🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

কিনায়া তালাকের নিয়ত কি সব সময় মনে করার দরকার আছে? মনে মনে আওয়াজ না করে মুখ ঠোট জিহবা নেড়ে তালাক দিছিলো এখন আওয়াজ এর কথা মনে নাই তাইলে আয়নার সামনে আওয়াজ টেস্ট করতে হবে?রেগুলার
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি মাজহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং ১টি রেফারেন্স নিচে দেওয়া হলো:

১. কিনায়া তালাকের নিয়ত কি সব সময় মনে করার দরকার আছে?

হ্যাঁ, কিনায়া (অস্পষ্ট বা পরোক্ষ) তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (উদ্দেশ্য) তালাকের শব্দ উচ্চারণের ঠিক সময়েই উপস্থিত থাকা আবশ্যক। যদি কোনো ব্যক্তি অস্পষ্ট শব্দ (যেমন: "তুমি তোমার পরিবারের কাছে যাও", "তুমি মুক্ত") উচ্চারণ করে, কিন্তু সেই মুহূর্তে তালাকের নিয়ত না থাকে, এবং পরে সে তালাকের নিয়ত করে, তাহলে তা তালাক হিসাবে গণ্য হবে না। নিয়ত এবং শব্দ উচ্চারণ একই সময়ে হতে হবে।

রেফারেন্স:
"إذا تكلم بالكناية و لم ينو الطلاق في الحال، ثم نوى بعد ذلك، لم يقع الطلاق."
অর্থাৎ: "যখন সে (স্বামী) কিনায়া শব্দে কথা বলল এবং তাৎক্ষণিক তালাকের নিয়ত করল না, এরপর সে নিয়ত করল, তাহলে তালাক পতিত হবে না।"
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক, বাবুল কিনায়া)

২. মনে মনে আওয়াজ না করে মুখ ঠোঁট জিহবা নেড়ে তালাক দিছিলো এখন আওয়াজ এর কথা মনে নাই তাইলে আয়নার সামনে আওয়াজ টেস্ট করতে হবে?

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, কোনো কথার উচ্চারণ বৈধ হওয়ার জন্য এবং তার উপর বিধান কার্যকর হওয়ার জন্য কমপক্ষে নিজের কানে শোনা যায় এমন ক্ষীণ আওয়াজ হওয়া জরুরি, অথবা এমনভাবে অক্ষরগুলো উচ্চারণ করা যা নিরিবিলি পরিবেশে নিজের কানে শোনা যেত। শুধু ঠোঁট, মুখ ও জিহবা নড়াচড়া করা, কিন্তু কোনো আওয়াজ না হওয়া (যা নিজের কানও শুনতে পায় না), যথেষ্ট নয়। একে মানসিক চিন্তা বা নিছক শব্দবিহীন নড়াচড়া গণ্য করা হয়, যা তালাকের জন্য যথেষ্ট নয়।

যদি আপনার মনে না থাকে যে আপনি শব্দ সহকারে (অর্থাৎ, নিজের কানে শোনা যায় এমন আওয়াজ করে) উচ্চারণ করেছিলেন কিনা, তাহলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রযোজ্য:



সারসংক্ষেপ: যদি তালাক দেওয়ার সময় নিজের কানে শোনা যায় এমন কোনো আওয়াজ না হয়ে থাকে, অথবা আপনার আওয়াজ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তাহলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী তালাক পতিত হবে না। আয়নার সামনে টেস্ট একটি ব্যক্তিগত পদ্ধতি মাত্র, যা অতীতের ঘটনা প্রমাণ করে না।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: তালাকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে আপনার নিকটস্থ নির্ভরযোগ্য আলিম বা মুফতির সাথে সরাসরি কথা বলে বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত।