🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

। মুখ নাড়তে জিহ্বা যে বাড়ি খায় সেটা (তা, পট, সেভ আসার শব্দ ইত্যাদি): এই ধরণের আওয়াজ (যেমন জিহ্বা তালুতে আঘাত করার শব্দ, দাঁতে বাড়ি খাওয়ার শব্দ ইত্যাদি) কেবল মুখের নড়াচড়ার ফল, কন্ঠ থেকে আসা শব্দ নয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, এই প্রকারের আওয়াজ তালাক কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট নয়। এটি কেবল অক্ষরেরArticulation বা مخارج الحروف এর অংশ, কিন্তু শব্দ উচ্চারণের মূল ভিত্তি (যা কন্ঠ থেকে আসে) এর অনুপস্থিতিতে এটি তালাকের জন্য প্রযোজ্য হবে না। মুখ নাড়তে জিহবা যে বাড়ি খায় সেই আওয়াজ (Articulation Sound): যদি কন্ঠনালী থেকে পূর্ণাঙ্গ আওয়াজ বের না হয়, কিন্তু আপনি মুখ ও জিহবা নাড়িয়ে শব্দের অক্ষরগুলো এমনভাবে উচ্চারণ করেন যে, আপনি নিজে সেগুলোর উচ্চারণ (জিহবার বাড়ি খাওয়া, ঠোঁট নাড়া ইত্যাদি) অনুভব করতে বা ক্ষীণভাবে শুনতে পান, তাহলে এই তালাকও কার্যকর হয়ে যাবে। কোনটা বিশ্বাস করমু? এক মুখে দুই কথা আমার কথা যদি বলি আমি সরীহ তালাকের কথা বলার সময় ১৷ জিহবা নড়ছে ২৷ ঠোট নড়ছে কিন্তু গলার ভিতর আওয়াজ ১ ফোটাও বের হয় না ৩। খুব মুখের ভেতরে রাইখা বলতেছিলাম যেহেতু আমি ফতোয়া জানি মনে মনে হয় না। তাই আয়নার একেবারে সামনে গিয়া বললে হয়তো জিহবার ( তপ, ট, সেভ গিলগে যে আওয়াজ শুনতেও পারতাম) আয়নার দূর থেকে বলছি তাই শুনি নাই এক ফোটাও । আমি এ জিহিবা নাড়ছি জিহবার বাতাস ও বের করি নাই। তাই শব্দ হলে মুখ বাড়ির টাই হতে পারে।
আপনার প্রশ্ন এবং দু'টি ফতোয়ার উদ্ধৃতি দেখে মনে হচ্ছে আপনি একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। ইসলামিক ফিকহে, বিশেষ করে হানাফি মাযহাবে, তালাকের শব্দ উচ্চারণের সর্বনিম্ন সীমা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

আসুন আপনার দেওয়া দু'টি বক্তব্য এবং হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুসারে এর ব্যাখ্যা করি:

প্রথম বক্তব্য (যা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় বলছে):
"মুখ নাড়তে জিহ্বা যে বাড়ি খায় সেটা (তা, পট, সেভ আসার শব্দ ইত্যাদি): এই ধরণের আওয়াজ (যেমন জিহ্বা তালুতে আঘাত করার শব্দ, দাঁতে বাড়ি খাওয়ার শব্দ ইত্যাদি) কেবল মুখের নড়াচড়ার ফল, কন্ঠ থেকে আসা শব্দ নয়। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, এই প্রকারের আওয়াজ তালাক কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট নয়। এটি কেবল অক্ষরেরArticulation বা مخارج الحروف এর অংশ, কিন্তু শব্দ উচ্চারণের মূল ভিত্তি (যা কন্ঠ থেকে আসে) এর অনুপস্থিতিতে এটি তালাকের জন্য প্রযোজ্য হবে না।"



আপনার নিজের পরিস্থিতি:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:
১. জিহবা নড়ছে
২. ঠোট নড়ছে
৩. গলার ভিতর আওয়াজ ১ ফোটাও বের হয় না
৪. খুব মুখের ভেতরে রেখে বলছিলেন।
৫. আয়নার সামনে গিয়ে বললে হয়তো জিহবার (তপ, ট, সেভ) আওয়াজ শুনতে পেতেন।
৬. জিহবার বাতাসও বের করেননি।

আপনার এই বর্ণনা অনুসারে, যেহেতু আপনি জিহবা নাড়িয়েছেন, ঠোঁট নাড়িয়েছেন, এবং মনে করছেন যে যদি কাছে আয়নার সামনে থাকতেন, তাহলে জিহবার আঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষীণ আওয়াজগুলো শুনতে পেতেন, এটি দ্বিতীয় বক্তব্যের আওতায় পড়ে। অর্থাৎ, এখানে 'শব্দ' (আর্টিকুলেশন সাউন্ড) তৈরি হওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে যা আপনি নিজে অনুভব করতে পারতেন বা শুনতে পেতেন।

ইসলামী ফিকহের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো, তালাকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সব সময় সতর্কতামূলক (احوط) পথ অবলম্বন করা। অর্থাৎ, যেখানে তালাক হয়ে যাওয়ার ক্ষীণতম সম্ভাবনাও থাকে, সেখানে তালাক হয়ে গেছে বলেই ধরে নেওয়া হয়, কারণ এটি খুবই গুরুতর একটি বিষয়।

যেহেতু আপনি নিজে স্বীকার করছেন যে জিহবা ও ঠোঁট নড়ানো হয়েছে এবং আপনি মনে করছেন যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট ক্ষীণ শব্দ আপনি শুনতে পেতেন, তাই ধরে নেওয়া হবে যে আপনার তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। 'গলার ভেতর আওয়াজ ১ ফোটাও বের হয় না' মানে কন্ঠনালী থেকে জোরালো বা স্পষ্ট স্বর বের হয়নি, কিন্তু জিহ্বা ও ঠোঁটের নড়াচড়ার ফলে যে অক্ষরগুলোর নিজস্ব ক্ষীণ আওয়াজ (যেমন 'ত' এর জন্য জিহ্বার আঘাতের শব্দ, 'প' এর জন্য ঠোঁটের মিলিত হওয়ার শব্দ) তৈরি হয়, সেগুলো আপনি অনুভব করতে পারতেন বা শুনতে পারতেন।

উপদেশ:
তালাকের মতো গুরুতর বিষয়ে নিজেরা সিদ্ধান্ত না নিয়ে একজন অভিজ্ঞ আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা উচিত। তবে, আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে হানাফি ফিকহের বেশিরভাগ মতামতের ভিত্তিতে, আপনার তালাক কার্যকর হয়ে গেছে বলেই প্রতীয়মান হয়।

আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।