আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
55 views
in পবিত্রতা (Purity) by (15 points)

একবোনের প্রায়ই স্বলাতের মধ্যে সাদা স্রাবের কারণে ওজু ভেঙে যায় আর কখন ওজু ভাঙছে এটা সবসময় বুঝতেও পারে না। লাস্ট কিছু দিন কয়েক কয়েক রকমের পরিস্থিতি হয়েছে। প্রথমত, ১ বার ওজু করলে এক ওজুতে যোহর ও আসর আসরের সম্পূর্ণ স্বলাত আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ১ বার ওজু করলে ১ ওজুতে আসর, মাগরিবের সম্পূর্ণ স্বলাত ও এশার ফরজ স্বলাত আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। তৃতীয়ত, ওজু করে এসে ফজরের ২ রাকাআত সুন্নাত নামাজও আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না,  সুন্নাত নামাজ শেষ করার আগেই ওজু ভেঙে গেছে। চতুর্থত, ওজু করে এসে আসরের ৪ রাকাআত ফরজ স্বলাত শেষ করার আগেই ওজু ভেঙে গেছে। এমনও হয়েছে সাদাস্রাব নির্গত হওয়ার কারণে ওয়াক্তের স্বলাত কাযা হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হলো:

১। এই বোন কি মাজুর? আর যদি মাজুর হয় তাহলে সব ওয়াক্তের নামাজের জন্যই মাজুর হিসেবে গন্য হবে ? নাকি শুধু যেই ওয়াক্তের স্বলাতের সুন্নাত বা ফরজ নামাজ দিয়ে শুরু করা হয়েছিল আর নামাজের মধ্যেই ওজু ভেঙে সেই ওয়াক্তের জন্য মাজুর হিসেবে গন্য হবে? 

২। যদি মাজুর না হয় তাহলে যেই ওয়াক্তের স্বলাতের সুন্নাত বা ফরজ নামাজ দিয়ে শুরু করা হয়েছিল আর নামাজের মধ্যেই ওজু ভেঙে সেই ওয়াক্তের স্বলাত কাযা করতে হবে?

৩। যদি মাজুর হিসেবে গন্য হয় তাহলে একবার ওজু করার পর ওজু না ভাঙলে পরবর্তী ওয়াক্তের স্বলাত গুলো আদায় করা যাবে? নাকি প্রতি ওয়াক্তের আগেই ওজু করতে হবে?

৪। যদি মাজুর হয় ও প্রতি ওয়াক্তের স্বলাতের আগে ওজু করা লাগলে তাহলে এক ওজুতে এতোদিন  ২-৩ ওয়াক্ত আদায় করা হয়েছে এগুলো আবার আদায় করা লাগবে?

৫। যদি বাসার টিউবওয়েলের পানিতে প্রচুর আয়রণ এই পানি ব্যবহার করার ফলে হাত ও পায়ের নক হলুদ হয়ে যায়। পরিষ্কার করার পরে কয়েকদিন পর পর নখ হলুদ হয়ে যায়। আয়রণের কারণে নখ হলুদ হয়ে গেলে ওজু হবে?

1 Answer

0 votes
by (770,190 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো,

شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-

শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

কোনো ব্যাক্তি মা'যুর প্রমানিত হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী ওয়াক্ত গুলোতে পুরো সময় উক্ত ওযর পাওয়া জরুরি নয়,বরং পরবর্তী প্রতি ওয়াক্তে এক বারও যদি উক্ত ওযর পাওয়া যায়,তাহলে সে মা'যুরই থাকবে।   
,
সুতরাং যদি কোনো একটি নামাযের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তথা  সম্পূর্ণ ওয়াক্ত আপনার এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে,উক্ত সমস্যা বন্ধ না হয়,বরং চলতেই থাকে,এই উযরের কারণে অল্প সময়ে ছোট সুরা দিয়ে হলেও ফরয নামায পড়া আপনার জন্য কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়,তাহলে আপনি মা'যুর। 
আপনি প্রতি ওয়াক্তের জন্য অযু করবেন,এই অযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের মধ্যে যত ইচ্ছা নামাজ আদায় করতে পারবেন।
(যদি অন্য কোনো অযু ভঙ্গকারী কিছু না পাওয়া যায়।)
,
পরবর্তী ওয়াক্তে আবার অযু করবেন
,
আর যদি আপনার ওযরটি এমন না হয়,তাহলে আপনি শরয়ী ভাবে মা'যুর প্রমাণিত হবেন না।

বিস্তারিত জানুনঃ  
,
মা'যুরের বিধান ইস্তেহাজা গ্রস্থ নারীর ন্যায়।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فَذَكَرَ خَبَرَهَا وَقَالَ " ثُمَّ اغْتَسِلِي ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ وَصَلِّي "

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তারপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সলাতের জন্য অযু করে সলাত আদায় করবে।
(আবু দাউদ ২৯৮.ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ ঋতুবতী নারীর হায়িযের ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে, হাঃ ৬২৪), আহমাদ (৬/৪২, ২৬২)

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم أَنْ تَنْتَظِرَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ

‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশের ইস্তিহাযা হলো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হায়িযের দিনসমূহে (সলাত ইত্যাদির জন্য) অপেক্ষা করার পর গোসল করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর অযু করে এক ওয়াক্ত সলাত আদায়ের পর রক্ত দেখা গেলে পরের ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অযু করে সলাত আদায় করতে বললেন।
(আবু দাউদ ৩০৫)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত বোন মা'যুর নন।

(০২) 

সেই ওয়াক্তের স্বলাতের কাযা আদায় করতে হবে।

(৩-৪) প্রশ্নের বিবরন মতে সে মা'যুর নয়।

(০৫) এক্ষেত্রেও অযু হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...