🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমি অনেক আগে বাথরুম এ দাড়ায়া আয়না দেইখা তোমাকে তালাক দিলাম এই কথাটা বলছি। কিন্তু ঠোট নড়ছে জিহবা নড়ছে কিন্তু কোন আওয়াজ হয় নাই, ১ ফোটা কোন রকম ও না। আমি জানি আমার আওয়াজ হয় নাই আর পরিবেশ ও নীরব ছিলো। কিন্তু অনেক দিন পর আওয়াজ ছিলো কিনা সন্দেহ হইতে থাকে তাই আমি এই শব্দ টার কাছাকাছি শব্দ টেস্ট করার উদ্দেশ্য যেমন ( ফালাক সুরা পড়লাম) এটা আয়না দেইখা বললাম আগের মতো করে এবার ও শুনি নাই। কিন্তু একবারে আয়নার কাছে গিয়া এটা বলার পর আসল ভয় শুরু হইলো আমি কোন আওয়াজ শুনি নাই কিন্তু জিহবা তালুতে বাড়ি খাইলে যে হালকা শব্দ হয় তা শুনছি কোন শব্দের আওয়াজ না৷ সাভাবিক ভাবে মুখ নাড়লে পেশির যে শব্দ হয় বা ঢোক গিলগে৷ এখন ভয় আগের টাতে তালাক হয় নাই আলেম থেকে ফতোয়া নিছি। কিন্তু সেক্ষেত্রে আগের টায় আলেম রা বলছে পরিবেশ নীরব থাকতে হবে আশে পাশে আওয়াজ থাকা যাবে না আগেও তা ছিলো। এখন নতুন কথা টেস্ট করার সময় ও তাই আছে। কিন্তু ওনারা তো শব্দ শুনার কন্ডিশন দিয়া দিছিলো যে কোন আওয়াজ না থাকলে যে শব্দ শুনতে পাই তাতে তালাক হইয়া যাবে৷ তখন তো আয়নার একেবারে কাছে গিয়া ওই শব্দ গুলা বলি নাই। তাইলে কি এটাও শর্তের মধ্যে পড়ে যে যে কোন ভাবে যে কোন ভংগিতে শব্দ শুনতে পারলেই তালাক হয়ে যেতো। আমি তো তখন এক পজিশনে ছিলাম তাই শুনি নাই। অন্য পজিশন এ থাকলে শুনতে ও পারতাম৷ তাই আগের টারে কি তালাক ধরবো? উল্লেখ ২ বার বলছি এটাই মনে আছে তাইলে আমরা বলতে পারি যে পরে টেস্ট করা সিচুয়েশনে আগের টা হইছে প্রমান করে না। আর যখন যেই অবস্থায় থাকি না কেন সেটাই গন্য হবে? আয়নার কাছে গেলে শব্দ শুনতে পারা টা মুখ্য না? এই রকম প্রশ্ন করছিলাম এই ওয়েবসাইট এ ওনারা ওয়াসওয়াসার প্রশ্ন কাউন্ট করছে। তাই ফাইনালি কি বলা যায় ফিসফিস / স্পষ্ট শব্দ ছারা শুধু জিহবার তালুর সাথে লাগা / ঠোট জিহবায় লেগে সেভ সরানোর আওয়াজ হলে হবে না ইনশাআল্লাহ? ফাইনালি বলি আমি তো শুনছি জিহবা বা ঠোট জিহবার বাড়ি শব্দ প্রমান করে না এটা তো ন্যাচারাল ঠোট জিহবা নাড়ালেই হবে৷ এমন হইতে পারে না যে আমি আয়না থেকে দূরে ছিলাম তাই শুনি নাই ওই রকম জিহবার আওয়াজ। আয়নার একবারে মুখের কাছে নিয়া গেলে শুনতেও পারতাম। এই যে শব্দ ৈতরির সম্ভাবনা ছিলো আগের ঘটনায় যদি সামনে যাওয়া যেতো এখন হয় নাই কারন দূরে ছিলো? এমন হইতে পারে না৷ তাই এর ভিত্তিতে তালাক ধরবে? যেহেতু অনেক দিন পর ফালাক সুরা পড়লাম এটা আয়নার সামনে মুখ দিয়া বলার সময় হাললা জিহিবার শব্দ হইছে?
ফতਵਾ (হানাফী): সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট উত্তর — যদি আপনি আয়নায় মুখ নাড়লেন কিন্তু আদৌ কোন আওয়াজ উচ্চারিত হয়নি এবং আপনাকে এই কথাগুলো (তালাক–কথা) অন্য কেউ শুনেনি, না এ শব্দ কাগজে লেখা নয়, তাহলে তা বৈধ তালাক নয়। আবার, মুখের ভেতর (জিহবা–তালু’র ঘর্ষণ) বা ঠোট–জিহবা নাড়া দিলে যে হালকা “বড়্দ” বা স্বরই বা সামান্য আওয়াজ উঠে, কিন্তু সেটি ভাষায় উচ্চৃত না হয়ে কনিষ্ঠ শব্দ-ঘর্ষণ মাত্র—তাহলে সেটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সেই আওয়াজে বাক্যগতভাবে “আমি তোমাকে তালাক দিলাম”–এর মত বোঝা যায় এবং তা শুনে নেওয়া হয়। কিন্তু যদি ফিসফিস বা আলোকস্বরেওই এমন শব্দ উচ্চারিত হয় যা স্ত্রী বা যিনি শোনেন তিনি ভাষাগতভাবে বুঝতে পারেন (অর্থাৎ কথাটি শ্রবণযোগ্য হয়), তাহলেই হানাফী শাপে তা বৈধ তালাক হবে।

