হানাফি মাযহাব অনুযায়ী গীবত (পরনিন্দা) একটি গুরুতর কবিরা গুনাহ এবং হারাম (নিষিদ্ধ) কাজ। এর শাস্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
গীবতের শাস্তি (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী):
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, গীবতের জন্য শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো নির্দিষ্ট দণ্ড (হদ্দ) নেই। তবে এটি বিচারকের বিবেচনামূলক শাস্তির (তা'যীর) আওতায় পড়ে। বিচারক (ক্বাযী) বা শাসক অপরাধের মাত্রা, পুনরাবৃত্তি এবং অপরাধীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের তা'যীর প্রয়োগ করতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো অপরাধীকে সংশোধন করা এবং অন্যদের এমন কাজ থেকে বিরত রাখা।
এই তা'যীর মৌখিক তিরস্কার, জনসম্মুখে ভর্ৎসনা, অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড, এমনকি হালকা শারীরিক শাস্তি (যা হদ্দের মাত্রায় পৌঁছাবে না) পর্যন্ত হতে পারে।
দুনিয়াবী শাস্তির পাশাপাশি, আখিরাতের কঠিন শাস্তি থেকে বাঁচতে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য গীবতকারীকে অবশ্যই অনুতপ্ত হতে হবে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং যার গীবত করা হয়েছে তার কাছেও ক্ষমা চাওয়া উচিত, যদি এতে নতুন কোনো ফিতনা বা ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে।
১টি রেফারেন্স:
কুরআনে গীবতের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।"
- রেফারেন্স: সূরা হুজুরাত, আয়াত ১২।