হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি মূলত কুফর (অবিশ্বাস) বা রিদ্দাহ (ধর্মত্যাগ)-এর মাধ্যমে ঈমান হারান। এর প্রধান কয়েকটি দিক হলো:
১.
মৌলিক বিশ্বাস অস্বীকার: আল্লাহ, তাঁর রাসূল, কুরআন, আখিরাত, ফেরেশতা, কিতাব বা ইসলামের কোনো সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীনভাবে জ্ঞাত (qat'i) নির্দেশকে অস্বীকার করা, যা দ্বীনের আবশ্যিক অংশ (যেমন সালাত, সাওম, হজ্ব, যাকাত)।
২.
উপহাস বা অবমাননা: আল্লাহ, রাসূল (সা.), কুরআন, ইসলামের নিদর্শনসমূহ বা ইসলামী মূল্যবোধকে উপহাস, বিদ্রূপ বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা।
৩.
শিরক: আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা বা অন্য কারো ইবাদত করা, যা তাওহীদ পরিপন্থী।
৪.
ইসলামী মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক বিশ্বাস: এমন কোনো বিশ্বাস স্থাপন করা যা ইসলামের মৌলিক আকিদা (creed) বা মূলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
৫.
প্রকাশ্য কর্ম: এমন কোনো কাজ করা যা দ্ব্যর্থহীনভাবে কুফরির পরিচায়ক (যেমন মূর্তিকে সেজদা করা, যদি তা ইবাদতের উদ্দেশ্যে হয়)।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, বড় কোনো গুনাহ (যেমন চুরি, ব্যভিচার, মদপান) করলে কেউ ঈমান হারায় না, বরং সে পাপাচারী মুসলিম হিসেবে গণ্য হয়, যতক্ষণ না সে ঐ গুনাহকে হালাল মনে করে বা অস্বীকার করে। ঈমান হারানোর জন্য অন্তর থেকে কুফরির আশ্রয় নেওয়া বা তা প্রকাশ করা আবশ্যক।
রেফারেন্স:
- ইমাম ইবনে আবিদীন, রাদ্দ আল-মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার (Hashiyat Ibn Abidin), কিতাবুল জিহাদ, বাবুল মুরতাদ্দ (Volume 4, Page 237-248, মিশরীয় সংস্করণ, অথবা ধর্মত্যাগ সংক্রান্ত অনুরূপ অধ্যায়)।