🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

বউ শশুড়ের মাথা টিপে দেয় নখ কেটে দেয়। এক্ষেত্রে শশূড় কে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না। এতে কি ছেলের গুনাহ হবে। হুরমত হয়ে যাবে? কারন ছেলের পক্ষে বাবাকে জিজ্ঞেস করা বা কাউকে দয়াও সম্ভব না।
প্রশ্ন: বউ শশুরের মাথা টিপে দেয় নখ কেটে দেয়। এক্ষেত্রে শশূরকে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না। এতে কি ছেলের গুনাহ হবে। হুরমত হয়ে যাবে? কারন ছেলের পক্ষে বাবাকে জিজ্ঞেস করা বা কাউকে দেয়াও সম্ভব না।

---

بسم الله الرحمن الرحيم

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

হ্যাঁ, স্ত্রীর জন্য শ্বশুরকে মাথা টিপে দেওয়া বা নখ কেটে দেওয়া জায়েজ, এবং এতে ছেলের কোনো গুনাহ হবে না। এটি কোনো "হুরমত" (হারাম বা পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়) নয়।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল:

১. শ্বশুর-পুত্রবধূর মাহরাম সম্পর্ক:
ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, শ্বশুর তার পুত্রবধূর জন্য "মাহরাম" (Mahram)। অর্থাৎ, তাদের মধ্যে বৈবাহিক সূত্রে চিরস্থায়ী মাহরামিয়্যাত (محرمية مؤبدة) প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে যেসব নারীদের বিবাহ করা হারাম করেছেন তাদের মধ্যে পুত্রবধূরাও অন্তর্ভুক্ত:

কুরআনুল কারীম:
وَحَلَائِلُ أَبْنَائِكُمُ الَّذِينَ مِنْ أَصْلَابِكُمْ
"এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীগণকে (বিবাহ করা তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে)।" (সূরা নিসা, ৪:২৩)

এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পুত্রবধূ শ্বশুরের জন্য মাহরাম। মাহরাম হওয়ার কারণে তাদের মধ্যে নির্জনতা (খুলওয়াহ) এবং শরীরের সেসব অংশে স্পর্শ করা জায়েজ যা সাধারণত মাহরামের সামনে প্রকাশ করা অনুমোদিত।

২. আওরাত ও স্পর্শের বিধান:
মাথা এবং হাত (যেখানে নখ কাটা হয়) আওরাতের (যা ঢেকে রাখা ফরজ) অন্তর্ভুক্ত নয়। একজন স্ত্রী তার মাহরাম শ্বশুরের মাথা বা হাত স্পর্শ করতে পারেন, বিশেষ করে যদি তা সেবামূলক উদ্দেশ্যে হয় এবং সেখানে কোনো প্রকার ফিতনার (যৌন আকর্ষণ বা অন্য কোনো খারাপ চিন্তা) আশঙ্কা না থাকে।

ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী (আল-হিন্দিয়া):
"وَلَا بَأْسَ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَمْسَحَ رَأْسَ أَبِيهَا وَأَخِيهَا وَابْنِهَا وَزَوْجِهَا وَمَحَارِمِهَا وَأَنْ تَرَى مِنْهُمْ مَا يَرَاهُ الرَّجُلُ مِنْ الرَّجُلِ إِذَا لَمْ تَكُنْ شَهْوَةٌ"
অর্থাৎ, "নারীর জন্য তার পিতা, ভাই, পুত্র, স্বামী এবং তার মাহরাম পুরুষদের মাথা স্পর্শ করা এবং তাদের কাছ থেকে ততটুকু দেখা জায়েজ, যতটুকু একজন পুরুষ অপর পুরুষের কাছ থেকে দেখতে পারে, যদি কোনো প্রকার শাহওয়াত (যৌন কামনা) না থাকে।" (ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, বাবুল আওরাত)
যদিও এখানে সরাসরি শ্বশুর শব্দ উল্লেখ নেই, তবে মাহরাম হওয়ার বিধান এক।

৩. ফিতনার আশঙ্কা:
সাধারণত, বয়স্ক শ্বশুর ও পুত্রবধূর ক্ষেত্রে সেবামূলক কাজে ফিতনার আশঙ্কা কম থাকে। যদি বাস্তবিক অর্থেই কোনো প্রকার ফিতনার (যৌন আকর্ষণ বা খারাপ চিন্তা) সামান্যতম আশঙ্কাও না থাকে, তাহলে এই ধরনের সেবামূলক কাজ সম্পূর্ণ জায়েজ। তবে, ইসলামী শরীয়ত সবসময় সংযম ও সতর্কতার পরামর্শ দেয়। যদি এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা ফিতনার কারণ হতে পারে, তাহলে সেবামূলক কাজটি অন্য কোনো মাহরামের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত।

৪. ছেলের গুনাহ ও হুরমত:
এই কাজটি যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ, তাই ছেলের কোনো গুনাহ হবে না। এটি কোনো "হুরমত" (অর্থাৎ, হারাম বা পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়) নয়, বরং মাহরাম সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সেবা ও শ্রদ্ধার অংশ হতে পারে, বিশেষ করে যখন শশুরের সেবা করার মতো অন্য কোনো বিকল্প (যেমন বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞেস করা বা অন্য কাউকে বলা) ছেলের জন্য সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছেলের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে, তার পরিবারের সকল সদস্য শরীয়তের সীমারেখা মেনে চলছে।

সারসংক্ষেপ:

স্ত্রীর জন্য মাহরাম শ্বশুরকে মাথা টিপে দেওয়া বা নখ কেটে দেওয়া জায়েজ। এতে ছেলের কোনো গুনাহ হবে না এবং এটি কোনো হুরমত নয়, যদি ফিতনার (যৌন আকর্ষণ) আশঙ্কা না থাকে।

এক রেফারেন্স:
ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া), কিতাবুল কারাহিয়্যাহ, বাবুল আওরাত।

---
والله أعلم بالصواب
(আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন)