🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

মুফতি ওয়ালীউল্লাহ এক ফতোয়ার উত্তরে বলেছে মনে মনে ঠোট জিহবা নাড়িয়ে তালাক এর শব্দ শুনলে এত টুকু আওয়াজ হওয়া চাই যখন ফ্যান বা অন্য আওয়াজ না থাকলে কানে আসতো। এখন আমি তো অনেক একবারে লাস্ট টাইপের আওয়াজ করলেও কানে শুনতে পাই। তাইলে কানে আসবে না ওই আওয়াজ কোনটা।
আপনার প্রশ্ন এবং মুফতি ওয়ালীউল্লাহ সাহেব (হাফিজাহুল্লাহ) এর ফতোয়া উভয়ের সারমর্ম হলো, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য নিছক মনে মনে চিন্তা করা যথেষ্ট নয়। বরং শব্দগুলো উচ্চারণ করা আবশ্যক, যদিও তা খুবই মৃদু হয়।

মুফতি ওয়ালীউল্লাহ সাহেবের ফতোয়ার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মনে মনে ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়িয়ে তালাকের শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে, তা ততক্ষণ পর্যন্ত উচ্চারণ বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা নিজের কানে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট আওয়াজ উৎপন্ন করে। এই আওয়াজের সর্বনিম্ন মাত্রা হলো, যদি আশেপাশে ফ্যান বা অন্য কোনো আওয়াজ না থাকে, তাহলে আপনি যেন আপনার নিজের উচ্চারিত শব্দটি শুনতে পান।

আপনার প্রশ্ন যে "কানে আসবে না ওই আওয়াজ কোনটা?" এর অর্থ হলো:

এমন আওয়াজ যা একেবারেই শব্দহীন। অর্থাৎ, আপনি ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াচ্ছেন, কিন্তু তা থেকে কোনো প্রকার ধ্বনি নির্গত হচ্ছে না যা আপনার নিজের কানও উপলব্ধি করতে পারে, এমনকি যদি আপনি সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ স্থানেও থাকেন। এটিকে 'নীরব উচ্চারণ' বা 'মনে মনে মুখে মুখে বলা' বলা যেতে পারে, যা কোনো প্রকৃত শব্দ উৎপন্ন করে না।

যদি আপনি সামান্যতম ফিসফিস শব্দও আপনার কানে শুনতে পান (যেমনটা আপনি বলছেন), তাহলে মুফতির ফতোয়া অনুযায়ী তা 'উচ্চারণ' বলে গণ্য হবে।

হানাফি মাযহাবের মূলনীতি অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য শুধু অন্তরে ইচ্ছা করাই যথেষ্ট নয়; বরং মৌখিকভাবে তা উচ্চারণ করা জরুরি। এই উচ্চারণের সর্বনিম্ন সীমা হল এমনভাবে শব্দগুলো বলা, যা নিজে শুনতে পায়, এমনকি যদি তা অত্যন্ত মৃদু স্বরেও হয়। যদি কেবল ঠোঁট নাড়ানো হয় কিন্তু কোনো শব্দ উৎপন্ন না হয় যা নিজের কানেও শোনা যায়, তাহলে তা তালাক বলে গণ্য হবে না।

সুতরাং, সারসংক্ষেপ:



তালাক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। যদি এ বিষয়ে কোনো প্রকার সন্দেহ বা উদ্বেগ থাকে, তবে সরাসরি একজন নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে পরামর্শ করা অত্যাবশ্যক।

রেফারেন্স:
ifatwa.info (মুফতি ওয়ালীউল্লাহ সাহেবের বিভিন্ন ফতোয়ায় এই মূলনীতি উল্লেখিত হয়েছে)।