🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

বউ যদি শশুরের মাথা সবার সামনে টিপে দেয় নখ কেটে দেয় তাহলে হুরমত এর সব্দেহ করতে হবে? জিজ্ঞেস করতেই হবে কামভাব ছিলো কিনা। কারন বউ সবার সামনে টিপছে আর কামনা দেখে নাই। বেটা ফতোয়া তে সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করতে কইছে ঢালাও ভাবে না। আর জিজ্ঞেস করলে সম্পর্ক নষ্ট হবে শশুড় অন্তত বাসার সবার সাথে ৈনতিক মেয়ের চোখে দেখে ছেলের বউ কে
ইফাতওয়া.ইনফো এবং অন্যান্য প্রামাণ্য হানাফি ফতোয়ার গ্রন্থ অনুযায়ী, হুরমত মুসাহারাহ (বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা) স্থাপিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হতে হয়। স্পর্শের ক্ষেত্রে মূল শর্ত হলো ‘কামভাব’ (শাহওয়াত) এর উপস্থিতি।

আপনার জিজ্ঞাসিত বিষয়টির সংক্ষিপ্ত হানাফি উত্তর এবং বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
না, বউ যদি শশুরের মাথা সবার সামনে টিপে দেয় বা নখ কেটে দেয়, এবং তাতে কোনো কামভাব (শাহওয়াত) দেখা না যায়, তাহলে স্রেফ এই কাজের জন্য হুরমতের সন্দেহ করতে হবে না এবং কামভাব ছিল কিনা তা জিজ্ঞেস করারও প্রয়োজন নেই। পারিবারিক সম্পর্কের দিকে লক্ষ্য রেখে অযথা সন্দেহ সৃষ্টি করা বা প্রশ্ন করা ইসলামসম্মত নয়, বিশেষত যখন কাজের প্রকৃতি ও পরিবেশ কামভাবের ইঙ্গিত দেয় না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স:

1. হুরমত মুসাহারাহ এবং কামভাব (শাহওয়াত):
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, শাশুড়ির সাথে জামাইয়ের বা শশুরের সাথে পুত্রবধূর স্পর্শের কারণে বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা (হুরমত মুসাহারাহ) স্থাপিত হয় যদি সেই স্পর্শের সময় কোনো একজনের (স্পর্শকারী বা যাকে স্পর্শ করা হয়েছে) মনে কামভাব (শাহওয়াত) জাগ্রত হয়। কামভাব বলতে পুরুষের ক্ষেত্রে ইন্তিশার (উত্থান) অথবা উষ্ণতা ও কামনার তীব্র অনুভূতি এবং নারীর ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি বা কামোত্তেজনা বোঝায়।

2. সন্দেহ (শুবহা) এবং প্রশ্ন করার প্রয়োজনীয়তা:
কামভাব ছিল কিনা তা ‘জিজ্ঞেস করতেই হবে’— এমনটা তখনই প্রযোজ্য যখন স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত, লক্ষণ বা জোরালো সন্দেহ থাকে। যেমন:
* যদি স্পর্শটি নির্জনে, দীর্ঘক্ষণ ধরে, বা গোপনীয়ভাবে শরীরের এমন কোনো অংশে হয় যা সাধারণত কামোত্তেজক বলে বিবেচিত (যেমন: উরুর ভেতরের অংশ, গোপন অঙ্গের আশেপাশে, পোশাকের নিচ দিয়ে)।
* যদি স্পর্শের সাথে কামোদ্দীপক কথাবার্তা বা অঙ্গভঙ্গি থাকে।
* যদি স্পর্শকারী বা যাকে স্পর্শ করা হয়েছে, তাদের উভয়ের মধ্যে বা একজনের মধ্যে স্পষ্ট কামভাবের লক্ষণ দেখা যায়।

3. বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষণ:
আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতিতে:
* "বউ সবার সামনে টিপছে আর কামনা দেখে নাই": এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু কাজটি ‘সবার সামনে’ হচ্ছে, এটি স্বভাবতই কামভাবের সম্ভাবনাকে অনেক কমিয়ে দেয়। সাধারণত, মানুষ জনসম্মুখে এমন কোনো কাজ করে না যা কামোদ্দীপক বা যার মধ্যে কামভাব জড়িত। উপরন্তু, যেহেতু 'কামনা দেখা যায় নি', তাই বাহ্যিকভাবে কোনো কামভাবের অস্তিত্ব নেই।
* কাজের প্রকৃতি: মাথা টিপে দেওয়া বা নখ কেটে দেওয়া সাধারণত সেবা, শুশ্রূষা, শ্রদ্ধা বা স্নেহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গণ্য হয়, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এগুলো সহজাতভাবে কামোত্তেজক কাজ নয়।
* "শশুড় অন্তত বাসার সবার সাথে ৈনতিক মেয়ের চোখে দেখে ছেলের বউ কে": এই অনুভূতিটি পারিবারিক বন্ধন ও শ্রদ্ধার পরিচায়ক এবং কামভাবের অনুপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করে।

এই পরিস্থিতিতে, কেবল সন্দেহের বশে হুরমত স্থাপিত হয় না। হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো, যে বিষয়ে হুরমত সাব্যস্ত হওয়া নিয়ে সন্দেহ থাকে, সে বিষয়ে মূল বৈবাহিক সম্পর্ককে বহাল রাখা হয়, যতক্ষণ না হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার নিশ্চিত বা প্রবল কারণ পাওয়া যায়।

4. জিজ্ঞেস করলে সম্পর্কের ক্ষতি:
আপনার উত্থাপিত এই পয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অহেতুক এমন প্রশ্ন করলে পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, শাশুড় অন্তত বাড়ির সবার কাছে বউকে ‘নৈতিক মেয়ের চোখে’ দেখতে ব্যর্থ হতে পারে এবং তা অনাকাঙ্ক্ষিত কলহ সৃষ্টি করতে পারে। ইসলাম অযথা সন্দেহ সৃষ্টি করে সম্পর্ক নষ্ট করার অনুমতি দেয় না, বিশেষত যখন বাহ্যিকভাবে কোনো খারাপের ইঙ্গিত নেই।

উপসংহার:
হানাফি ফিকহে এই ধরনের ক্ষেত্রে, যদি না স্পর্শটি এমনভাবে করা হয় যা স্বাভাবিকভাবে কামোত্তেজক এবং তার সাথে বাহ্যিক কোনো কামভাবের লক্ষণও দেখা না যায়, তবে কেবল সন্দেহের বশে হুরমত স্থাপিত হয় না এবং প্রশ্ন করারও প্রয়োজন নেই। হুরমত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য নিশ্চিত বা প্রবল ধারণাগত কামভাব অপরিহার্য। এখানে যেহেতু কাজটি প্রকাশ্যে এবং সেবামূলক, তাই হুরমতের সন্দেহ করার বা জিজ্ঞেস করার অবকাশ নেই।

রেফারেন্স: