বউ শশুড়ের মাথা টিপে দেয় নখ কেটে দেয়। এক্ষেত্রে শশূড় কে জিজ্ঞেস করা সম্ভব না। এতে কি ছেলের গুনাহ হবে। হুরমত হয়ে যাবে? কারন ছেলের পক্ষে বাবাকে জিজ্ঞেস করা বা কাউকে দয়াও সম্ভব না। প্রশ্ন ছিলো যদি আল্লাহ না করুক হুরমত হয়ে যায়। ছেলে জিজ্ঞেস করে নাই বাবা কে। এক্ষেত্রে ছেলের গুনাহ হবে?
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি ফিকহের সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
মূলনীতি:
ইসলামী শরীয়তে শাশুড় (বউয়ের বাবা) এবং পুত্রবধূ (ছেলের স্ত্রী) হলেন 'মাহরাম' (যাদের মধ্যে বিবাহ চিরস্থায়ীভাবে হারাম)। এই মাহরাম সম্পর্ক হওয়ার কারণে তারা একে অপরের সাথে দেখা করতে পারেন, কথা বলতে পারেন এবং পর্দার কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ বা অন্তরঙ্গতা সম্পূর্ণরূপে অনুমোদিত।
মাসয়ালা অনুযায়ী উত্তর:
১.
শারীরিক স্পর্শের বিধান: মাহরামদের মধ্যে, যেমন শাশুড় ও পুত্রবধূর মধ্যে, যদি এমনভাবে শারীরিক স্পর্শ হয় যা সাধারণত 'শাহওয়াত' (যৌন উত্তেজনা বা কামোদ্দীপনা) সৃষ্টি করে না এবং উদ্দেশ্যও কেবল সেবা বা প্রয়োজনীয় কাজ, তাহলে তা
মূলত না-জায়িয নয়। যেমন: হাতে কিছু ধরিয়ে দেওয়া বা প্রবীণ শাশুড়ের সামান্য সেবা করা।
২.
মাথা টিপে দেওয়া ও নখ কেটে দেওয়ার বিষয়টি: মাথা টিপে দেওয়া বা নখ কেটে দেওয়ার মতো কাজগুলো সাধারণত সেবামূলক কাজ হিসেবে বিবেচিত। যদি এই কাজগুলো কোনো 'শাহওয়াত' বা ফিতনার (ফ্যাসাদ/যৌন প্রলোভনের) উদ্দেশ্য ছাড়া, শালীনতা ও সতর্কতার সাথে করা হয় এবং স্পর্শকারী বা যাকে স্পর্শ করা হচ্ছে - কারো মনেই কোনো ধরনের যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, তাহলে
এতে সাধারণত 'হুরমত' (বিবাহ হারাম হয়ে যাওয়া) প্রতিষ্ঠিত হয় না।
৩.
'হুরমত' কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, 'হুরমত-ই-মুসাফারাত' (বিবাহের কারণে হারাম হওয়া) তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন পুত্রবধূ বা শাশুড়ের মধ্যে এমনভাবে শারীরিক স্পর্শ ঘটে (যেমন: চুম্বন, আলিঙ্গন অথবা শরীরের এমন স্থানে স্পর্শ যা সাধারণত যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে) এবং এই স্পর্শের সময় স্পর্শকারী বা যাকে স্পর্শ করা হচ্ছে, তাদের কারো মনে 'শাহওয়াত' (যৌন উত্তেজনা বা কামনা) তৈরি হয়। শাহওয়াত বলতে এমন অনুভূতি বোঝায় যখন মন যৌনতার দিকে ধাবিত হয় বা শারীরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
৪.
ছেলের গুনাহ হবে কিনা?
আপনার প্রশ্নে বলা হয়েছে যে, শশূড়কে বা অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করা সম্ভব নয় এবং ছেলের পক্ষেও বাবাকে জিজ্ঞেস করা বা হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে:
- যদি ছেলে নিশ্চিত না হয় যে এই স্পর্শে 'শাহওয়াত' জড়িত ছিল এবং তার কাছে কোনো প্রমাণ বা জোরালো সন্দেহ না থাকে, তাহলে তার সরাসরি গুনাহ হবে না। কারণ, হুরমত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শাহওয়াতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন, যা এখানে কঠিন।
- তবে, যেহেতু এই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এতে তার নিজের বিবাহ হারাম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই ছেলের উপর এটি নিশ্চিত করার নৈতিক এবং শরয়ী দায়িত্ব বর্তায় যে তার স্ত্রী এবং বাবার মধ্যে যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হয় যা হুরমত পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।
- যদি ছেলের মনে জোরালো সন্দেহ থাকে যে শাহওয়াত জড়িত, কিন্তু সে হস্তক্ষেপ করতে পারছে না, তাহলে তার গুনাহ হতে পারে কারণ সে তার বিবাহকে হারাম হওয়া থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করেনি। এই ক্ষেত্রে তাকে অন্য কোনো পরোক্ষ উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যেমন - স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলা যে শাশুড়ের সেবার জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যায় কিনা, অথবা সে নিজে শাশুড়ের সেবা করার চেষ্টা করবে।
সারসংক্ষেপ:
শাশুড় ও পুত্রবধূর মধ্যে মাথা টিপে দেওয়া বা নখ কেটে দেওয়ার মতো সেবামূলক কাজগুলি যদি কোনো শাহওয়াত ছাড়া সম্পন্ন হয়, তাহলে এতে 'হুরমত' প্রতিষ্ঠিত হবে না এবং ছেলের গুনাহও হবে না। তবে, যেহেতু এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাই যেকোনো ধরনের সন্দেহ বা ফিতনা এড়ানোর জন্য এই ধরনের শারীরিক স্পর্শ থেকে বিরত থাকাই উত্তম। যদি এর মাধ্যমে শাহওয়াত সৃষ্টি হয়, তবেই হুরমত প্রতিষ্ঠিত হবে। ছেলের উচিত পরোক্ষভাবে হলেও সতর্ক থাকা এবং পরিস্থিতি যেন খারাপ দিকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
রেফারেন্স:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আল-ফাতাওয়া আল-আলমগীরিয়াহ), খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৩: "والحرمة تثبت بالمساس بشهوة من الجانبين أو من أحدهما، والمراد بالشهوة ميل النفس إلى اللذة، وتحققها لا يختص بالرجال بل بالنساء أيضاً." (অর্থ: এবং 'হুরমত' (হারাম হওয়া) উভয় পক্ষের বা কোনো এক পক্ষের শাহওয়াত সহ স্পর্শের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। শাহওয়াত বলতে আনন্দ বা কামনার দিকে মনের ঝোঁক বোঝায়, এবং এর বাস্তবায়ন শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।)