🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

স্ত্রির বড় বোনের মেয়েকে কোলে বসানো হইছিল গাড়িতে সিট না থাকায় বয়স ১০ এর মত হবে এর মাজে হুরমাতে মুসাহারার মাসালা মনে আসলে তাকে আরেকজনের কোলে বসতে বলি, স্ত্রির বোনের মেয়ের সাথে কি হুরমাতে মুসাহারা হয় কিনা
উত্তর:

না, আপনার স্ত্রীর বড় বোনের মেয়েকে (আপনার শ্যালিকার মেয়েকে, যা আপনার স্ত্রীর ভাগ্নি) কোলে বসানোর কারণে 'হুরমাতে মুসাহারা' (বিয়ে হারাম হওয়ার সম্পর্ক) তৈরি হবে না এবং এর কারণে আপনার বিবাহ বন্ধন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

ব্যাখ্যা:

হুরমাতে মুসাহারা সৃষ্টির জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভঙ্গকারী হুরমাতে মুসাহারা সাধারণত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে হয়ে থাকে:

1. শ্বাশুড়ির সাথে: স্ত্রীর মায়ের সাথে সহবাস, বা কামভাব সহকারে স্পর্শ/চুম্বন করলে।
2. পুত্রবধূর সাথে: পুত্রবধূর সাথে সহবাস, বা কামভাব সহকারে স্পর্শ/চুম্বন করলে।
3. সৎ মায়ের সাথে: পিতার স্ত্রীর (সৎ মায়ের) সাথে সহবাস, বা কামভাব সহকারে স্পর্শ/চুম্বন করলে।
4. নিজের মেয়ে/ছেলের মেয়ে (নাতনি) এর সাথে: (এটি সরাসরি হুরমাতে মুসাহারা নয়, বরং রক্ত সম্পর্কীয়)।

আপনার স্ত্রীর বোনের মেয়ে (ভাগ্নি/সালেকা) আপনার জন্য 'মাহরাম' (যাদের সাথে বিয়ে হারাম)। অর্থাৎ, যতক্ষণ আপনি তার খালাকে (আপনার স্ত্রীকে) বিয়ে করে আছেন, ততক্ষণ আপনি তার ভাগ্নিকে বিয়ে করতে পারবেন না (একই সময়ে দুই বোনকে বা খালা-ভাগ্নিকে বিয়ে করা হারাম)। তবে, তার ভাগ্নিকে কোলে বসালে বা স্পর্শ করলে, এমনকি কামভাব সহকারে স্পর্শ করলেও, তা আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার বিবাহ বন্ধনকে বাতিল করে না। এটি একটি গোনাহের কাজ হতে পারে (যদি কামভাব সহকারে হয়), কিন্তু এর দ্বারা বর্তমান বিবাহ হারাম হয় না।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে, যেহেতু গাড়িতে সিট না থাকার কারণে সাময়িক সুবিধার জন্য কোলে বসানো হয়েছিল এবং আপনার মনে কামভাব ছিল না, তাই হুরমাতে মুসাহারা হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। উপরন্তু, তার বয়স ১০ বছর হওয়ায় এবং আপনি সতর্ক হওয়ার সাথে সাথেই তাকে অন্যের কোলে বসিয়ে দেওয়ায়, এখানে কোনো শরয়ী নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

সারসংক্ষেপ:

স্ত্রীর বোনের মেয়ের সাথে 'হুরমাতে মুসাহারা' (যা আপনার স্ত্রীর সাথে আপনার বিবাহকে বাতিল করবে) তৈরি হয় না। আপনার এই কার্যক্রমে আপনার বিবাহ বন্ধন অক্ষুণ্ণ আছে এবং এর দ্বারা কোনো সমস্যা হয়নি। আপনার সতর্কতা প্রশংসনীয়।

রেফারেন্স:



আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।