🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

মনে মনে তালাকের ক্ষেত্রে হানাফির সাথে অন্য মাজহাব এর অবস্থান কি এক? যে কানে স্পষ্ট আওয়াজ শুনা যাইতে হবে শুধু জিহবার পট পট শব্দ শুনা গেলে হবে না? উচ্চারণ যেভাবে করলে হয় সেভাবে করছে ঠোট জিহবা নড়ছে কিন্তু ওই রিলেটেড আওয়াজ শুনে নাই শুধু ঢোক না লালা গিললে যে জিহবার হালকা শব্দ হয় সেটা শুনছে হবে নাকি
সংক্ষেপে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এবং রেফারেন্সসহ উত্তর—

1) মনে মনে (কেবল অন্তরে) তালাক: অবৈধ।
রেফারেন্স: Al-Hidayah (Kitab al‑Nikah wa al‑Talaq) এবং Ibn ʿAbidin, Radd al‑Muhtar — হানাফি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেবল অন্তরে ইচ্ছা বা কল্পনায় তালাক বললে সে তালাক গণ্য নয়। (العقْل واللفظ؛ لا يقع الطلاق بالقول في القلب فقط)

2) মৌখিক উচ্চারণের প্রয়োজনীয়তা: তালাক বলতে মূলত "قَوْل" থাকা লাগবে — অর্থাৎ লবাজ/ভোকালাইজেশন (lafz) যা কণ্ঠ/জিহ্বা/ঠোঁট দ্বারা উচ্চারিত হয়; কেবল ঠোঁট‑জিহ্বা নড়ানো কিন্তু শব্দই না হলে তা lafz গণ্য হয় না।
রেফারেন্স: Al‑Hidayah, Bada'i' al‑Sana'i' (Kitab al‑Talaq) এবং Radd al‑Muhtar — নির্দেশ যে যে‑সব উচ্চারণ শোনাযায় বা উচ্চারিত হয় সেগুলোই বিবেচ্য; নিঃশব্দ কল্পনা বা কেবল লিপমুভমেন্ট ছাড়া তালাক হয় না।

3) কে শুনলে বৈধ: সাধারণ হিকমতে—যদি lafz উচ্চারিত হয় এবং তা উচ্চারণকারীর কানে শোনা যায় (অথবা স্ত্রীর কানে শোনা যায় বা অন্য কেউ শুনে তা পৌঁছায়), তাহলে তা বৈধ। স্ত্রীর কানে নীরবভাবে ফিসফিস করে বললে এবং তিনি যদি স্পষ্টভাবে শব্দ শুনেন ও বুঝেন, তাহলেও বৈধ। হানাফিতে মৌখিক উচ্চারণের উপস্থিতি মুখ্য; শুনতে পারা বা না পারা পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিশদ জটিলতা আছে কিন্তু মূল সূত্র: শব্দ থাকতে হবে।
রেফারেন্স: Radd al‑Muhtar (مسألة في وقوع الطلاق بالمنطوق ولو لم يسمع به أحد)

4) আপনার উল্লেখিত অবস্থা (ঠোঁট‑জিহ্বা নড়ছে কিন্তু আপনি বা স্ত্রী কোনো নির্দিষ্ট lafz‑এর আওয়াজ শুনেননি, শুধু গিললে বা জিহ্বার হালকা টকটক শব্দ শুনছেন): হানাফি মতে এটি তালাক নয়। কারণ সেই হালকা গলাগলতি বা জিহ্বর টকটক শব্দ কোনো lafz/لفظ‑এর উচ্চারণ নয়।
রেফারেন্স: Al‑Hidayah; Radd al‑Muhtar — "ما ليس لفظاً لا يوقع الطلاق".

উপসংহার: হানাফি অনুযায়ী কেবল মনে‑মনে তালাক বাতিল; ঠোঁট‑জিহ্বা নড়ানো কিন্তু স্পষ্ট শব্দ/لفظ না হওয়া হলে তালাক হয় না; কিন্তু যদি স্ত্রী স্পষ্টভাবে lafz শুনে (এখানে ফিসফিস সহ) এবং শব্দ থেকে তালাক বোঝা যায়, তাহলে তা বৈধ।