নিয়ত ছাড়া সরীহ শব্দ বললে। মনে মনে বলতে গিয়ে হালকা আওয়াজ হয়ে গেলে। উদ্দেশ্য থাকে স্ত্রীর সামনে তো বলতে পারবে না ভয়ংকর কথা তাই আয়নার সামনে বলছে। হালকা আওয়াজ জিহবার বাড়ির শব্দ শুনে গেছে৷ তালাক হবে কিনা।
২৷ ২য় প্রশ্ন সামনা সামনি কোন মানুষ যদি কল্পনা কইরা এভাবে ওরে বুঝানোর জন্য বলে সরীহ শব্দ যে এভাবে বললে তালাক হয় না৷ ওরে বুঝায় শুধু সেটাও মনে মনে হালকা আওয়াজ হইতেও পারে নাও পারে তালাক হবে কিনা
সংক্ষিপ্ত উত্তর (হানাফি, ifatwa.info অনুযায়ী সারসংক্ষেপ) — এক রেফারেন্সসহ:
সিদ্ধান্তের মূল কথা:
- "তালাক" বলার শর্ত হল স্বামী যে lafz (কথা) উচ্চারণ করে সেটার অর্থ স্পষ্টভাবে তালাক বোঝায় এবং সেটি স্ত্রীর সামনে ঠিকঠাকভাবে উদ্দেশ্য করে বলা হয় বা স্ত্রী তা শুনে বোধ করে। শুধুমাত্র মনে-ਮনে ভাবা বা মৃদু ভিতরের কণ্ঠে বলায় (যদি স্ত্রী শুনে না) তা তালাক নয়। (হানাফি)
- যদি যে কথা বলা হচ্ছে তা আসলে "তালাক" বোঝানো না করে — যেমন জনসাধারণের কুরুচিপূর্ণ বা সরীহ যৌনশব্দ — তা দিয়ে তালাক হবে না। শুধুমাত্র তালাক বুঝায় এমন lafz হলে বিবেচনা করতে হবে। (হানাফি)
আপনার দুইটি পরিস্থিতির প্রয়োগ:
1) আয়নার সামনে মনে করে বা বলতে বলতে হালকা আওয়াজ হলে —
- যদি আপনি মূলত তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে বলেন এবং সেই lafz স্পষ্টভাবে তালাক বোঝায় এবং স্ত্রী শুনেছেন বা উদ্দেশ্যভাৱে স্ত্রীকে সম্বোধন করছিল — তখন তা তালাক হতে পারে।
- কিন্তু আপনি তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না রেখে কেবল ব্যক্তিগত ভাববার সময় বা অশোভন কথা বলছেন (যা তালাকের lafz নহে) এবং স্ত্রী শুনেননি/বোঝেননি — তখন তালাক হবে না।
2) সামনাসামনি অন্য কাউকে বোঝানোর জন্য হালকাভাবে বা ইঙ্গিত হিসেবে সরীহ lafz বলা —
- যদি ইঙ্গিতই ছিল তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য না, এবং কথা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি বা স্ত্রী তা শুনে তালাক হিসেবে বোঝেনি — তালাক নয়।
- কিন্তু যদি সেই কথাগুলো স্ত্রীর কাছে পৌঁছে এবং সে তা তালাক হিসেবে ধরে, অথবা আপনি স্পষ্টভাবে তালাক বুঝায় এমন lafz ব্যবহার করেন — তাহলে হানাফি ব্যবস্থায় তা কার্যকর হতে পারে।
সংক্ষিপ্ত পরামর্শ: সন্দেহ থাকলে দ্রুত নিকটস্থ হানাফি মুফতিকে ব্যক্তিগত বিবরণ জানিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, কারণ কথার নির্দিষ্ট lafz, উদ্দেশ্য এবং শ্রোতা (স্ত্রী শুনেছিলেন কিনা) বিচারে নির্ণায়ক।
রেফারেন্স (হানাফি): Radd al-Muhtar (Hashiyat Ibn Abidin), Kitab al-Nikah — শর্ত: lafz-এর স্বতন্ত্রতা, উদ্দেশ্য ও শ্রোতার ওপর তালাক নির্ভর করে (হানাফি সিদ্ধান্তের ক্লাসিক ব্যাখ্যা)।