আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

+1 vote
1,073 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (-2 points)
closed by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, শাইখ

বিশ্বের কোন এক প্রান্তে যদি ঈদের চাঁদ দেখা যায় তাহলে কি সারাবিশ্ব ঈদ পালন করবে?
এব্যাপারে হানাফী মাযহাবের মুতামাদ কি?

এর সাথে সাথে বাকি মাযহাবের মতগুলাও জানতে চাচ্ছি..
closed

1 Answer

0 votes
by (805,290 points)
selected by
 
Best answer
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আলহামদুলিল্লাহ!
’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَأَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ لاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْا الْهِلاَلَ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানের কথা আলোচনা করে বললেনঃ চাঁদ না দেখে তোমরা সওম পালন করবে না এবং চাঁদ না দেখে ইফ্তার বন্ধ করবে না। যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় (ত্রিশ দিন) পরিমাণ পূর্ণ করবে। (সহীহ বোখারী-১৯০৬)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
উক্ত হাদীসে চাদ দেখে রোযা রাখা এবং চাদ দেখে রোযাকে ভঙ্গ করার কথা বলা হচ্ছে। 

সারা বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদ শীর্ষক মাস'আলা 
বাংলাদেশ সহ বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশী মতবিরোধ পূর্ণ বিষয়ের একটি। মুতা'আখখিরিন হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মাযহাব হলো,কোনো এক জায়গায় চাদ দেখা গেলে সারা বিশ্বের সবার জন্য ঈদ করা জরুরী নয়।বরং নিজ নিজ এলাকায় যখন চাদ দেখা যাবে,তখন সেখানে ঈদ করা হবে।জাহিরুর রেওয়াতের যে কথা উল্লেখ করা হয় যে,ইমাম আবু হানিফা রাহ বলেছেন,কোনো শহরে চাদ দেখা গেলে সমস্ত শহর এবং এলাকার উপর সেই চাদ দেখার ভিত্তিতে দিন তারিখ ঠিক করা ও ইবাদত করা ওয়াজিব, সেটা প্রমাণিত নয়।
ইমাম শা'ফেয়ী রাহ এর মাযহাব ও এ সম্পর্কে সংশয় মূলক।উনার মাযহাবের উযুহ তথা মুতা'আখখিরিন উলামায়ে কেরাম বলেন,কোনো এক জায়গায় চাদ দেখা গেলে নিকটবর্তী দূরবর্তী সমস্ত এলাকার জন্য সেই চাদের ভিত্তিতে দিন গণনা শুরু করতে হবে।ঠিক এ এভাবে মালিকী মাযহাব ও হাম্বলী মাযহাবের সিদ্ধান্ত।

মোটকথাঃ
কোথাও চাদ দেখা গেলে নিকটবর্তীরা সেই চাদের ভিত্তিতে আ'মল করবেন,এতে কারো দ্বিমত নেই।তবে দূরবর্তীদের জন্য কি করতে হবে? 
সে সম্পর্কে বিশদ ইখতেলাফ রয়েছে।চার মাযহাবের ইখতিলাফ তো আছেই, এমনকি প্রত্যেক মাযহাবের ভিতরের উলামাদের মধ্যেও বিতর্ক রয়েছে।
আমাদের বাংলাদেশে হানাফি ফিকহ অনুযায়ী চাঁদ দেখে রোযা এবং চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করার নিয়ম চলে আসছে।তবে অন্যান্য কতিপয় দেশ সৌদিকে ফলো করে থাকে।

সারা বিশ্বে একই দিনে রোযা ও ঈদঃ চার মাযহাব কি বলে? শীর্ষক একটি ফেকহী প্রবন্ধ লিখেছেন,বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ট ফকিহদের একজন,মাওলানা মোহম্মাদ  আব্দুল মালেক দাঃ বাঃ। সেখানে তিনি এ বিষয়ের চুলছেড়া গবেষনা করছেন। সেই তাত্বিক আলোচনা দ্রষ্টব্য।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...