🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

পর্দার বিধান কবে নাজিল হয়েছিল ? উহুদের যুদ্ধে নুসাইবা বিনতে কাব রা. নবিজি স. কে রক্ষা করেছিলেন, তিনি কি তখন পর্দার সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন ? পর্দার বিধান কি উহুদের যুদ্ধের আগে নাজিল হয়েছে নাকি পরে ?
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী) — রেফারেন্সসহ:

1) পর্দার বিধান কী সময়ে নাযিল হয়েছিল?
- কোরআনের যে আয়াতগুলো পর্দা/খিমার ও স্ত্রীর আচার-ব্যবহার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়—বিশেষত সূরা আল-নূর (24:31) ও সূরা আল-Ahzab (33:59)—সেগুলো মাদকান (মদিনায়) নাযিল হয়েছে। (তাফসীরের প্রতিষ্ঠিত বয়ান: Ibn Kathir, Qurtubi ইত্যাদি)। হানাফী উলেমা এই আয়াতগুলোকেই পর্দার উৎস হিসাবে গ্রহণ করে এবং এ নির্দেশ মদিনার জীবনের প্রেক্ষিতে আরোপিত বলে ধরে।
রেফারেন্স: কোরআন 24:31; 33:59। (তাফসীরে দেখুন: Ibn Kathir, Tafsir al-Qurtubi)।
ফিকহি রেফারেন্স (হানাফী): al-Kasani, Bada'i' al-Sana'i (শুমারায়াত-ইলমে-নিসা/পর্দা সম্পর্কিত আরবী আলোচনা); Al-Hidayah (Sharh al-Marghinani) ও Hashiyat Ibn Abidin (Radd al-Muhtar) এ বিষয়টি নিয়ে ফিকহি উক্তি আছে।

2) উহুদের যুদ্ধে নুসাইবা বিনতে কাব (রাঃ) নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসলামকে রক্ষা করেছিলেন; তিনি কি তখন পর্দা (খিমার/জিলবাব) পরে যুদ্ধ করেছেন?
- ইতিহাসি রোয়ায়াত (সীরাহ ও আথার) অনুযায়ী নুসাইবা (উম্মু আমারা) উহুদে সক্রিয়ভাবে নবীকে রক্ষা করে লড়াই করেছিলেন এবং আহতও হন (যিসমে বহু রিউয়ায়াত মাওজুদ)। ঐ সূত্রগুলো সাধারণত বলেন যে তিনি তত্কালীন সময়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ লড়াই করেছিলেন; কিন্তু ঐ সময়টাতে পর্দার আজানের বিস্তারিত রূপ (যেমন আজকের মত আবরণে নির্দিষ্ট সীমা) সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগিত ছিল কি না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। তদুপরি, যুদ্ধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে নারীকে শর্টকাট/বহিরঙ্গ বস্ত্র সরিয়ে ফেলা, নড়াচড়া-অবাধতা অর্জন করা—এগুলো ফিকহে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। অতএব হানাফী মতে নুসাইবা উহুদে যেভাবে লড়েছেন তাতে কোনো মৌলিক শরীয়তী নিষেধ থাকত না যদি তা জীবন-রক্ষা বা নবীর রক্ষা করার জন্য জরুরি ছিল।
রেফারেন্স: বুধরানী/সীরাহ ও আথারে নুসাইবার বর্ণনা (Ibn Saʿd, al-Tabari ইত্যাদি সংহিতায়); হানাফী ফিকহে জরুরি অবস্থায় পর্দা সম্পর্কে আলোচনা: Radd al-Muhtar (Ibn ʿAbidin) ও Al-Hidayah (Sharh al-Marghinani) — যেখানে বলা হয়েছে জরুরিতে নারী তার উর্ধ্ববস্ত্র/জিলবাব খুলতে পারে যদি জীবন/নাযাতের জন্য প্রয়োজন হয়। (দেখুন Hashiyat Ibn Abidin ১/অংশ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়; Al-Hidayah, Kitab al-Nikah/Kitab al-Adab al-Nisa' ইত্যাদি আলোচনা)।

3) সার্বিকভাবে: পর্দার বিধান উহুদের যুদ্ধের আগে নাকি পরে নাজিল হয়েছিল?
- হানাফী ধারার সাধারণ বিবেচনা ও তাফসীরী সূত্র মিলে বলেঃ পর্দার আদেশ (যেমন 24:31, 33:59) মূলত মদিনার সময়ে (হিজরতের পর) নাযিল হয়; অধিকাংশ ঐতিহাসিক ও mufassir-রা এসব আয়াতকে উহুদের যুদ্ধের পরের (বা অন্তত উহুদের পরবর্তী মদিনা পর্যায়ের) ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে রাখে। এ অনুযায়ী বলা যায় যে উহুদে আত্মীয়/মহিলা যুদ্ধ অংশগ্রহণের সময়ে পর্দার আজকের বিস্তৃত বিধান সম্পূর্ণরূপে বিধিমোদে প্রয়োগিত ছিল না বা যে রকমভাবে পরে বিস্তারিত নির্ধারিত হল তা পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পুনরায় জোর দিয়ে বলি — যুদ্ধের মতো জরুরি অবস্থা সবসময়েই আলাদা বিবেচ্য; হানাফী কিতাবাদিতে জরুরি প্রয়োজনে নারীর পাড়া/বহিরঙ্গ খুলে ফেলা বৈধ বলে দেখানো হয়েছে।
রেফারেন্স: Tafsir al-Qur'an (Ibn Kathir, Qurtubi) — আয়াতগুলোর নাযিলের স্থান ও সময়; হানাফী ফিকহি গ্রন্থ Al-Kasani (Bada'i' al-Sana'i), Al-Hidayah (Marghinani) ও Hashiyat Ibn ʿAbidin (Radd al-Muhtar) — জরুরি অবস্থায় পর্দা সম্পর্কিত পলিসি ও অনুমতি।

সংক্ষিপ্ত নোটস:
- মূল ঈমানদায়ক সূত্র: কোরআন (24:31; 33:59) এবং সীরাহ/হাদীস রিওয়ায়াত।
- হানাফী ফিকহে সার্বিক নিয়ম: পর্দা মুমিন নারীর জন্য ফরয (মুখ্যভাবে মদীনায় আরোপিত) কিন্তু জীবন-রক্ষা/জঙ্গি-জরুরিতে পর্দা খুলে নেওয়া বা কার্যক্ষম হতে নানা সুবিধা গ্রহণ করা শারীয়তসম্মত অতিদরকারে বৈধ। (Al-Hidayah; Bada'i' al-Sana'i; Radd al-Muhtar)।

আপনি চান আমি নির্দিষ্ট হানাফী গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি/পাতা নম্বরসহ আরও বিস্তারিত প্রমাণ-রেফারেন্স দেব?