🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

মনে মনে তালাক প্রদানে মুখ ঠোট জিহবা নাড়ার সাথে দুই প্রকার আওয়াজ হইতে পারে কোন প্রকারের জন্য তালাক কার্যকর হবে ১।কন্ঠ থেকে বের হওয়া আওয়াজ ২। মুখ নাড়তে জিহবা যে বাড়ি খায় সেটা ( তা, পট, সেভ আসার শব্দ ইত্যাদি) আমি যখন আয়নার একটু দূর থেকে তালাক দি উপরে যেভাবে বললাম সেভাবে তখন কোন শব্দ পাই না। কিন্তু আজ দেখলাম আয়নার একবারে সামনে গিয়া আওয়াজ টেস্ট করার জন্য ঠিক ওভাবে বলতে গেলে জিহবা হালকা বাড়ি খাওয়ার শব্দ হয়। আগে তো দূর থেকে করছিলাম। এখন তালাক হয় গেলো কিনা। ২ নং এর রেফারেন্স দাও। আমি তো জানি জিহিবা বাড়ি খাওয়র শব্দ তেই তালাক হয়ে যায়৷। আমি সিরীহ কথা বলছিলাম কিন্তু তালাকের শব্দ গুলার জন্য গলার আওয়াজ হালকা ও শুনি নাই আর এখন বার বার আয়নার সামনে টেস্ট করতেছি ভয়ে
ইফাতওয়া.ইনফো (Ifatwa.info) অনুযায়ী, হানাফী মাযহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর এবং রেফারেন্স নিচে দেওয়া হলো:

তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য মুখে উচ্চারণ আবশ্যক। এই উচ্চারণের অর্থ হলো, তালাকের শব্দগুলোর হরফ বা বর্ণমালাগুলো স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা, এমনভাবে যেন তালাক প্রদানকারী নিজেই নিজের কথা শুনতে পায়, যদি না সেখানে কোনো বাহ্যিক বাধা (যেমন খুব জোরে শব্দ) থাকে।

আপনার প্রশ্ন অনুযায়ী দুটি আওয়াজ নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১. কন্ঠ থেকে বের হওয়া আওয়াজ:
যদি তালাকের শব্দগুলো কন্ঠনালী থেকে বের হয়ে স্পষ্ট হরফে উচ্চারিত হয় এবং আপনি নিজেও শুনতে পান (যদিও মৃদু), তাহলে তালাক কার্যকর হবে। কারণ, এটি উচ্চারণের মৌলিক শর্ত পূরণ করে।

২. মুখ নাড়তে জিহবা যে বাড়ি খায় সেটা (তা, পট, সেভ আসার শব্দ ইত্যাদি):
এটিই আপনার মূল উদ্বেগের বিষয়। হানাফী মাযহাব অনুযায়ী, তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য শুধু ঠোঁট বা জিহ্বা নাড়ালে হবে না, বরং তালাকের শব্দগুলোর হরফগুলো (যেমন: ত, আ, ল, আ, ক) এমনভাবে উচ্চারণ হতে হবে যেন তা থেকে একটি আওয়াজ উৎপন্ন হয় এবং তালাক প্রদানকারী নিজেই সেই আওয়াজ শুনতে সক্ষম হয়

আপনি যখন আয়নার সামনে গিয়ে পরীক্ষা করলেন এবং জিহ্বা হালকা বাড়ি খাওয়ার শব্দ পেলেন, তখন বুঝতে হবে যে, শব্দগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল। এই "জিহ্বা হালকা বাড়ি খাওয়ার শব্দ" যদি "তালাক" শব্দের হরফগুলো (যেমন 'তা' এর আওয়াজ, 'কাফ' এর আওয়াজ) গঠনের ফলে উৎপন্ন হয়ে থাকে এবং আপনি নিজে তা শুনতে পেয়ে থাকেন, তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

