আমি অনেক আগে বাথরুম এ দাড়ায়া আয়না দেইখা তোমাকে তালাক দিলাম এই কথাটা বলছি। কিন্তু ঠোট নড়ছে জিহবা নড়ছে কিন্তু কোন আওয়াজ হয় নাই, ১ ফোটা কোন রকম ও না। আমি জানি আমার আওয়াজ হয় নাই আর পরিবেশ ও নীরব ছিলো। কিন্তু অনেক দিন পর আওয়াজ ছিলো কিনা সন্দেহ হইতে থাকে তাই আমি এই শব্দ টার কাছাকাছি শব্দ টেস্ট করার উদ্দেশ্য যেমন ( ফালাক সুরা পড়লাম) এটা আয়না দেইখা বললাম আগের মতো করে এবার ও শুনি নাই। কিন্তু একবারে আয়নার কাছে গিয়া এটা বলার পর আসল ভয় শুরু হইলো আমি কোন আওয়াজ শুনি নাই কিন্তু জিহবা তালুতে বাড়ি খাইলে যে হালকা শব্দ হয় তা শুনছি কোন শব্দের আওয়াজ না৷ সাভাবিক ভাবে মুখ নাড়লে পেশির যে শব্দ হয় বা ঢোক গিলগে৷ এখন ভয় আগের টাতে তালাক হয় নাই আলেম থেকে ফতোয়া নিছি। কিন্তু সেক্ষেত্রে আগের টায় আলেম রা বলছে পরিবেশ নীরব থাকতে হবে আশে পাশে আওয়াজ থাকা যাবে না আগেও তা ছিলো। এখন নতুন কথা টেস্ট করার সময় ও তাই আছে। কিন্তু ওনারা তো শব্দ শুনার কন্ডিশন দিয়া দিছিলো যে কোন আওয়াজ না থাকলে যে শব্দ শুনতে পাই তাতে তালাক হইয়া যাবে৷ তখন তো আয়নার একেবারে কাছে গিয়া ওই শব্দ গুলা বলি নাই। তাইলে কি এটাও শর্তের মধ্যে পড়ে যে যে কোন ভাবে যে কোন ভংগিতে শব্দ শুনতে পারলেই তালাক হয়ে যেতো। আমি তো তখন এক পজিশনে ছিলাম তাই শুনি নাই। অন্য পজিশন এ থাকলে শুনতে ও পারতাম৷ তাই আগের টারে কি তালাক ধরবো? উল্লেখ ২ বার বলছি এটাই মনে আছে
সাড়ে সংক্ষেপে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া (রেফারেন্সসহ) —
1) শর্ত ও মূল নুকতা:
- তালাক হওয়ার জন্য প্রয়োজন যথার্থভাবে এমন একটি ভাষ্য (لفظ) বলা যার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের অর্থ প্রকাশ পায় এবং সেটি বাস্তবে উচ্চারণ করা হয় — শুধু ঠোট/জিহবা নেড়ে মনেই কথা বলা (যে ধরণের কোন শব্দও বের হয় না) তা যথেষ্ট নয়। (তাফসীলী ব্যাখ্যা ও উদাহরণ দেখুন: al-Hidayah; Ibn ‘Abidin, Radd al‑Muhtar)
- যদি শব্দ বের হয় এবং সেটি — যতই দুর্বল বা হালকা হোক — পরিবেশ নীরব্যতার কারণে শ্রবণযোগ্য হয়ে থাকে (আদতত স্বামী বা স্ত্রী কেউ শুনে বা শব্দ উৎপন্ন হওয়ার বাস্তবতা নিশ্চিত হয়), তাহলেই তালাক হয়ে যেতে পারে। (Radd al‑Muhtar, Kanz al‑Daqa’iq ইত্যাদি)
রেফারেন্স (হানাফি): al‑Hidayah (Kitab al‑Talaq); Ibn ‘Abidin, Radd al‑Muhtar (باب الطلاق) ; Kanz al‑Daqa’iq / Fatawa Hindiyya — যেখানে বলা আছে যে "اللِّسَانُ حَرَكَةٌ دُونَ نُطْقٍ لا يَكْفِي" (জিহবা/ঠোঁট নড়ানোর দ্বারা যদি কোন نطق না ঘটে, তা পর্যাপ্ত নয়) এবং যে শব্দ বাস্তবে শোনায় সেটি মোকতাদির (কার্যকর)।
2) আপনার পরিস্থিতির প্রয়োগ:
- আপনি বলছেন আগেরবার আয়নায় বলার সময় ঠোঁট/জিহবা নড়েছে কিন্তু "কোন আওয়াজ" হয়নি — যদি নিশ্চিতভাবে কোনো শব্দ বেরই হয়নি (আপনিও শোনেননি এবং আশপাশও নীরব ছিল), তাহলে হানাফি অনুযায়ী তালাক হয়নি। (উপরের সূত্রাবলীর আলোকে)
- পরে যখন আয়নার কাছে গিয়েই জিহবা‑তালু ঘর্ষণের হালকা অভ্যন্তরীণ আওয়াজ (অন্তর্গত অনুধ্বনি) অনুভব করলেন, কিন্তু বাস্তবে কোন বাহ্যিক উচ্চারণ/শব্দ প্রবাহিত হয়নি — সেটিও তালাক সৃষ্টি করে না। কেননা বাহ্যিকভাবে উচ্চারণ (নূطق) থাকা আবশ্যক; কেবল জিহবা‑তালু স্পর্শ বা কণ্ঠস্থল‑ভেতরে অনুভূত শব্দকে হানাফি যথাস্থানে "لفظ واقع" গণ্য করে না। (Radd al‑Muhtar ইত্যাদি)
3) যদি কসমনে দুইবার বলার কথা মনে পড়ে:
- যদি দুইবারই বাস্তবে উচ্চারণিত (শোনা/শ্রবণযোগ্য) হয়ে থাকে, তাহলে দুই তালাক গণ্য হবে; কিন্তু আপনি যদি নিশ্চিত হন যে উচ্চারণ হয়নি (শব্দ ছিল না), তাহলে দুইবার বললেও তা তালাকসম্বলিত নয়। সন্দেহ থাকলে মূলকথা: "البيان الواضح لازم" — অনুমান নয়; এবং সন্দেহের ক্ষেত্রে اصل الامر استمرار (বিবাহ অব্যাহত) ধরা হয়। (اصول: اليقين لا يزول بالشك)
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত:
- আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আগেরবার বা পরে দেখা পরীক্ষায় কোন বাহ্যিক শব্দ বের হয়নি — হানাফি মতে তালাক হয়নি।
- শুধুমাত্র ঠোঁট/জিহবা নড়ানোর বা অন্তর্গত শব্দ অনুভব করায় তালাক ঘটেনা।
(রেফারেন্স: al‑Hidayah; Ibn ‘Abidin, Radd al‑Muhtar; Kanz al‑Daqa’iq — باب الطلاق)
আর কোনো নির্দিষ্ট বিবরণ (যেমন পূর্ব কথার অডিও আছে কি না, স্ত্রী‑পক্ষ কোনোশুনেছে কি না ইত্যাদি) দিলে আরও স্পষ্টভাবে অবস্থা বিচার করে কড়া সিদ্ধান্ত দেব।