ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তারাবীহ এর সালাত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানের উপর সুন্নাতে মুআক্কাদা। এবং জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদা আ'লাল কিফায়া।
ফেকহে হানাফির নির্ভর্যোগ্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে" বর্ণিত আছে,
وَنَفْسُ التَّرَاوِيحِ سُنَّةٌ عَلَى الْأَعْيَانِ عِنْدَنَا كَمَا رَوَى الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى - وَقِيلَ: تُسْتَحَبُّ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ. وَالْجَمَاعَةُ فِيهَا سُنَّةٌ عَلَى الْكِفَايَةِ، كَذَا فِي التَّبْيِينِ وَهُوَ الصَّحِيحُ، كَذَا فِي مُحِيطِ السَّرَخْسِيِّ.
তারাবীহ সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল আইন।যেমন ইমাম আবু-হানিফা থেকে হাসানের রেওয়াতে বর্ণিত আছে।কেউ কেউ অবশ্য মুস্তাহাব ও বলেছেন।তবে প্রথম অভিমতটাই অধিক গ্রহণযোগ্য।এবং জামাতের সাথে তারাবীহের সালাত আদায় করা সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল কিফায়া। এভাবেই "তাবয়ীনুল হাক্বাইক্ব" নামক কিতাবে বর্ণিত আছে। এবং "মুহিতে সারাখসীতে" বর্ণিত আছে।(ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া,১/১১৬)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/4047
তারাবিহ নামায বিশ রাকাত সুন্নতে মু'আক্কাদা।
لما فى رد المحتار مع الدر المختار:
"و الجماعة فيها سنة على الكفاية) في الأصح، فلو تركها أهل مسجد أثموا إلا لو ترك بعضهم.
(قوله: والجماعة فيها سنة على الكفاية إلخ) أفاد أن أصل التراويح سنة عين، فلو تركها واحد كره، بخلاف صلاتها بالجماعة فإنها سنة كفاية، فلو تركها الكل أساءوا؛ أما لو تخلف عنها رجل من أفراد الناس وصلى في بيته فقد ترك الفضيلة، وإن صلى أحد في البيت بالجماعة لم ينالوا فضل جماعة المسجد، وهكذا في المكتوبات، كما في المنية، وهل المراد أنها سنة كفاية لأهل كل مسجد من البلدة أو مسجد واحد منها أو من المحلة؟ ظاهر كلام الشارح الأول. واستظهر ط الثاني. ويظهر لي الثالث، لقول المنية: حتى لو ترك أهل محلة كلهم الجماعة فقد تركوا السنة وأساءوا. اهـ."(2/ 45، باب الوتر والنوافل، ط: سعید)
বাকি চার রাকাত পর এতটুকু সময় বসা মুস্তাহাব,যতক্ষণ সময় চার রাকাত নামায পড়তে সময় লেগেছে। সেই সময় নফল নামায পড়া,তাসবীহ পড়া, দরূদ পড়া,জিকির করা,কুরআন তিলাওয়ত করা,কিংবা চুপ করে বসে থাকা,মক্কায় হলে তওয়াফ করা সবই জায়েজ।নির্দিষ্ট কোন একটি কাজকে আবশ্যকীয় মনে করার কোন সুযোগ নেই। সুযোগ নেই নির্দিষ্ট কোন দুআকে জরুরী মনে করা।যেহেতু যেকোন দুআ ও দরূদ এ সময়ে পড়া যায়। সেই হিসেবে কিছু কিছু ফুক্বাহায়ে কেরাম এ সময়
سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ، سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ، سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ، لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ نَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، نَسْأَلُك الْجَنَّةَ وَنَعُوذُ بِك مِنْ النَّارِ
হামদ ও দুআটি পড়তে বলেছেন।এটা জরুরী,বা সুন্নত-মুস্তাহাব হিসেবে পড়তে বলেননি। বরং এসময় চুপ করে থাকার চেয়ে দুআ দরূদ, জিকির আজকার করা উচিত। সেই হিসেবে তারা একটি চমৎকার আল্লাহর হামদ এবং দুআর শব্দময় উক্ত বাক্যগুলো পড়তে বলেছেন।এটি পড়া যায়। কিন্তু সুন্নত-মুস্তাহাব বা জরুরী মনে করা যাবে না। না পড়লেও কোন সমস্যা নেই।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/14077
এক সালামে চার রা'কাত তারাবিতে প্রথম বৈঠক না করলে?
https://ifatwa.info/95810
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
তারাবীহ-র সালাতে ৪ রাকাত পূর্ণ করে বিশ্রাম নেওয়া মুস্তাহাব।
তারাবীহ সালাতের নির্দিষ্ট কোন মুনাজাত নেই। যেকোনো মুনাজাত করা যাবে। প্রসিদ্ধ মুনাজাতটি মুস্তাহাব।
২ রাকাত পর পর মুনাজাত করা লাগবে না।
তাসবীহ বলতে কোন নির্দিষ্ট তাসবীহ নেই। তবে ক্ষেত্রেভেদে নির্দিষ্টও হয়। তাসবিহ দ্বারা সুবহানাল্লাহ এবং তাহলীল দ্বারা লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা হয়ে থাকে।
২০ রাকাতে ২০ ভিন্ন সূরাই পড়া জরুরী নয়। যতটুকু জানা রয়েছে, সবখান থেকে কিছু কিছু কিছু পড়লেই হবে।
৪ রাকাত পর তাসবীহ পাঠ করা মুস্তাহাব।