আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
275 views
in সুন্নাহ-বিদ'আহ (Sunnah and Bid'ah) by (51 points)
লাইয়াতুন নিসফি মিন শা'বান সম্পর্কিত হাদিসে
অন্তরে বিদ্বেষ পোষণকারী দ্বারা উদ্দেশ্য কি?

........................................................................................................................................................................................................

1 Answer

0 votes
by (757,350 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আবু মুসা আশআরী রাযি থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ»
নবীজী সাঃ বলেন, শা'বান মাসের মধ্যরাতে(তথা ১৫তারিখে) আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের প্রতি নিবিষ্ট হন, মুশরিক এবং মুশাহিন ব্যতীত(ক্ষমা প্রার্থী)সমস্ত মাখলুকাত কে ক্ষমা করে দেন।(সুনানে ইবনে মাজা-১৩৯০)

হযরত মু'আয ইবনে জাবাল রাযি থেকে বর্ণিত,
عن ﻣﻌﺎﺫ ﺑﻦ ﺟﺒﻞ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ( ﻳﻄﻠﻊ ﺍﻟﻠﻪ ﺇﻟﻰ ﺧﻠﻘﻪ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻴﻐﻔﺮ ﻟﺠﻤﻴﻊ ﺧﻠﻘﻪ ﺇﻻ ﻟﻤﺸﺮﻙ ﺃﻭ ﻣﺸﺎﺣﻦ )
নবীজী সাঃ বলেন, শা'বান মাসের মধ্যরাতে(তথা ১৫তারিখে) আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের প্রতি নিবিষ্ট হন, মুশরিক এবং মুশাহিন ব্যতীত(ক্ষমা প্রার্থী)সমস্ত মাখলুকাত কে ক্ষমা করে দেন। (ইবনে হিব্বান-১২/৪৮১, তাবারানী-২০/১০৯)
তুহফাতুল আহওয়াজি-৭৩৯নং হাদীসের আলোচনা দ্রষ্টব্য।

হাদীসে বর্ণিত মুশরিক দ্বারা উদ্দেশ্য হল, ঐ ব্যক্তি যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করে।
আর "মুশাহিন" দ্বারা উদ্দেশ্য কি?
এ সম্পর্কে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের বক্তব্য নিম্নরূপঃ-


বিশিষ্ট আরবী লুগাহবিদ ইমাম ইস্পাহানি রাহ বলেনঃ
" ﻋﻦ ﻋُﻤﻴﺮ ﺑﻦ ﻫﺎﻧﺊ ﻗﺎﻝ : " ﺳﺄﻟﺖ ﺍﺑﻦ ﺛﻮﺑﺎﻥ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﺸﺎﺣﻦ، ﻓﻘﺎﻝ : ﻫﻮ ﺍﻟﺘﺎﺭﻙ ﻟﺴﻨﺔ ﻧﺒﻴﻪ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠّٰﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﺍﻟﻄﺎﻋﻦ ﻋﻠﻰ ﺃﻣﺘﻪ، ﺍﻟﺴﺎﻓﻚ ﻟﺪﻣﺎﺋﻬﻢ ."
উমাইর ইবনে হানী একবার ইবনে সাওবানকে মুশাহিন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে প্রতিউত্তরে তিনি বল্লেন,মুশাহিন সেই ব্যক্তি যে নবীজী সাঃ এর সুন্নাহকে ছেড়ে দিয়েছে,এবং যে নবীজী সাঃ এর উম্মতকে গালিগালাজ করে,এবং তাদের রক্তকে প্রবাহিত করার চেষ্টায় থাকে। (আত-তারগীব ওয়াত-তারহিব-২/৩৯৭)



ইমাম তাবারানী-রাহ বলেনঃ
" ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﻋَﺒْﺪَ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﺑْﻦَ ﺃَﺣْﻤَﺪَ ﺑْﻦِ ﺣَﻨْﺒَﻞٍ - ﺭﺣﻤﻬﻢ ﺍﻟﻠّٰﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ - ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺃَﺑِﻲ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻓِﻲ ﻣَﻌْﻨَﻰ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ - ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠّٰﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠﻢ :- ( ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّٰﻪَ - ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ - ﻳَﻄَّﻠِﻊُ ﻓِﻲ ﻟَﻴْﻠَﺔِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﻋِﺒَﺎﺩِﻩِ ﻓَﻴَﻐْﻔِﺮُ ﻷَﻫْﻞِ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺇِﻻ ﻟِﻤُﺸْﺮِﻙٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺸَﺎﺣِﻦٍ ) ، ﻗَﺎﻝَ : ﺍﻟْﻤُﺸَﺎﺣِﻦُ؛ ﻫُﻢْ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺒِﺪَﻉِ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳُﺸَﺎﺣِﻨُﻮﻥَ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻹِﺳْﻼﻡِ ﻭَﻳُﻌَﺎﺩُﻭﻧَﻬُﻢْ ."
আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ কে বলতে শুনেছি,তিনি বলেনঃ আমি আমার বাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা শা'বান মাসের মধ্যরাতে তার বান্দাদের প্রতি নিবিষ্ট হন,মুশরিক এবং মুশাহিন ব্যতীত(ক্ষমা প্রার্থী)সমস্ত মাখলুকাত কে ক্ষমা করে দেন। আহমদ ইবনে হাম্বল বলেনঃ মুশাহিন হল বেদআতপন্থী যারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে। (আদ্দু'আ -১/১৯৫)

ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺍﻷﺛﻴﺮ : " ﺍﻟﻤﺸﺎﺣﻦ : ﻫﻮ ﺍﻟﻤﻌﺎﺩﻱ؛ ﻭﺍﻟﺸﺤﻨﺎﺀ : ﺍﻟﻌﺪﺍﻭﺓ، ﻭﺍﻟﺘﺸﺎﺣﻦ : ﺗﻔﺎﻋﻞ ﻣﻨﻪ"
ইবনুল আছীর রাহ বলেনঃ মুশাহিন দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে "শত্রু"। (আন-নেহায়া ফি গারিবিল আসরি-২/১১১১)

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻷﻭﺯﺍﻋﻲ : " ﺃﺭﺍﺩ ﺑﺎﻟﻤﺸﺎﺣﻦ ﻫﺎ ﻫﻨﺎ ﺻﺎﺣﺐ ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﺍﻟﻤﻔﺎﺭﻕ ﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﺍﻷﻣﺔ ."
ইমাম আওযায়ী রাহ বলেনঃমুশাহিন দ্বারা বেদআতী ঐ জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে যারা মুসলিম উম্মাহকে পরিত্যাগ করে চলে। (সিলসিলাতুল আহাদিসিস সাহিহা-১৫৬৩)

মোল্লা আলী কারী রাহ বলেনঃ
(مشاحن) ، أي: مباغض ومعاد لأحد، لا لأجل الدين، والحاصل أنه تعالى يسامح عباده في تلك الليلة عن حقوقه إلا الكفر به، وما يتعلق به حقوق عبيده، فإنه يؤخرهم إلى أن يتوب عليهم أو يعذبهم، قال الطيبي: الشحناء العداوة والبغضاء، ولعل المراد التي تقع بين المسلمين من قبل النفس الأمارة بالسوء إلا للدين، ولا يأمن أحدهم أذى صاحبه من يده ولسانه ; لأن ذلك يؤدي إلى القتل، وربما ينتهي إلى الكفر إذ كثيرا ما يحمل على استباحة دم العدو وماله، ومن ثم قرن المشاحن في الرواية الأخرى بقاتل النفس، وكلاهما تهديد على سبيل التغليظ. (رواه ابن ماجه) ، أي: عن أبي موسى.
বঙ্গানুবাদঃ-
মুশাহিন অর্থ কারো ব্যপারে বিদ্বেষপরায়ণ,হিংসুক উদ্দেশ্য তবে দ্বীন বা ধর্মের জন্য নয়।মোটকথাঃ অাল্লাহ তা'আলা ঐ রাত্রে বান্দাদেরকে কুফুরী ব্যতীত উনার সমস্ত হক্ব সমূহকে ক্ষমা করে দেন।আর বান্দার হক্ব সমূহকে তিনি ঐ রাত্রে ক্ষমা করবেন না বরং পিছিয়ে রাখবেন যতক্ষণ না তাদের তাওবাহকে আল্লাহ ক্ষমা করছেন বা তাদেরকে শাস্তি দিচ্ছেন।
ইমাম তিবী রাহ বলেনঃالشحناء শব্দের অর্থ হল শত্রুতা এবং বিদ্বেষপরায়ণতা সম্ভবত উদ্দেশ্য হল,নফসে আম্মারা প্ররোচনায় মুসলমানদের অন্তরে হিংসাপরায়ণতা ও বিদ্বেষপরায়ণতা উপস্থিত হওয়া।তবে দ্বীনের কারণ ব্যতীত।কেননা এক্ষেত্রে কেউ কারো-র কষ্ট থেকে নিরাপধ থাকে না।বরং এমনকি তা হত্যার দিকে পর্যন্ত ও নিয়ে যায়।এবং অনেক সময় তা কুফুর পর্যন্ত অতিক্রম করে। এমনকি হিংসা অনেক সময় কারো জান বা মাল কে বৈধ ধারণা করতে উদ্ধুলিত করে। এ জন্যই অন্য এক বর্ণনায় মুশাহিন(হিংসা-বিদ্ধেষ)কে হত্যার সাথে মিলিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এ দু'টুকে অধিক সতর্কতাজনিত কারণে নিষেধাজ্ঞা মূলক বর্ণনা করা হয়েছে।
{মিরকাত শরহে মিশকাত-৩/৯৭৫}

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
মুশাহিন শব্দ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের গবেষণাপূর্ণ বক্তব্য সমূহের আলোকে আমরা বলতে পারি 

মুশাহিন দু প্রকার ব্যক্তিকে বলা হয়,
(১) সেই ব্যক্তি যে সর্বদা ইসলাম ও মুসলমানদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে থাকে।
(২)কু-প্রবৃত্তির প্ররোচনায় একে অন্যর সাথে হিংসা- বিদ্ধেষ মূলক মনোভাব পোষণকারী ব্যক্তি

সুতরাং উক্ত দু-প্রকার ব্যক্তিকে আল্লাহ কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 284 views
...