🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর আমার স্ত্রিকে অনেক বুজানোর পরেও সে নামাজ না পরলে, আমি একজন আলেমের কাছে সব খুলে বলি যে, আমি তাকে কতভাবে বুজাচ্চি নামাজের পরার কথা। আলেম সাহেবকে বলি আমি নামাজের কথা স্ত্রিকে বললে বা ইসলামের কোন বিধান পাপ সম্নধে তাকে বুজাতে গেলে সে রাগ করে বুজতে চায়না। এমতবস্তায় আমি আলেম সাহেবের কাছে বলি আমার কি করা উচিত,আমি আলেম সাহেবকে বলি যে আজকে স্ত্রিকে আমি বলেছি যে আমি তোমার হেদায়েতের জন্য দোয়া করতে পারি সর্বচ্চ আর কি করতে পারি। আলেম সাহেব আমার সব কিছু শোনে তিনি আমাকে বলেন "এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না " আপনি স্ত্রির বাবা মাকে জানান আমি তখন বলি আমার শাশুরিও ঠিকমত নামাজ পরে না তাকে আর কি বলব, তখন আলেম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন স্ত্রিকে জানাতে যে " এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না " আমি আলেম সাহেবের কথা শুনে শুধু বলি ঠিক আছে হুজুর, মানে আমার নিয়ত ছিল স্ত্রিকে জানাবো যে এই এত করে তোমাকে নামাজের কথা বলার পরেও তুমি নামাজ পরো না, এভাবে তুমি নামাজ না পরলে সংসার টিকানো সম্ভব না এই উদ্দেশ্য বা নিয়তে আমি আলেম সাহেবের পরামর্শ যে স্ত্রিকে জানান যে এভাবে সংসার টিকানো সম্ভব না তখন শুধু ঠিক আছে বলেছি আলেম
بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

সম্মানিত ভাই, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি সংবেদনশীল পারিবারিক ও দ্বীনি বিষয় নিয়ে। স্ত্রীর নামাজ না পড়া এবং এ বিষয়ে আলেমের পরামর্শের প্রেক্ষিতে আপনার করণীয় সম্পর্কে ফাতওয়া.ইনফো অনুযায়ী হানাফি ফিকহের আলোকে সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. নামাজ ত্যাগের বিধান:
নামাজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ এবং প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ ইবাদত। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ (মহা পাপ)। তবে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, যে ব্যক্তি নামাজের ফরজিয়্যতকে অস্বীকার করে না, কিন্তু অলসতা বা গাফিলতির কারণে নামাজ পড়ে না, সে কাফের হয়ে যায় না, বরং ফাসেক (গুনাহগার) হিসাবে গণ্য হবে। এই ব্যক্তি তওবা না করলে আখেরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

২. স্বামীর দায়িত্ব:
স্বামী তার পরিবারের অভিভাবক। তাই স্ত্রীর নামাজ পড়া, দ্বীনের অন্যান্য বিধি-বিধান পালন করা এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে স্বামীকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে, উপদেশ দিতে হবে, উৎসাহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে সতর্ক করতে হবে। স্ত্রীর হেদায়েতের জন্য দোয়া করাও স্বামীর দায়িত্ব।

৩. আলেমের পরামর্শের ব্যাখ্যা এবং আপনার নিয়ত:


* "كنايات الطلاق ما يحتمل الطلاق وغيره، فلا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو دلالة الحال" (رد المحتار على الدر المختار، كتاب الطلاق، باب الكنايات)
* অর্থাৎ, তালাকের কিনায়েত (ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ) সেগুলো যা তালাক এবং অন্য অর্থ উভয়কেই বোঝায়। এগুলো দ্বারা তালাক পতিত হয় না, যদি না তালাকের নিয়ত থাকে বা পরিস্থিতি এমন হয় যা তালাকের ইঙ্গিত দেয়। আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু তালাকের নিয়ত ছিল না, তাই তালাক হয়নি।

আল্লাহ তা'আলা আপনার স্ত্রীকে হেদায়েত দান করুন এবং আপনার পরিবারে শান্তি ফিরিয়ে আনুন। আমিন।

والله تعالى أعلم بالصواب