সূরা গাফির (৪০), আয়াত ১৯ এর অর্থ হলো:
"তিনি (আল্লাহ) চক্ষুর চোরা চাহনি এবং অন্তরের গোপন বিষয়াদি জানেন।"
এই আয়াতটি আল্লাহ তায়ালা'র অসীম জ্ঞান ও সর্বদ্রষ্টা সত্তার বর্ণনা করে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের চোখের সামান্যতম ইঙ্গিত (যা অন্যে বুঝতে পারে না) এবং অন্তরের গভীরতম গোপন বিষয় পর্যন্ত অবগত।
যদিও এই আয়াতটি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো রোগের জন্য রুকিয়া হিসাবে হাদীসে বর্ণিত হয়নি, তবে এর গভীর অর্থ বিবেচনায় এটি বিভিন্ন ধরনের তদবীর বা রুকিয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে যেখানে গোপন বা লুকায়িত বিষয় জড়িত:
1.
নজর/বদনজর (Evil Eye) থেকে সুরক্ষা: যেহেতু আল্লাহ তায়ালা "চক্ষুর চোরা চাহনি" সম্পর্কে অবগত, তাই বদনজর যা কিনা চোখের লুকায়িত অনিষ্টের মাধ্যমে আসে, তা থেকে সুরক্ষার জন্য এই আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। আল্লাহর কাছে তাঁর এই জ্ঞানের উসিলায় সুরক্ষা চাওয়া।
2.
যাদু/টোনা (Magic) থেকে সুরক্ষা: যাদু প্রায়শই লুকায়িত ও অপ্রকাশ্য উপায়ে কাজ করে। এই আয়াত পাঠ করে আল্লাহর কাছে যাদুকরের গোপন কুমন্ত্রণা ও ক্রিয়া থেকে সুরক্ষা চাওয়া যেতে পারে, কেননা আল্লাহ সবই জানেন।
3.
কুমন্ত্রণা/ওয়াসওয়াসা (Whisperings/Waswasah) দূর করা: এই আয়াত সরাসরি "অন্তরের গোপন বিষয়াদি" সম্পর্কে উল্লেখ করে। শয়তানের কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা মানুষের অন্তরে গোপনভাবে আসে। এই আয়াত পাঠ করে আল্লাহর কাছে এসব গোপন কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি ও অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার প্রার্থনা করা যেতে পারে।
4.
গোপন শত্রু ও ষড়যন্ত্র থেকে সুরক্ষা: যারা গোপনে আপনার ক্ষতি করার বা ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করে, তাদের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষার জন্য এই আয়াত পাঠ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে, যেহেতু তিনি সমস্ত গোপন বিষয় সম্পর্কে জানেন।
মূলত, এই আয়াত পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা'র সর্বজ্ঞানী সত্তার উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা হয় এবং তাঁর এই গুণের উসিলায় সকল প্রকার গোপন অনিষ্ট ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষা ও সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।
১টি রেফারেন্স সহ:
- তাফসীরে ইবনে কাসীর (সূরা গাফির, আয়াত ১৯ এর ব্যাখ্যা দ্রষ্টব্য) - এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা এই আয়াতকে গোপন বিষয়াদি থেকে সুরক্ষার জন্য প্রার্থনার ভিত্তি প্রদান করে।