আমার একজন নিকট আত্মীয় মহিলা ঘুষ দিয়ে উনার চাকরি হয়েছিল, এখন উনি যে বেতনটা পান ওটা কি হালাল ? উনি যদি ওনার বেতনের টাকা থেকে আমাকে কিছু গিফট দেন সেটা কি নেওয়া যাবে?
সংক্ষেপে হানাফি মাযহাবানুযায়ী তফসিলে উত্তর (ifatwa.info-এর ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে):
1) চাকরি পেতে ঘুষ (رشوة) দিলে বেতন হালাল কি না?
- যদি ওই পদটি সরকারী বা জনগণের সম্পদ থেকে বেতন পাওয়া যায় (অর্থাৎ সরকারি চাকরি বা জনসেবার পদ) এবং পদটি ঘুষের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে দখল করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অবস্থায় যে বেতন সরকারি খাত থেকে দেয়া হচ্ছে তা দায়মুকতভাবে “বেগোনাহ” নয় — বরং জনগণের (বা রাষ্ট্র/খাজনা) অধিকার থেকে অনুচিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে; এ প্রকার বেতন হারাম/বাগদার ও দখলকৃত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ফিরিয়ে দেয়া উচিত। (হানাফী কিতাবাতে রিশওয়াহ/ঘুষকে নিন্দিত করা হয়েছে; রাদ্দ্ ইল-মুঁহতর/হিদায়াহে এই ধরনের অবৈধ লাভের ব্যাপারে আলোচনা আছে।)
- যদি চাকরিটি একেবারেই ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে হয় এবং বেতন মালিকের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে প্রতিদান স্বরূপ দিচ্ছে, তাহলে সাধারণভাবে যে পেশাগত কাজটি সঠিকভাবে হয়েছে তার মজুরি (ইয়াজরা) হালাল গণ্য করা হয়। কিন্তু চাকরি লাভের জন্য ঘুষ দেয়া/নেওয়া উভয়কেই শাস্তিযোগ্য ও গুনাহ মনে করা হবে — ঘুষটি ফেরত দেয়া বা তাওবা করা উত্তম। (হিদায়াহ ও রাদ্দ্ ইল-মুঁহতর ইত্যাদিতে مزدুরি ও অধিকার সম্পর্কিত এই নীতি পাওয়া যায়।)
2) উনি যদি বেতনের টাকাটা থেকে আপনাকে উপহার (gift) দেন, আপনি সেটা নিতে পারবেন?
- যদি আপনার আত্মীয়ার বেতন নিজে স্পষ্টভাবে হালাল হয় (উপরের দ্বিতীয় অবস্থার মতো — ব্যক্তিগত সংস্থার সৎসংগত মজুরি), তাহলে তিনি আপনাকে যে উপহার দেন তা গ্রহণ করা যায়। (হানাফী মাশায়েখ বলে যে হালাল সম্পদ থেকে গিফট গ্রহণে কোনো সমস্যা নেই।)
- কিন্তু যদি বেতনটি সরকারি/জনগণের সম্পদ থেকে অনৈতিকভাবে পাওয়া এবং সেই বেতন হারাম বা দখলকৃত বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তার দেওয়া টাকা আপনি নেওয়া ঠিক নয় — কারণ আপনি সরাসরি হারাম থেকে লাভ নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় তিনি প্রথমে অবৈধভাবে প্রাপ্ত অংশ ফেরত দেবেন (বা রাষ্ট্র/আদার্শ মালিককে ফিরিয়ে দেবেন) এবং তাওবা করবেন; পরে যে অংশ সরাসরি হালাল হবে তা দিয়েই গিফট দিতে পারেন। (হানাফী ন্যায়শাস্ত্রে চুরি/দখলকৃত সম্পদের উপহার গ্রহণ হারাম হিসেবে বিবেচিত।)
প্রাসঙ্গিক আমলি সূত্র ও হানাফি রেফারেন্স (সারে):
- Al-Hidayah (Imam al-Marghinani) — মজুরি, অধিকার ও অনৈতিক উপার্জন সম্পর্কে اصول।
- Radd al-Muhtar (Ibn Abidin) — রিশওয়াহ/ঘুষ ও অবৈধ আয় সম্পর্কিত ফতওয়া ও ব্যাখ্যা।
- Hadith: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুষকে নিন্দা করেছেন — “لعن الله الراشي والمرتشي” (এটি তিরমিযী ও ইবনে মাযাহতে মেউসানো)। এ থেকে ঘুষ গ্রহন/দেয়াকে নিন্দিত বিবেচনা করা হয়।
সংক্ষেপে কার্যকরী নীতিসমূহ (অ্যাকশন পয়েন্টস):
- যদি সেটা সরকারি/জনকীয় হিসেব से প্রাপ্ত বেতন বলে সন্দেহ থাকে — আপনার আত্মীয়াকে উৎসাহ দিন তা যাচাই করে ফেরত দেওয়ার/সরকারকে জানাতে ও তাওবা করতে। এমন আয় থেকে আপনি উপহার গ্রহণ করবেন না।
- যদি সেটা ব্যক্তিগত মজুরি এবং কাজের বিনিময়ে উপার্জিত হালাল অর্থ হয়, তবে গিফট গ্রহণ করা যায়; তথাপি ঘুষ দেয়ার গুনাহ সম্পর্কে তাঁকে সতর্ক করে তাওবা করাতে উৎসাহ দিন।
প্রয়োজনে আমি ifatwa.info-এ থাকা নির্দিষ্ট আর্টিকেল/ফাতাওয়ার অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে আরও নির্দিষ্ট উৎস দেবেন — বলুন আপনি কি সাইটটির কোন নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা উদ্ধৃত দেখতে চান।