🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি বিবাহিত বাংলাদেশের মেয়েরা দ্বিতীয় বিবাহ করতে চায় না যদি কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে নিজের বিয়ের কথা গোপন করে দেখা করার কথা বলে নিয়ে এসে আমি কয়েকজন লোক আমি রেডি করে রাখি যে আমাদের ধরে বিয়ে পরিয়ে দিবে এরকম করলে কোন ধরনের গুনাহ হবে
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি ফিকহের আলোকে আপনার বর্ণিত এই ধরনের কাজ ইসলামে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ ও গুরুতর গুনাহ। এর কয়েকটি দিক নিম্নরূপ:

1. প্রতারণা ও মিথ্যাচার: নিজের বৈবাহিক অবস্থা গোপন করা এবং মিথ্যা বলে কোনো নারীকে ডেকে আনা সুস্পষ্ট প্রতারণা ও মিথ্যাচার, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে মিথ্যাচার ও প্রতারণা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

2. জোরপূর্বক বিবাহ (Ikrah): সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো, কোনো নারীকে তার সম্মতি ছাড়া, জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা। ইসলামে বিবাহ সহিহ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রী উভয়ের স্বাধীন ও সুস্পষ্ট সম্মতি অত্যাবশ্যক। জোরপূর্বক সম্পন্ন করা কোনো বিবাহ ইসলামে বৈধ নয় এবং তা শরিয়াহ অনুযায়ী বাতিল বলে গণ্য হবে। এর ফলে সৃষ্ট সম্পর্ক হালাল হবে না, বরং তা হারাম হিসেবে বিবেচিত হবে।

3. ইসলামী শরিয়াহ লংঘন: বিবাহের মৌলিক শর্ত (যেমন - উভয় পক্ষের সম্মতি) লংঘন করে এ ধরনের কাজ শরিয়াহর সুস্পষ্ট লংঘন।

গুনাহের প্রকার: এটি শুধু একটি সাধারণ গুনাহ নয়, বরং কয়েকটি গুরুতর গুনাহের সমষ্টি। এর মধ্যে রয়েছে:


রেফারেন্স:
বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"لاَ تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ"
অর্থাৎ: "পূর্বে বিবাহিতা নারীর অনুমতি না নিয়ে তাকে বিবাহ করা যাবে না এবং কুমারী নারীর সম্মতি না নিয়ে তাকে বিবাহ করা যাবে না।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নং: ৫১৩৬)

এই হাদিস স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, বিবাহে নারীর পূর্ণ ও স্বাধীন সম্মতি অত্যাবশ্যক। জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে কোনো নারীকে বিবাহে বাধ্য করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও বাতিল। এই ধরনের কাজের জন্য মহান আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহি করতে হবে এবং এর জন্য খালেস তওবা (অনুশোচনা, ক্ষমা চাওয়া ও ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার অঙ্গীকার) করা ওয়াজিব।