শর্ত-সংক্ষেপ (হানাফী নায়কানুসারে)
- তালাকের জন্য সত্যিকারের কায়েমকরা “কথ্য” (lafz) প্রয়োজন — বা লেখা/চিহ্ন যা স্ত্রীর কাছে পৌঁছায়। (লিহাজে মৌখিক উচ্চারণ বা অন্য মাধ্যম)
- যদি কণ্ঠে উচ্চারণ না হয়, কেবল ঠোঁট বা জিহবা নড়ানো; কোনো শব্দই না বের হয় — তা বাতিল।
- যদি ফিসফিস/হামসে বলেও স্ত্রীর কানে বাক্যগতভাবে পৌঁছে ও তিনি বুঝেন — তা বৈধ।
- সন্দেহের ভিত্তিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না; সন্দেহ হলে “যকীন” (যদি আগে বিবাহ অব্যাহত ছিল) বজায় রাখবেন — আল-ইকতিয়াস “al-yaqin la yazulu bi al-shakk” এর প্রযোজ্যতা।

রেফারেন্স (হানাফী)
- Al-Hidayah (Sharh Bidayat al-Mubtadi) — Kitab al-Talaq: lafz-এর শর্ত ও শ্রবণযোগ্যতার কথা।
- Radd al-Muhtar ‘ala Durr al-Mukhtar (Ibn Abidin) — Kitab al-Nikah / Bab al-Talaq: hamas/khafiyya (ফিসফিস/নীরব উচ্চারণ)–এর ব্যাপারে ব্যাখ্যা; শুনা না গেলে তালাক বসে না, শুনলে বসে।
- Fatawa-i-Alamgiri / Al-Fatawa al-Hindiyya (দফতরীত হানাফী সংকলন) — talaq bi al-kalam/bi al-kitab/wa shurutihi-র আলোচনা।

প্রয়োগ আপনার পরিস্থিতিতে
- আপনার বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম ঘটনার সময় “কোন আওয়াজ হয়নি” এবং আশেপাশ নীরব ছিল—এই অবস্থায় হানাফী অনুযায়ী তালাক স্থাপিত হয়নি।
- পরে আয়নায় মুখ কাছাকাছি এনে জিহবা–তালু ঘষার ফলে আপনি নিজেরই ক্ষুদ্র ঘর্ষণশব্দ শুনতে পেয়েছেন — কিন্তু যদি সেই শব্দ বাক্যগতভাবে “তালাক” শব্দটি হিসেবে শ্রবণযোগ্য না হয়, সেটি তালাক নয়।
- সংক্ষেপে: কেবল ঠোঁট/জিহবা নাড়া বা মানুষের ন্যাচারাল পেশীর শব্দ থাকলেই তালাক ধরবে না; যদি ভাষাগতভাবে “তালাক” বা সমতুল্য বাক্য শ্রবণযোগ্যভাবে পৌঁছে যায় তখনই বৈধ।

আল্লাহ্‌ ইজ্জত ধরুক।