🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে সে এখান আমাকে তালাক দিয়ে দিবে।আর উত্তরে যদি স্বামী আচ্ছা বলে তাহলে কি তালাক হবে
ইফাতওয়া.ইনফো (ifatwa.info) এবং হানাফি ফিকহের নীতি অনুযায়ী, স্ত্রী যখন স্বামীকে বলে "আমাকে তালাক দিয়ে দাও" এবং স্বামী উত্তরে শুধু "আচ্ছা" বলে, তাহলে সাধারণত এর দ্বারা তাৎক্ষণিক তালাক সংঘটিত হবে না।

ব্যাখ্যা:

1. স্পষ্ট শব্দ নয়: "আচ্ছা" শব্দটি তালাকের সুস্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়। তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ হলো সেগুলো যা তালাক ব্যতীত অন্য কোনো অর্থে ব্যবহার হয় না (যেমন: আমি তোমাকে তালাক দিলাম)।
2. ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ ও নিয়ত: হানাফি ফিকহে, তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার না করে ইঙ্গিতপূর্ণ (কিনাঈ) শব্দে তালাক দিতে হলে স্বামীর তালাক প্রদানের সুস্পষ্ট নিয়ত (উদ্দেশ্য) থাকতে হবে।
3. "আচ্ছা" এর অর্থ: এখানে "আচ্ছা" শব্দটি সাধারণত স্ত্রীর কথা শুনে সম্মতি জানানো, তার বক্তব্য গ্রহণ করা বা পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে এমন অর্থ বহন করে, সরাসরি তালাক প্রদানের অর্থ নয়।
4. তালাক কখন হবে? যদি স্বামী "আচ্ছা" বলার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তালাক প্রদানের নিয়ত করে থাকেন, তাহলে তালাক পতিত হতে পারে। তবে শুধুমাত্র "আচ্ছা" শব্দটির মাধ্যমে এমন নিয়ত প্রমাণিত হওয়া কঠিন। যদি স্বামী এই "আচ্ছা" বলার মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ (তালাকে তাফويض) করার নিয়ত করে থাকেন যে, "আচ্ছা, তুমি নিজেকে তালাক দিয়ে দাও", তাহলে ভিন্ন কথা।

সারসংক্ষেপ: কেবল "আচ্ছা" বলা দ্বারা সরাসরি তালাক কার্যকর হবে না, যদি না স্বামী তালাক দেওয়ার সুস্পষ্ট নিয়ত করে থাকেন অথবা তালাকের ক্ষমতা অর্পণের নিয়ত করে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বামীর নিয়ত (উদ্দেশ্য) জিজ্ঞেস করা অপরিহার্য।

রেফারেন্স:


(وَإِذَا قَالَتْ: طَلِّقْنِي فَقَالَ: نَعَمْ أَوْ أَجَلْ أَوْ أَىْ أَوْ بَلَى لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ إلَّا بِالنِّيَّةِ)
এখানে "আচ্ছা" শব্দটি "হ্যাঁ" বা "ঠিক আছে" এর সমার্থক হিসেবে বিবেচিত। তাই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, স্বামীর তালাক প্রদানের নিয়ত না থাকলে তালাক হবে না।