জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
শরীয়তের বিধান হলো ফরজ নামাজ হোক বা সুন্নাত, নফল,তারাবিহ নামাজ হোক, নামাজে সেজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে সেজদাহ আদায় করতে হবে।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
رواه البخاري (1077)، من طريق ربيعة بن عبد الله بن الهدير؛ أن عمر بن الخطاب -رضي الله عنه- قرأ يوم الجمعة على المنبر بسورة النحل، حتى إذا جاء السجدة نزل فسجد وسجد الناس، حتى إذا كانت الجمعة القابلة قرأ بها حتى إذا جاء السجدة قال: يا أيها الناس! إنا نمر بالسجود فمن سجد فقد أصاب، ومن لم يسجد فلا إثم عليه، ولم يسجد عمر -رضي الله عنه. وزاد نافع، عن ابن عمر -رضي الله عنهما-: «إن الله لم يفرض السجود إلا أن نشاء». وهو في «الموطأ» (1/ 206 / 16)
বুখারী ১০৭৭।
রাবীআ’ বিন আব্দুল্লাহ আল হুদাইর থেকে বর্ণিত, উমার (রাঃ) এক জুমু’আহর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে সুরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর হতে নেমে সিজদা করলেন এবং লোকেরাও সিজদা করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমু’আহ এল, তখন তিনি সে সূরাহ পাঠ করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমরা যখন সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সিজদা করবে। সে ঠিকই করবে, যে সিজদা করবে না তার কোন গুনাহ নেই। তার বর্ণনায় (বর্ণনাকারী বলেন) আর ‘উমার (রাঃ) সিজদা করেননি। নাফি’ (রহঃ) ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে আরো বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সিজদা ফারয করেননি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সিজদা করতে পারি।
ولِلطَّبَرَانِيِّ فِي الصَّغِيرِ مِنْ حَدِيثِ عَلِيٍّ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ فِي تَنْزِيلٌ السَّجْدَةَ، لَكِنْ فِي إِسْنَادِهِ ضَعْفٌ " انتهى من "فتح الباري" (2/ 379) .
সারমর্মঃ উক্ত নামাজে রাসুল সাঃ সুরা আলিফ লাম মিম সাজদাহর সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করার পর সেজদাহ আদায় করতেন।
নামাজে সেজদার আয়াত তেলাওয়াত করলে সাথে সাথে সেজদায় চলে যাবে।
যদি সাথে সেজদায় না গিয়ে নামাজের রুকুতে চলে যায়,তাহলে সেই রুকুতে উক্ত সেজদা আদায়ের নিয়ত করলে সেই সেজদাহ আদায় হয়ে যাবে।
,
যদি তৎক্ষনাৎ সেজদাহ না করে,বরং আরো কিছু আয়াত পড়ার পর রাকাত শেষে রুকু,সেজদায় যায়,তাহলে রুকু বা সেজদায় গিয়ে উক্ত সেজদায়ে তেলাওয়াতের নিয়ত করলেই তা আদায় হয়ে যাবে।
নতুন করে উক্ত সেজদাহ আদায়ের প্রয়োজন নেই।
,
তবে এক্ষেত্রে নামাজের রুকু বা নামাজের সেজদার মাধ্যমে উক্ত সেজদাহ আদায়ের জন্য উক্ত সেজদাহ আদায়ের নিয়ত করতেই হবে।
বিস্তারিত জানুনঃ
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে সে রাকাতেই যদি সেজদায়ে তেলাওয়াত আদায় না করা হয়, তাহলে পরবর্তী কোনো রাকাতে আদায় করে নিবেন।
সালাম ফিরানোর পরেও যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের নিষিদ্ধ কোন কাজ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সেজদা আদায়ের সুযোগ আছে।
এরপরেও সেই সেজদাহ আদায় না করা হলে সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সেই সেজদাহ আদায়ের সুযোগ নেই।
এক্ষেত্রে আপনি গুনাহগার হবেন।
الدر المختار مع رد المحتار‘‘ :
"و يأثم بتأخيرها، و يقضيها مادام في حرمة الصلاة، ولو بعد السلام".
و في الرد: "(ويأثم بتأخيرها ...الخ)؛ لأنها وجبت بما هو من أفعال الصلاة، وهو القراءة و صارت من أجزائها، فوجب أدائها مضيقاً". (شامي، كتاب الصلاة، باب سجود التلاوة،٢/١١٠، ط:سعيد)
মর্মার্থঃ-
সেজদায়ে তেলাওয়াত আদায়ে দেরী হলে দেরী করার গুনাহ হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত নামাজের নিষিদ্ধ কোন কাজ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই সেজদা আদায়ের সুযোগ আছে, যদিও তা সালামের পরে হোক না কেন।
(০২)
এমন আওয়াজে বলবে যাতে করে এর আওয়াজ নিজের কান পর্যন্ত আসে। হ্যাঁ যদি ফ্যান বা অন্য কোন প্রতিবন্ধকতার কারণে আওয়াজ কান পর্যন্ত না আসে, এতে কোন সমস্যা নেই।
(০৩)
এক্ষেত্রে তার উপর সেজদায়ে তেলাওয়াত আবশ্যক হবেনা।
পবিত্র হওয়ার পরেও সেজদায়ে তেলাওয়াত আদায় করতে হবেনা।
(০৪)
ওই স্থান যদি ৭৮ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে হয়, সেক্ষেত্রে আপনি যাতায়াত পথে শহরের সীমানা ত্যাগ করার পর হতে আপনার এলাকার সীমানায় পৌঁছার আগ পর্যন্ত কসর নামাজ আদায় করবেন।
(০৫)
যেহেতু ১৫ দিনের আগেই আপনার ফিরে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুতরাং আপনি এখন কসর আদায় করবেন।
(০৬)
এক্ষেত্রে আপনি রাস্তায় চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ গুলি দুই রাকাত আদায় করবে।
(০৭)
এক্ষেত্রে রাস্তায় এবং ঐ স্থানে পূর্ণ সালাত আদায় করবেন।
(০৮)
এক্ষেত্রে তো কিলোমিটারের কোন নিয়ত জরুরী না, কিলোমিটার যা তা তো অবশ্যই তাই থাকবে। ৭৮ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে সফর করলে সেখানে গিয়ে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে কসর করতে হবে।
অন্যথায় কসর করার কোন সুযোগ নেই।
(০৯)
নবী ﷺ একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন।
অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি নাসিখ মানসুখ হয়,অর্থাৎ আগের হুকুমটি রহিত হয়ে পরেরটি কার্যকর হয়।
একই প্রশ্ন হলেও প্রশ্নকারীর বয়স জ্ঞান ঈমানের শক্তি তার পরিস্থিতি ভেদে নবী ﷺ ভিন্ন উত্তর দিয়েছেন।
কিছু এবাদতে একাধিক সহিহ পদ্ধতি রয়েছে। সবগুলোই রাসুল ﷺ নিজে করেছেন।
বর্ণনাকারীর স্মৃতি ও শব্দ ভিন্নতার কারণেও হাদিস দুই রকম বলে মনে হয়।
কোন হাদিস এমন আছে যে কোন রাবি সে হাদিস সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, আবার অন্য রাবী সে হাদিসটি বিস্তারিত আকারে বা ঘটনা আকারে বর্ণনা করেছেন।