
চাচি আমাদের খুব স্নেহ করেন আগে থেকেই। কিছুদিন পরপর খোঁজ নেয়া, আসা যাওয়া, টাকা দেয়া, হাত ভরে খাবার নিয়ে আসা, কাপড় দেয়া, অনেক আন্তরিকতা করেন। আর বলেন "তোমাদের চাচার অনেক মায়া ছিল তোমাদের জন্য। আমি যাতে তার পক্ষ থেকে দায়বদ্ধ না থাকি। আমার মেয়েকে দেইখো।"
এই জটিলতার সহজ সমাধান পেলে উপকৃত হব। অগ্রিম জাযাকাল্লাহু খইরি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরহ।