আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির মূলত রুকইয়ার চিকিৎসা প্রয়োজন। রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য— এখানে ক্লিক করুন

0 votes
13 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ।

আমার দাদী ২০২০ সালে মারা যান। তার নামে সাড়ে চার টি ফ্ল্যাট আছে। আমার ১জন চাচা(বড়), ১জন ফুফু আর আমার বাবা(ছোট)। আমার বাবার ১ছেলে,  আর ৩মেয়ে। আর চাচার ১মেয়ে, ফুফুর ১ মেয়ে।

চাচা ২০২৫ সালে মারা যান। আমার দাদা জীবিত আছেন।

১। দাদীর সাড়ে চারটি ফ্ল্যাট ( ৫৬২৫ বর্গমিটার) বন্টনের মাসআলা নেয়া হয়েছিল, তবে চাচা থাকা অবস্থায় সকল ওয়ারিছদের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দাদা বোধজ্ঞান থাকা অবস্থায় (৪বছর আগে) বলেছেন আমার বাবাকে ২টি ফ্ল্যাট দিতে, ফুফুকে ১টি দিতে, দাদা যেহেতু অনেক বৃদ্ধ, তার যে অংশের ওয়ারিশ পরে সকলে হবেন সেখান থেকে আমার চাচা এবং বাবা তাদের অংশ ছেড়ে দিয়ে ফুফুকে ১ টি ফ্ল্যাট দিবেন। আমার বাবাকে ২টি ফ্ল্যাট দিবেন, চাচা দেড়টি ফ্ল্যাট রাখবেন। ক) তো চাচা মারা যাওয়ায় আমার দাদির কাছ থেকে আসা+দাদার ওয়ারিছ চাচার দেড়টি ফ্ল্যাট কি চাচাতো বোন পাবে? তার কোনো ভাই নেই। উল্লেখ্য যে চাচাতো বোন (১৮+) এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছে যে আমার বাবা ২টি ফ্ল্যাট আর ফুফু ১টি নিবেন। খ) যেহেতু দাদা জীবিত তাহলে কি দাদার অংশ দাদার নামে করে ওছিয়তনামা রাখতে হবে, তার মৃত্যুর পর ওয়ারিছদের নামে করবে? নাকি এখনই বাবা, ফুফু, চাচাতো বোন নিজেদের নামে করতে পারবে?

২। আমার চাচার নামে ২জায়গায় মোট ২৩.৫ কাঠা জমি আছে, এর মধ্যে ৫কাঠা তিনি জীবদ্দশায় মসজিদের জন্য ওয়াকফ করেছেন। তার চিকিৎসায় কোটি টাকার ঋণ ছিল, চাচি এগুলো পরিশোধ করছেন। আর বাকি সম্পত্তির অর্ধেক চাচাতো বোন, আট ভাগের এক ভাগ চাচি, ৬ভাগের ১ভাগ দাদা পাবেন। এখন আমার চাচি বলছেন যে, চাচাতো বোনের ভরণপোষণের দায়িত্ব যেহেতু দাদার উপর। আমার চাচা যেভাবে যেই জায়গায় মেয়েকে পড়ালেখা করাতে চেয়েছেন, যেমন পরিবেশে বড় করতে চেয়েছেন সে হিসেবে অনেক খরচ লাগবে। তো তিনি চাচ্ছেন দাদার সম্পত্তির অংশ তাকে দিবেন না ভরণপোষণের খরচ হিসেবে, দাদাকে জমির+অন্যান্য সকল (না দাবীকারি) হিসেবে স্বাক্ষর নিয়েছেন। চাচি আমার ফুফুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন দাদার মৃত্যুর পরে, আমার বাবা,ফুফুর এতে কোনো আপত্তি থাকবে কিনা। ফুফু বলে দিয়েছেন তার দাবী নেই। চাচাতো বোন, এই এতিমের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার ইচ্ছায় চাচির কথার উপর কেউ কোনো দাবি করতে পারেনা। সব দলিল চাচির কাছে। তাই কিছু বলেনা। ফুফু আমার বাবার পক্ষ থেকেও জিজ্ঞেস না করেই জানিয়ে দিয়েছে আমার বাবার কোনো দাবি নেই। কিন্তু ফুফু আমাদের বাসায় আসলে বলেন যে, "ভাবি যে আব্বার অংশ ভরণপোষণের নাম করে, নিজের নামে করতে চায়, এটা কি করতে পারবে? শরীয়তের নিয়ম কী? আমরা উনাকে কিছু বলারও সাহস নাই।"  চাচি আবার চাচাতো বোনের পুরা অংশ তাকে দিবেন না,নিজের নামে করবেন, মেয়ের পিছনে শত্রু লাগার আশঙ্কায়। কিন্তু চাচাতো বোন(১৮+) মায়ের অবাধ্য হবেনা এবং ভয়ে তেমন কিছু বলেনা, কিন্তু সে এইটুকু বলেছে, "আমারটা আমাকে দিবানা কেন?" এভাবে চাচি দলিল রেডি করছেন,এতো জটিলতায় এখনো রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তার কর্মকাণ্ড কতটা শরীয়তসম্মত?

৩। চাচি অনেক বড় পোস্টের সরকারি কর্মকর্তা। তিনি অন্য ঘরে বিবাহ বসারও আশঙ্কা নেই। আর মেয়েকেও তিনি নিজে লালন পালন করবেন, কখনোই আমাদের কাছে রাখবেন না। এ অবস্থায় আমার বাবা-মা, ফুফু বলছেন যে, মেয়ের ভরণপোষণের কোনো কষ্ট হবেনা তার নিজ বেতনে, তাছাড়া মেয়ে তো ফ্ল্যাট ভাড়া পায়। তো বাবা, ফুফুর কি হক আছে যে তারা আমার দাদার অংশ না দেয়, কিংবা পরে দাবি করে? উল্লেখ্য যে দাদার বর্তমানে বোধজ্ঞান নেই, তার থেকে যেভাবে ইচ্ছা বলে স্বাক্ষর নেয়া যায়।

চাচি আমাদের খুব স্নেহ করেন আগে থেকেই। কিছুদিন পরপর খোঁজ নেয়া, আসা যাওয়া, টাকা দেয়া, হাত ভরে খাবার নিয়ে আসা, কাপড় দেয়া, অনেক আন্তরিকতা করেন। আর বলেন "তোমাদের চাচার অনেক মায়া ছিল তোমাদের জন্য। আমি যাতে তার পক্ষ থেকে দায়বদ্ধ না থাকি। আমার মেয়েকে দেইখো।"

এই জটিলতার সহজ সমাধান পেলে উপকৃত হব। অগ্রিম জাযাকাল্লাহু খইরি ফিদ দুনিয়া ওয়াল আখিরহ।

1 Answer

0 votes
ago by (726,300 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন, 

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ

আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। ( সূরা নিসা-১১-১২)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
শরীয়তের বিধান অনুসারে আপনার দাদীর সম্পদ আগে বন্টন করতে হবে।
এরপর আপনার দাদা যদি জীবদ্দশায় তার সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন করে দিতে চায়,তাহলে দিতে পারে।
এক্ষেত্রে তিনি যাকে যতটুকু দিবেন,তাই ততটুকুই পাবে।

প্রশ্নের বিবরন মতে  আপনার দাদীর সমূদয় সম্পত্তি এভাবে বন্টন হবেঃ-
মোট সম্পত্তি ২০ ভাগ হবে।
স্বামী (আপনার দাদা) এক চতুর্থাংশ হিসেবে ৫ অংশ পাবে।

আপনার দাদীর ছেলেরা (আপনার বাবা ও চাচা) আসাবা হিসেবে প্রত্যেকে ৬ অংশ ২ জন মোট ১২ অংশ পাবে।

আপনার দাদীর মেয়ে (আপনার ফুফু) আসাবা হিসেবে ৩ অংশ পাবে।

আপনার দাদির নাতি নাতনিরা সম্পদের কোন অংশ পাবে না।
তারা বঞ্চিত হবে।

তবে আপনার চাচা যেহেতু মারা গিয়েছেন, তো তিনি যে ছয় অংশ পাচ্ছেন, এই ছয় অংশ তার সন্তানদের মাঝে শরীয়তের নীতিমালা আলোকে বন্টিত হবে।

এটি মূলত শরীয়তের আইন। কিন্তু এরপর আপনারা যদি পারস্পরিক সন্তুষ্টি চিত্তে কারো উপর জুলুম না করার নিমিত্তে উপরোক্ত নীতিমালার আলোকে নিজেদের মাঝে সম্পদ কমবেশি করে নেন, আর তাতে যদি সকলেই সন্তুষ্টি চিত্তে মন থেকে রাজি থাকে, কারো উপর যদি কোনরুপ জুলুম করা না হয়, তাহলে এটিরও অনুমতি রয়েছে।

প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য বিষয়গুলি সম্পর্কে জানতে নিকটতম কোনো মাদ্রাসার দারুল ইফতায় সর্বশরীরে যাওয়ার পরামর্শ রইলো। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...