মনে মনে মুখ ঠোট নেড়ে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়াজ হয় নাই কিন্তু জিহবার বাড়ির শব্দ হইছ্র কিনা মনে নাই। তালাক হবে? তালাকের শব্দ গুলা করলে ঠোট আর জিহবা যেমন নড়ত তা হইছে কিন্তু গলার আওয়াজ কানে আসে নাই পরিবেশ নীরব। তো মুখ নারলে তো জিহবার বাড়ি বা ঢোক গিলার জন্য বাড়ি খাওতে পারে । সেটা মনে নাই
ওয়া আলাইকুমুস সালাম।
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তালাকের শব্দগুলো উচ্চারণ করা জরুরি। উচ্চারণ এমনভাবে হতে হবে যাতে তালাকদাতা নিজে সেই শব্দ শুনতে পান, যদিও অন্য কেউ না শুনুক। যদি তালাকদাতা কেবল ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়েন কিন্তু কোনো শব্দ (এমনকি খুব ক্ষীণ শব্দও) উৎপন্ন না হয় যা তিনি নিজে শুনতে পান, তাহলে তালাক পতিত হবে না। এটিকে মনে মনে কথা বলা বা "হাদিসুন নাফস" (মনের কথা) হিসাবে গণ্য করা হয়, যা তালাকের জন্য যথেষ্ট নয়।
আপনার ক্ষেত্রে, যেহেতু আপনি বলছেন "গলার আওয়াজ কানে আসে নাই পরিবেশ নীরব" এবং "আওয়াজ হয় নাই", তাই হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এই অবস্থায় তালাক পতিত হয়নি। জিহবার বাড়ির শব্দ ঢোক গিলার মতো স্বাভাবিক শারীরিক নড়াচড়া থেকেও হতে পারে, যা তালাকের শব্দ উচ্চারণের প্রমাণ নয়। তালাকের শব্দ উচ্চারণের জন্য স্পষ্ট আওয়াজ উৎপন্ন হওয়া প্রয়োজন, যা তালাকদাতা নিজেই শুনতে পান।
রেফারেন্স:
ইমাম ইবনুল হুমাম (রহ.) তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ফাতহুল কাদির-এ উল্লেখ করেছেন:
"ويشترط في النطق أن يسمع نفسه، فلو حرك لسانه بالتلفظ ولم يسمع نفسه لم يقع"
অর্থ: "উচ্চারণের জন্য শর্ত হলো, সে নিজেকে শোনাবে। সুতরাং, যদি সে উচ্চারণ করার উদ্দেশ্যে জিহ্বা নাড়ালো কিন্তু নিজে শুনতে পেল না, তাহলে তালাক পতিত হবে না।"
(ফাতহুল কাদির, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৫০, দারুল ফিকর সংস্করণ)
সুতরাং, আপনার বর্ণনামতে, যেহেতু কোনো শব্দ আপনার কানে আসেনি, এই অবস্থায় তালাক পতিত হয়নি। তবে, ভবিষ্যতে এমন বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজনে সরাসরি একজন বিজ্ঞ আলেমের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।