আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।আমার দুলাভাই ব্যংকে চাকরি করে। তার টাকা দিয়ে আমার বোন যদি কিছু কিনে দেয় তাহলে যদি না নেই তাহলে আমর বোন কষ্ট পাবে হয়তো। এখন আমার করনীয় কি। আর আমি যদি জিনিসটি নিয়ে গরীব দুঃখীদের সেই পরিমান টাকা দান করে দেই তাহলে কি সেই হাদিয়া গ্রহন করা আমার জন্য জায়েজ হবে।আর আমার পক্ষে কষ্টকর হয়ে যাবে সেই টাকা একসাথে দান করতে কিন্তু আমি যদি অল্প অল্প করে এই নিয়তে সওয়াবের আশা ছাড়া দান করি তাহলে কি হবে? ২.মাহরাম ছাড়া শিক্ষাসফরে যাওয়া কি জায়েজ হবে? ৩.অজু অবস্থায় নাপাক কাপড় পড়ে কুরআন স্পর্শ করা যাবে?
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আপনার প্রশ্নগুলোর হানাফি মাযহাব অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত উত্তর ও রেফারেন্স নিচে দেওয়া হলো:
১. ব্যাংকের টাকার হাদিয়া গ্রহণ ও দান:
আপনার দুলাভাইয়ের ব্যাংকের চাকুরী থেকে উপার্জিত টাকা যদি সুদের সাথে মিশ্রিত হয়, তবে সেই টাকা সরাসরি গ্রহণ করা মাকরূহ তানযিহি (অপছন্দনীয়, তবে হারাম নয়)। তবে যদি এই টাকা থেকে আপনার বোন কিছু কিনে দেন, আর তা প্রত্যাখ্যান করলে সম্পর্কের অবনতির বা কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে আপনি সেই উপহার গ্রহণ করতে পারবেন।
এরপর, আপনি যদি সেই জিনিসটি গ্রহণ করে তার সমপরিমাণ টাকা গরীব-দুঃখীদের সওয়াবের আশা ছাড়া দান করে দেন, তবে এটি একটি উত্তম ও জায়েজ পন্থা। কারণ, এভাবে আপনি মূলত সন্দেহযুক্ত উপার্জন থেকে নিজেকে পবিত্র করছেন, সওয়াবের উদ্দেশ্যে নয়। এই টাকা একবারে দান করতে কষ্ট হলে অল্প অল্প করে, আপনার সুবিধা মতো সময়ে দান করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।
রেফারেন্স:
"إذا اختلط الحرام بالحلال حتى لا يتميز، فإن كان الحرام هو الغالب، فله أن يتصرف فيه ولكن يتصدق بقدر الحرام..." - (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৩৩, কিতাবুল হাযর ওয়াল ইবাহা, বাবুল ইস্তিবরা)।
অর্থাৎ, যখন হারাম হালালের সাথে এমনভাবে মিশে যায় যে তা পৃথক করা কঠিন হয়ে যায়, যদি হারাম অংশটিই বেশি হয়, তবে তাতে কাজ করা যাবে, তবে হারামের পরিমাণটি সদকা করে দিতে হবে। আর যদি অল্প পরিমাণে হারাম মিশে, তবে তার থেকে গ্রহণ করা জায়েজ। তবে এক্ষেত্রে দান করাটা উত্তম, সওয়াবের নিয়ত ছাড়া।
২. মাহরাম ছাড়া শিক্ষাসফরে যাওয়া:
কোনো নারীর জন্য মাহরাম বা স্বামী ছাড়া শরীয়তসম্মত সফরের দূরত্বে (প্রায় ৭৮ কিলোমিটার বা ৪৮ মাইল) সফর করা জায়েজ নয়। শিক্ষাসফর হোক বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যেই হোক, এই বিধান প্রযোজ্য।
রেফারেন্স:
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم." - (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৩৯)।
অর্থাৎ, ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে।"
৩. অজু অবস্থায় নাপাক কাপড় পরে কুরআন স্পর্শ করা:
অজু অবস্থায় নাপাক কাপড় পরে কুরআন স্পর্শ করা জায়েজ। কারণ কুরআন স্পর্শ করার জন্য ব্যক্তির শরীর পবিত্র হওয়া (ওযু থাকা বা গোসল ফরজ না থাকা) শর্ত, পরিহিত কাপড় পবিত্র হওয়া শর্ত নয়। তবে নামাজ আদায়ের জন্য কাপড় পবিত্র হওয়া শর্ত। তাই নাপাক কাপড় পরে কুরআন স্পর্শ করা জায়েজ হলেও, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র কাপড় পরা উত্তম।
রেফারেন্স:
"مس المصحف لا يشترط له طهارة الثوب، بل طهارة البدن." - (আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাহ, বাবুল অযু) এর আলোচনা থেকে এই মাসআলাটি অনুমিত হয়, যেখানে কুরআন স্পর্শের জন্য ব্যক্তির পবিত্রতার শর্তসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু কাপড়ের পবিত্রতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। ইমাম কাসানি তার "বাদায়েউস সানাই" গ্রন্থে কুরআন স্পর্শের শর্তাবলী উল্লেখ করেছেন, সেখানেও শরীর বা ব্যক্তির পবিত্রতাকে শর্ত বলা হয়েছে, কাপড়ের পবিত্রতা নয়।
(বাদায়েউস সানায়ে', খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৯-১৯০, কিতাবুত তাহারাত, শরায়েতু মাসিল মুসহাফ)।
আল্লাহই ভালো জানেন।