আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। কোন মানুষ শুধু রিলস দেখে কিন্তু রিলসে ধরেন শিরকি গান সেট করে দিছে।সে মূলত ভিড়িও বা রিলস দেখার জন্য ওটা দেখলে গান শুনার জন্য না তাহলে কি ঈমানে সমস্যা হবে?
ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি ফিকহের সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
যদি কোনো রিলে শিরকি গান থাকে, তাহলে সেই রিল দেখা বা শোনা উভয়ই জায়েজ নয়, এমনকি যদি আপনার মূল উদ্দেশ্য ভিডিও দেখা হয় এবং গান শোনা না হয়। শিরক হলো ইসলামের সবচেয়ে বড় গুনাহ এবং আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করা বা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে অন্য কাউকে শরিক করা।
ব্যাখ্যা:
1. শিরকি কন্টেন্ট পরিহার করা: একজন মুসলিমের জন্য শিরকপূর্ণ বক্তব্য, কাজ বা গান থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখা অপরিহার্য। আপনার উদ্দেশ্য ভিডিও দেখা হলেও, শিরকি গান আপনার কানে প্রবেশ করছে এবং আপনার অজান্তেই আপনার ঈমানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
2. ঈমানের উপর প্রভাব: সরাসরি শিরকে বিশ্বাস না করলে বা শিরকি কথাকে সমর্থন না করলে কেউ ঈমান হারা হয় না। তবে, জেনে বুঝে শিরকি গান শোনা বা এমন কন্টেন্ট দেখা, যা শিরক প্রচার করে, তা একটি বড় গুনাহ। এটি ধীরে ধীরে আপনার ঈমানকে দুর্বল করে দেয় এবং আল্লাহর প্রতি আপনার ভালোবাসায় ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
3. সতর্কতা ও দায়িত্ব: মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো সকল প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন না করা। যখন আপনি জানেন যে একটি রিলের সাথে শিরকি গান যুক্ত আছে, তখন সেটিকে দেখা বা শোনা থেকে বিরত থাকা আপনার কর্তব্য।
সিদ্ধান্ত:
আপনার উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, শিরকি গান সমৃদ্ধ রিল দেখা বা শোনা উভয়ই পরিহার করা আবশ্যক। এটি আপনার ঈমানের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য।
রেফারেন্স:
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
"আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমাদের আয়াতসমূহ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে, তখন আপনি তাদের কাছ থেকে সরে যান, যতক্ষণ না তারা অন্য কোনো কথায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হওয়ার পর জালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না।"
(সূরা আন-নিসা, ৪:১৪০)
এই আয়াতটি যদিও আল্লাহর আয়াত নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপকারীদের সাথে বসার ব্যাপারে বলা হয়েছে, তবে এর মূল শিক্ষা হলো, এমন যেকোনো স্থানে বা অবস্থায় থাকা থেকে বিরত থাকা, যেখানে আল্লাহর সাথে শিরক করা হয় বা তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়। শিরকি গান শোনাও এই নীতির আওতায় পড়ে।
আল্লাহই ভালো জানেন।