🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

কোন স্বামী যদি বউকে সিম্পল রাগের মাথায় বলে তোমাকে ঈদে মামার বাসায় রেখে আসবো আর নিয়ে আসার ইচ্ছে নেই হয় মায়ের কাছ থেকে সব কাজ শিখে আসবা না হয় থাকবা আলহামদুলিল্লাহ তখনই তাদের মিল হয়েছে এবং তারা একসাথে বাবার বাড়ি গিয়েছে এবং তারা একসাথে আলহামদুলিল্লাহ আমি কোনদিন তুমি একবারে যাও দূর হয়ে যাও চলে যাও এগুলো কেনায়া বাক্য কোনদিন বলেনি আলহামদুলিল্লাহ তবে কি কোন সমস্যা হবে
উত্তর: না, এই পরিস্থিতিতে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।

ব্যাখ্যা:
ইসলামী শরীয়তে (বিশেষত হানাফি মাযহাব অনুযায়ী) তালাক দুই প্রকারের হয়:

1. সরিহ তালাক (Explicit/Clear Divorce): যে শব্দগুলো সরাসরি ও সুস্পষ্টভাবে তালাক বোঝায়, যেমন: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম," "তুমি তালাকপ্রাপ্তা," ইত্যাদি। এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে তালাকের নিয়ত (উদ্দেশ্য) না থাকলেও তালাক হয়ে যায়।
2. ক্বিনায়াহ তালাক (Ambiguous/Implied Divorce): যে শব্দগুলো তালাকও বোঝাতে পারে আবার অন্য অর্থও বোঝাতে পারে, যেমন: "তুমি চলে যাও," "আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও," "আমি তোমাকে রাখব না," ইত্যাদি। এই ধরনের ক্বিনায়াহ শব্দ ব্যবহার করলে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর তালাকের সুনির্দিষ্ট নিয়ত (উদ্দেশ্য) থাকা আবশ্যক। যদি স্বামীর তালাকের নিয়ত না থাকে, তবে ক্বিনায়াহ শব্দ দ্বারা তালাক সংঘটিত হয় না।

আপনার স্বামী যে কথাগুলো বলেছেন, যেমন: "তোমাকে ঈদে মামার বাসায় রেখে আসবো আর নিয়ে আসার ইচ্ছে নেই" এবং "হয় মায়ের কাছ থেকে সব কাজ শিখে আসবা না হয় থাকবা", এগুলো সরিহ তালাকের শব্দ নয়। এগুলো ক্বিনায়াহ শব্দের অন্তর্ভুক্ত।

আপনি যেহেতু স্পষ্ট করে বলেছেন যে, "আলহামদুলিল্লাহ আমি কোনদিন তুমি একবারে যাও দূর হয়ে যাও চলে যাও এগুলো কেনায়া বাক্য কোনদিন বলেনি" (অর্থাৎ, এই ধরনের বা অন্য কোনো ক্বিনায়াহ শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত আপনার স্বামীর ছিল না) এবং আপনারা তৎক্ষণাৎ মিলে গিয়েছেন ও একসাথে বাবার বাড়ি গিয়েছেন, এটি অত্যন্ত জোরালো প্রমাণ যে আপনার স্বামীর তালাক দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি রাগের মাথায় হয়তো ক্ষোভ বা হুমকি প্রকাশ করেছেন মাত্র।

অতএব, যেহেতু তালাকের সুস্পষ্ট নিয়ত ছিল না এবং ব্যবহৃত শব্দগুলো সরিহ তালাক নয়, তাই এই ধরনের কথায় কোনো তালাক হয়নি এবং আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক অক্ষত আছে।

পরামর্শ: ভবিষ্যতে এমন অস্পষ্ট বা পরোক্ষ শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত, এমনকি রাগের মুহূর্তেও, যাতে ভুল বোঝাবুঝি বা কোনো প্রকার সংশয়ের সৃষ্টি না হয়।

রেফারেন্স: