🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

১.কোন স্ত্রী যদি বলে যদি কোনদিন জানি তুমি অন্য মেয়ের সাথে কথা বলছ তখন ভালোবাসা সব চলে যাবে এমনিতে তুমার বউ হিসেবে থাকব।তহ স্ত্রী যদি মনে মনে এটা বুঝায় ছেড়ে যাবে না বা ছেড়ে দিবে না স্বামীকে সংসার করে যাবে শুধু ভালোবাাসবে না আগের মত।স্বামী যদি এরপর নিয়ত ছাড়া বলে থাকতে হবে না তুমার চলে যাও অথবা যদি বলে থাকতে হবে না তুমার বিয়ে করে ফেল , নিয়ত ছাড়া বললে কি কোন তালাক হয়? 2.কোন স্ত্রী যদি বলে কোনদিন যদি জানি তুমি অন্য জনের সাথে রিলেশন করছ তাহলে ভালোবাসা সব চলে যাবে, এমনিতে তুমার বউ হিসেবে থাকব ছেড়ে দিব না তুমাকে।তহ স্বামী যদি এরপর নিয়ত ছাড়া বলে থাকতে হবে না তুমার চলে যাও অথবা যদি বলে থাকতে হবে না চলে যাও আরেকটা বিয়ে করে নিও নিয়ত ছাড়া বললে কি কোন তালাক হয়?
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফি মাযহাব, সূত্রসহ):

১) স্ত্রী যখন বলে — “যদি কোনোদিন জানি তুমি অন্য মেয়ের সাথে কথা বলছ, তাহলে ভালোবাসা সব চলে যাবে; তবু তোমার বউ হিচেবে থাকব” — এ কথা কোনো তালাক নয়। স্ত্রী নিজে এভাবে বললে বিয়ের শর্ত/ইচ্ছা বদলে যায় না; তালাক দিতে পারার ক্ষমতা স্বামীরই। (দেখুন: Al-Hidayah — Kitab al-Talaq; Radd al-Muhtar — Ibn Abidin, Sharh al-Hidayah)

২) স্বামী যদি উত্তর দেয়: “নিয়ত ছাড়া থাকবে না, চলে যাও” অথবা “থাবতে হবে না, চলে যাও, আমি আরেকটা বিয়ে করে নেব” — এর বৈধতা কথার ধরন ও প্রসঙ্গে নির্ভর করে:

- সাধারণ নির্দেশনা/কথা বলা (“চলে যাও”, “তোমাকে থাকতে হবে না”) — এই ধরনের আদেশ বা হুমকি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক নয়, যদি স্পষ্টভাবে তালাকার্থক lafz (যেমন “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”, “তুমি তালাকপ্রাপ্ত” ইত্যাদি) বলা না হয়। (Al-Hidayah; Radd al-Muhtar)

- যদি স্বামী স্পষ্টভাবে talaq বলেই দেয় (উদাহরণ: “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”, “তুমি আমার স্ত্রী নও”) — তাহলে talaq কার্যকর হয়; স্বামীর হৃদয়ে ইচ্ছা (niyyah) থাকা প্রয়োজন নয় যদি শব্দটি স্পষ্ট ও সাধারণ অর্থে talaq-প্রকাশকারী হয়। অর্থাৎ স্পষ্ট lafz-এ তালাক বলে দিলে তা হয়, মনের নিয্যত অনিবার্য শর্ত নয়। (Radd al-Muhtar; Hashiyah Ibn Abidin)

- যে কথাগুলো শর্তবোধকভাবে বলা হয় (conditional talaq) — যেমন “যদি তুমি X করো, তবে আমি তোমাকে তালাক দেব” — হানাফি মতে শর্ত ঘটলে talaq বাস্তবায়িত হয় (মানে শর্ত সার্থক হলে তালাক প্রযোজ্য)। তাই কোনো হুমকি/শর্ত যদি তালাকের ভাষায় করা হয়, পরে শর্ত পূরণ হলে talaq হয়ে যেতে পারে। (Al-Hidayah — Kitab al-Shurut wa-l-Ahkam; Radd al-Muhtar)

- “আমি আরেকটা বিয়ে করে নেব” বলাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক নয়; কিন্তু যদি কথার মর্মে তিনি “আমি তোমাকে তালাক দিয়ে অন্যকে বিবাহ করে নেব” এমন স্পষ্টতা থাকে, কিংবা পরে তিনি অন্যকে বিবাহ করে ফেলে তখন প্রথম স্ত্রীর উপর সে বিবাহের শর্ত (বর্তমান স্ত্রীর বিরুদ্ধে তালাক ছিল কি না, ইত্যাদি) বিবেচ্য হবে। স্বামী একজন অন্যায় বিবাহ করে ফেললে তা শarria বিধি অনুসারে বিপজ্জনক ও গর্হিত; কিন্তু কেবল বললেই তালাক নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘটে না যদি তালাকের লফ্জ ব্যবহার না করা হয়। (Radd al-Muhtar; Fatawa al-‘Alamgiriyya)

- রসিকতা/মজাক বা অপ্রতিস্পষ্ট বাক্যের ব্যাপারে: যদি শব্দগুলো স্পষ্টভাবে মজার প্রসঙ্গে বলা হয় এবং তালাকার্থক কোনো বাস্তব ইঙ্গিত না থাকে, অনেক হানাফি উস্তাদ বলেন সে ক্ষেত্রে Talaq গণ্য হবে না; কিন্তু সাধারণত ভাষার যথার্থতা ও প্রসঙ্গ বিচার করা হয় — যদি বাক্য বাহ্যিকভাবে তালাকের মতো অর্থ বহন করে, তা কার্যকর ধরা হয়। (Ibn Abidin — Radd al-Muhtar)

সুত্র (হানাফি মহরুম গ্রন্থ): Al-Hidayah (Kitab al-Talaq), Radd al-Muhtar (Ibn Abidin) — Hashiyah ‘ala Al-Hidayah; Fatawa al-‘Alamgiriyya (Fatawa-i ‘Alamgiriyya). অনলাইন হানাদী ব্যাখ্যার জন্য ifatwa.info-এ তালাক সম্পর্কিত ফতোয়া ও ব্যাখ্যা দেখুন (ifatwa.info — বিভাগ: Talaq / Nikah)।