আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর আমার স্ত্রিকে অনেক বুজানোর পরেও সে নামাজ না পরলে, আমি একজন আলেমের কাছে সব খুলে বলি যে, আমি তাকে কতভাবে বুজাচ্চি নামাজের পরার কথা। আলেম সাহেবকে বলি আমি নামাজের কথা স্ত্রিকে বললে বা ইসলামের কোন বিধান পাপ সম্নধে তাকে বুজাতে গেলে সে রাগ করে বুজতে চায়না। এমতবস্তায় আমি আলেম সাহেবের কাছে বলি আমার কি করা উচিত,আমি আলেম সাহেবকে বলি যে আজকে স্ত্রিকে আমি বলেছি যে আমি তোমার হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে পারি সর্বচ্চ আর কি করতে পারি। আলেম সাহেব আমার সব কিছু শোনে তিনি আমাকে বলেন "এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না " আপনি স্ত্রির বাবা মাকে জানান আমি তখন বলি আমার শাশুরিও ঠিকমত নামাজ পরে না তাকে আর কি বলব, তখন আলেম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন স্ত্রিকে জানাতে যে " এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না " আমি আলেম সাহেবের কথা শুনে শুধু বলি ঠিক আছে হুজুর, মানে আমার নিয়ত ছিল স্ত্রিকে জানাবো যে এই এত করে তোমাকে নামাজের কথা বলার পরেও তুমি নামাজ পরো না, এভাবে তুমি নামাজ না পরলে সংসার টিকানো সম্ভব না এই উদ্দেশ্য বা নিয়তে আমি আলেম সাহেবের পরামর্শ যে স্ত্রিকে জানান যে এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না তখন শুধু ঠিক আছে বলেছি আলেম সাহেবকে। আমি এখনো আমার স্ত্রিকে বলিনাই অই আলেম সাহেবের দেওয়া পরামর্শ যে স্ত্রিকে জানান এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না। হুজুর আলেম সাহেবের পরামর্শ বলার পরে আমার বলা "ঠিক আছে হুজুর " বলাতে কি আমার দাম্পত্যের কোন সমস্যা হয়ে গেছে কিনা, আমি আমার স্ত্রিকে এখনো আলেম সাহেবের বলা পরামর্শ জানাইনি শুধু আলেম সাহেব আমাকে বলেছিলেন যে স্ত্রিকে জানান " এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না " আমি তখন আলেম সাহেবকে শুধু ঠিক আছে বলেছিলাম। আমি শুধু আলেম সাহেবের পরামর্শের জবাবে বলেছি ঠিক আছে মানে আমি আমার স্ত্রিকে বলব কিন্তু আমি এখনো কিছুই তাকে বলি নাই।
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আলেম সাহেবের পরামর্শের জবাবে আপনার "ঠিক আছে হুজুর" বলাতে আপনার দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা হয়নি এবং তালাকও সংঘটিত হয়নি।
ব্যাখ্যা:
হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তালাকের শব্দ (সারিহ) উচ্চারণ করা আবশ্যক। যেমন: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম" অথবা এমন কোনো শব্দ যা তালাকের অর্থ বহন করে (কিনায়াহ) এবং সে সময় তালাকের নিয়তও থাকা জরুরি।
আপনার ক্ষেত্রে:
1. আলেম সাহেবের কথা: আলেম সাহেব আপনাকে "এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না" বলেছেন। এটি একটি পরামর্শমূলক বা সতর্কতামূলক বাক্য ছিল, তালাকের ঘোষণা নয়। আলেম সাহেবের এই কথা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
2. আপনার "ঠিক আছে হুজুর" বলা: আপনার "ঠিক আছে হুজুর" বলাটা আলেম সাহেবের পরামর্শকে গ্রহণ করার ইঙ্গিত ছিল, তালাক প্রদানের ঘোষণা ছিল না। এই বাক্যে তালাকের কোনো শব্দ নেই, এমনকি পরোক্ষভাবেও নেই। আপনি স্পষ্ট করেছেন যে আপনার নিয়ত ছিল আলেম সাহেবের পরামর্শটি স্ত্রীকে পরবর্তীতে জানানো, তাৎক্ষণিকভাবে তালাক দেওয়া নয়। তালাকের নিয়ত ছাড়া এ ধরনের বাক্য দ্বারা তালাক পতিত হয় না।
3. স্ত্রীর প্রতি সম্বোধন না থাকা: আপনি আপনার স্ত্রীকে সরাসরি এই কথাগুলো বলেননি, যা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য জরুরি।
সুতরাং, আপনার এবং আলেম সাহেবের মধ্যকার কথোপকথনে তালাকের কোনো শর্ত পূরণ হয়নি। আপনার দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল আছে।
রেফারেন্স:
"তালাক দুই প্রকার: صریح (স্পষ্ট) এবং کنایہ (অস্পষ্ট)। صریح দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়তের প্রয়োজন হয় না। তবে کنایہ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত থাকা জরুরি।"
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৫৪)
আপনার ক্ষেত্রে, "ঠিক আছে হুজুর" কোনো তালাকের শব্দ নয়, এমনকি ক্বিনায়া শব্দও নয় যার জন্য নিয়তের প্রয়োজন হতে পারে। এটি কেবল একটি সম্মতিসূচক শব্দ।