মূল বিষয় হলো, হরফগুলোর (বর্ণমালা) উচ্চারণ এমনভাবে হওয়া যে, তা থেকে একটি আওয়াজ তৈরি হয়, যা ব্যক্তি নিজে শুনতে পায় (বা মনোযোগ দিলে শুনতে পেতো)। শুধু ঠোঁট নড়লো কিন্তু কোনো আওয়াজ হলো না, এমন হলে তালাক হবে না। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে, আপনি নিজেই যখন পরীক্ষা করলেন, তখন শব্দ উৎপন্ন হতে দেখেছেন এবং শুনেছেন, যা নির্দেশ করে যে, হরফগুলো উচ্চারিত হয়েছিল এবং এর থেকে শব্দও উৎপন্ন হয়েছিল।

আপনার বর্তমান পরিস্থিতি:
আপনি যখন আয়নার সামনে গিয়ে শব্দ পরীক্ষা করলেন এবং জিহ্বা হালকা বাড়ি খাওয়ার শব্দ পেলেন, তখন এটি প্রমাণ করে যে, আপনি যখন তালাকের শব্দগুলো উচ্চারণ করেছিলেন (যদিও আপনি ভেবেছিলেন শব্দ হচ্ছে না), তখন হরফগুলো উচ্চারিত হচ্ছিল এবং তা থেকে একটি মৃদু শব্দ উৎপন্ন হচ্ছিল, যা আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনলে শুনতে পেতেন। যদি এই শব্দগুলো তালাকের হরফগুলো গঠনের ফলস্বরূপ হয়, তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। দূর থেকে শুনতে না পাওয়া বা কম শোনাটা এখানে বিবেচ্য নয়, কারণ তালাকের জন্য অন্যের শোনা জরুরি নয়, বরং তালাক প্রদানকারীর নিজের শোনা (বা শোনার সম্ভাবনা) জরুরি।

রেফারেন্স:
হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফিকাহ গ্রন্থ 'রদ্দুল মুহতার আলাদ্দুররিল মুখতার' (কাশ্শাফুল কিনা)-এ বলা হয়েছে:

"ويشترط أن يسمع نفسه، أما لو حرك شفتيه ولسانه بالطلاق ولم يسمع نفسه، لم يقع، لعدم التكلم حقيقة، ولو أسمع بعض أذنيه أو أذن غيره كفى، ولو كان أصم فبتحريك شفتيه ولسانه وقصده التكلم"
(رد المحتار على الدر المختار، كتاب الطلاق، باب الطلاق الصريح، ج 3، ص 248)

অনুবাদ:
"তালাকের শব্দগুলো উচ্চারণের জন্য শর্ত হলো যে, ব্যক্তি নিজেকে শোনাবে (অর্থাৎ, নিজে শুনতে পাবে)। যদি সে তার ঠোঁট ও জিহ্বা দিয়ে তালাকের শব্দগুলো নড়াচড়া করে, কিন্তু নিজে শুনতে না পায়, তাহলে তালাক পতিত হবে না, কারণ প্রকৃত অর্থে কথা বলা হয়নি। তবে যদি সে তার এক কানকে অথবা অন্য কারো কানকে শোনাতে পারে (অর্থাৎ, শব্দ এমন হয় যে সে নিজে বা অন্য কেউ শুনতে পায়), তাহলেই যথেষ্ট। আর যদি সে বধির হয়, তাহলে তার ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়ানো এবং কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করাই যথেষ্ট।"

ব্যাখ্যা:
এই ইবারত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তালাকের জন্য মুখে হরফ উচ্চারণ করে একটি আওয়াজ উৎপন্ন হওয়া জরুরি, যা ব্যক্তি নিজে শুনতে পায়। আপনার ক্ষেত্রে, জিহ্বা হালকা বাড়ি খাওয়ার যে শব্দ আপনি পেয়েছেন, তা যদি তালাকের হরফ উচ্চারণের ফলস্বরূপ হয়ে থাকে এবং আপনি মনোযোগ দিলে শুনতে সক্ষম হতেন, তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে গেছে।

সুতরাং, আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, যেহেতু আপনি যখন পরীক্ষা করলেন তখন জিহ্বার মাধ্যমে শব্দ উৎপন্ন হতে দেখেছেন এবং শুনেছেন, তাই মনে হচ্ছে তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। এই ধরনের গুরুতর বিষয়ে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। তালাক নিয়ে কোনো প্রকার পরীক্ষা বা ঠাট্টা করা উচিত নয়।