না, এটি সঠিক নয়। ifatwa.info সহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকাহ গ্রন্থ অনুযায়ী, কিনায়া (অস্পষ্ট শব্দে দেওয়া) তালাকের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য (নিয়ত)
উচ্চারণের সময়ই বা এর খুব কাছাকাছি সময়ে বিদ্যমান থাকতে হয়।
যদি কোনো ব্যক্তি কিনায়া শব্দগুলো উচ্চারণ করার সময় তালাকের কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য না রাখে, এবং পরবর্তীতে তার মনে না পড়ে যে তার উদ্দেশ্য কী ছিল, তাহলে পরে জোর করে কোনো উদ্দেশ্য মনে করার চেষ্টা করা বা একটি উদ্দেশ্য তৈরি করার চেষ্টা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে ধর্তব্য নয়। তালাকের নিয়ত অবশ্যই উচ্চারণের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে, অনেক পরে সৃষ্ট বা স্মরণকৃত নিয়ত গণ্য হয় না।
ইসলামে তালাকের মতো একটি গুরুতর বিষয়ে নিশ্চিততা প্রয়োজন। যদি নিয়ত সম্পর্কে সন্দেহ থাকে বা উচ্চারণের সময় তা স্পষ্ট না থাকে, তাহলে সাধারণত তালাক পতিত হয় না। পরবর্তীতে "রেগুলার মনে করার চেষ্টা" করলে তা আসল নিয়ত হিসেবে বিবেচিত হবে না যদি তা মূল উচ্চারণের সময় অনুপস্থিত থাকে।
১ রেফারেন্স:
- বই: ফাতাওয়ায়ে আলমগিরী (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া)
- অধ্যায়: কিতাবুত তালাক (Kitab al-Talaq), বাবুল তালাকিল কিনায়া (Bab al-Talaq al-Kinaya)
- বিষয়বস্তু: এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিনায়া তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত (উদ্দেশ্য) উচ্চারণকালে বা এর সাথে সংযুক্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকা শর্ত। যদি নিয়ত না থাকে, তবে তালাক পতিত হয় না। পরবর্তীতে উদ্দেশ্য মনে করার চেষ্টা করা বা তা উদ্ভাবন করা তালাককে বৈধ করে না।
সংক্ষেপে, কিনায়া তালাক উচ্চারণের সময় যদি তালাকের উদ্দেশ্য না থাকে বা পরবর্তীতে তা স্মরণ করতে না পারা যায়, তাহলে তালাক পতিত হয় না। পরবর্তীতে জোর করে বা নিয়মিত চেষ্টা করে কোনো উদ্দেশ্য মনে করা অর্থহীন এবং তা তালাকের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।