কেউ যদি সবসময় হুরমতে মুসাহারাত নিয়ে ভয়ে থাকে।সহবাসের উদ্দেশ্য স্পর্শ করা ছাড়া এমনিতে বাসে বা গাড়িতে যাওয়া অবস্হায় কোন মহিলা বাবা বা ছেলেকে স্পর্শ থাকা অবস্থায় কল্পনায় যদি খারাপ কিছু আসে কিন্তু মন থেকে এসব চায় না এমনিতে চোখের সামনে ভাসে মত খারাপ কল্পনা আসলে,মনে মনে না না করলেও চোখে এমন ভাসলে খারাপ কিছু। তহ তখন যদি ভয়ে বুক কেঁপে উঠলে তাহলে কি হুরমতে মুসাহারাত হয়? বা তখন যদি মনে আসে বুক কি কাপতেছে কিনা চেক করতে করতে ভয়ে যেমন কেপে উঠে তেমন কাপলে কিন্তু সহবাসের চিন্তা করলে যে কাপে এমন না হলে বুক কাপটা তাহলে কি হুরমতে মুসাহারাত হয়?আর বুক কাপতেছে কিনা চেক করতেছে তখম যদি কল্পনায় ওসব না থাকে শুধু বুক কাপতেছে কিনা সেটা থাকে তাহলে কি কোন সমস্যা হয়?মানে কিছু জিনিস কল্পনা না করতে চায়লেও মনে মনে না না করলেও চোখের সামনে ভেসে উঠা এটা কি কামভাব? আর তখন ভয়ে বুক কাপলে কি কোন সমস্যা হয়?
সংক্ষেপে হানাফী-মাতাহিবের ফিকহানুযায়ী উত্তর (রেফারেন্সসহ):
1) অনিচ্ছাকৃত খারাপ বা ইরটিক কল্পনা (waswasa/khayāl) — শয়তানের এসে যাওয়া — যদি মন থেকে তা চাই না, তা স্বেচ্ছায় অনুধাবন বা উপভোগ না করা হয়, তাহলে তা বাধ্যতামূলকভাবে গোনাহ বা কোনো ধর্মীয় অবস্থা পরিবর্তন করে না। হানাফী উলামা অনিচ্ছাকৃত ভাবনা, আকস্মিক ফ্যান্টাসি বা চোখের সামনে ভাসা ছবিকে দোষী জানেন না যদি মানুষ সেগুলোকে শত্রুভাবে না স্থায়ী করে বা বোঝাপড়ার সাথে না ধরে (ইচ্ছাপূর্বক চিন্তা না করে)। (দেখুন: Al-Hidayah — Sharh Bidayat al-Mubtadi, kitāb al-ṭahārah; এবং Radd al-Muhtar (Ibn ʿAbidin) উপর আলোচনা waswās ও অনিচ্ছাকৃত ভাবনার বিষয়ে।)
2) স্পর্শ ও উদ্দেশ্যগত ইচ্ছা — বাস/গাড়িতে দৈনন্দিনভাবে অপ্রণোদিতভাবে লাগানো বা আঘাত সীমাহীনভাবে হলে (অজান্তে, উদ্দেশ্য ছাড়া) সেটি শারীয়ভাবে “সহবাসের/শারীরিক মিলনের” সমপর্যায়ে ধরা হবে না। হানাফী মতে কেবল স্পর্শই যদি ঘটে এবং স্পর্শের ফলে কোনও শারীরিক সন্তোষ/উদ্দীপনা দ্বারা বীর্যস্খলন না ঘটে, তা غسل দাবি করে না; তবু যদি স্পর্শ ইচ্ছা-পূর্ণ (lustful intent) হয়, তাহলে তা তার নিজের দিক থেকে গুনাহ (harām) — কিন্তু স্বয়ংকার্য হিসেবে غسل অবশ্যক করে না যতক্ষণ পর্যন্ত ejaculatory discharge/penetration না ঘটে। (দেখুন: Al-Hidayah, Kitāb al-ṭahārah; Radd al-Muhtar — أحكام الاغتسال ولماذا يكون واجباً)
3) ভয়ে বুক কাপানো বা কপাল ধরা — ভয়, অ্যাংজাইটি বা শারীরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে বুক কেঁপে ওঠা বা নিজের পালস/শ্বাস পরীক্ষা করা কোনোভাবে কামপ্রবৃত্তি/খামভাব (sexual intention) হিসেবে গণ্য হবে না যদি সে সময় মন থেকে ইচ্ছা বা কামনা না থাকে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র আতঙ্কজনিত শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা আতঙ্কসচেতনতা হুবহু গোনাহ বা ধর্মীয় অবস্থা পরিবর্তন করে না। (রেফ.: হানাফী فقہে নীতি — niyyah/irada বিষয়ে আলোকপাত, Al-Hidayah এবং Radd al-Muhtar তুলনীয়।)
4) চূড়ান্ত নিয়মগত নীতি — হানাফী ফিকহের মৌলিক কনসেপ্ট: কাজের মূল হলো ইরাদা/আপচ্ছন্দ (niyyah/irada)। কেবল চোখে ভাসা বা অন্যায় ছবি আকস্মিকভাবে আসলে, জিভে উচ্চারণ বা ইচ্ছাপূর্বক চিন্তা না করা পর্যন্ত তা দায়ী করে না। আর স্পর্শ যদি উদ্দেশ্য-সহ বা কামার্থক হয় — তা হারাম; কিন্তু শুধুমাত্র ভয়ের কারণে শারীরিক কাঁপুনি বা পরীক্ষার মত কর্মকাণ্ডকে কামাভাব হিসেবে ধরা হবে না। (রেফ.: Al-Hidayah; Radd al-Muhtar; Fatawa al-ʿAlamgirī সীমিত ব্যাখ্যা)
রেফারেন্স (হানাফী):
- Al-Hidayah (Sharh Bidayat al-Mubtadi) — Kitāb al-ṭahārah ও kitāb al-nikāḥ সম্পর্কিত পারাগ্রাফসমূহ (ইচ্ছা/স্পর্শ/غسل বিষয়ে আলোচনা)।
- Radd al-Muhtar ʿala al-Durr al-Mukhtar (Ibn ʿAbidin) — غسل, لمسات وwaswās/khayāl বিষয়ে হানাফী বিবেচনা।
- Fatawa al-ʿAlamgirī (Fatawa-i-Alamgiri) — সম্পর্কিত ফিকহি সিদ্ধান্তে সংক্ষিপ্ত আলোচনার অংশ।
(উল্লেখ: এখানে উল্লিখিত গ্রন্থগুলোতেই উপরের নীতিগুলো হানাফী প্রসঙ্গ হিসেবে বিস্তারিত পাওয়া যায়।)